কংগ্রেসের পথ ধরেই এগিয়ে যাবে পার্টি
আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন
১৯-২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ত্রয়োদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ৬৪ জেলার ৫২৭ জন প্রতিনিধি নিয়ে ত্রয়োদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট, ঘোষণা ও কর্মসূচি, রাজনৈতিক প্রস্তাব আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেসে বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রাতৃপ্রতিম পার্টিগুলো কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছে।
কংগ্রেস পার্টির সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি কমরেড সহিদুল্লাহ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মার্কসবাদী তাত্ত্বিক কমরেড হায়দার আকবর খান রনো, কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কমরেড নূরুল হাসান, প্রসিডিয়াম সদস্য ও ক্ষেতমজুর সমিতির সাবেক সভাপতি কমরেড শামছুজ্জামান সেলিম, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড এনামুল হকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। আরও স্মরণ করছি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি কমরেড অধ্যাপক যতীন সরকার, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সম্পাদক কমরেড আজহারুল ইসলাম আরজু, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সম্পাদক ও কৃষক নেতা কমরেড বিপ্লব চাকী, পার্টির কন্ট্রোল কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কমরেড ডা. শিশির কুমার মজুমদার, কন্ট্রোল কমিশন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য শ্রমিকনেতা কমরেড লুৎফর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও কৃষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল মন্নান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য কমরেড শাহরিয়ার মো. ফিরোজ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সংগঠক কমরেড ময়নূল হক মুকুলসহ এ সময়কালে মৃত্যুবরণকারী সকল কমরেডের প্রতি শোক জানায়।
১৯ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হয়ে পরবর্তী তিনদিন ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর বিএমএ মিলনায়তনে মূল অধিবেশনসমূহ অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসে দ্বাদশ কংগ্রেস পরবর্তী সময়কালের কার্যক্রম ও তার মূল্যায়ন সম্বলিত ‘কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট (খসড়া) উত্থাপন করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পর্যালোচনা, গণঅভ্যুত্থান-উত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পার্টির তৎপরতা, পার্টি সংগঠন, গণসংগঠন ও সাব কমিটি, সাংগঠনিক কর্তব্য আলোচনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক বিষয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে বলা হয়, ট্রাম্পের বিজয়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে সামনে আসা ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের’ নীতির মতো রেসিস্ট নীতি আমেরিকা এবং ইউরোপের অভিবাসী শ্রমিকদের জীবনে এক অনিশ্চয়তা এবং হুমকির সৃষ্টি করেছে।
এ ছাড়া সাম্রাজ্যবাদের ডিপ স্টেট তত্ত্ব, এককেন্দ্রিক বিশ্ব তত্ত্ব, ডলার আধিপত্যের তত্ত্ব এবং তথাকথিত নিরাপদ পরমাণু শক্তি তত্ত্ব আজ সারা পৃথিবীকে ক্ষত-বিক্ষত করছে। একইসঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের এসব তত্ত্বের কারণে সারা দুনিয়ার শ্রমিক শ্রেণির ওপর
প্রতিনিয়ত আঘাত আসছে, যারা তত্ত্ব দিয়েছিল স্নায়ু যুদ্ধের অবসান হলে বিশ্বে আর যুদ্ধের দামামা বাজবে না। তাদেরকে ভুল প্রমাণ করে সাম্রাজ্যবাদেরই প্রত্যক্ষ মদদে আজ সিরিয়া, লেবানন, প্যালেস্টাইন, সুদানে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ-উন্মাদনা চলছে পৃথিবীর দেশে দেশে।
পাশাপাশি বলা হয়, মার্কিন ডলারের মনোপলিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ২০০৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর কিউবার বিপ্লবের মহানায়ক ফিদেল ক্যাস্ট্রো এবং ভেনিজুয়েলার বামপন্থী নেতা হুগো শ্যাভেজ ‘আলবা’ নামের এক অর্থনৈতিক জোট গড়ে তোলেন এবং ক্রমান্বয়ে এর সঙ্গে লাতিন আমেরিকার অন্যান্য বামপন্থী দেশগূলোকে যুক্ত করেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ১৯৬৯ সালে মার্কিন রাজনৈতিক কর্মী কার্ল ওগেলসবাই যে ‘গ্লোবাল সাউথের’ তত্ত্বের অবতারণা করেছিলেন। কমিউনিস্টদের ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই ‘গ্লোবাল সাউথের’ তত্ত্বই আজ এককেন্দ্রিক বিশ্বের তত্ত্বের বিপরীতে বহুকেন্দ্রীক বিশ্বব্যবস্থাকে অনিবার্য করে তুলেছে। চীনের উদ্যোগে বিআরআই, এশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক, ব্রিক্স ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি সেই বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা তথা মেহনতি জনতার বিকল্প বিশ্বব্যবস্থারই জানান দিচ্ছে।
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভুত্থান দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ কংগ্রেস ছয় মাস এগিয়ে আনা হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাক্রম পর্যালোচনা করে রিপোর্টে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ জীবন দিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ হাজারের বেশি। হাসপাতাল বা বাড়িতে অনেক আহত মানুষ অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে চার শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অনেকেই। শহীদ ও আহতদের পরিবারের আহাজারিতে বাতাস এখনো ভারী হয়ে আছে। প্রকাশিত হিসাব অনুসারে, ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়।
এই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ এবং বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শরিক হতে থাকে। ঊনসত্তর, নব্বইসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে সংগঠিত শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, এবারের অভ্যুত্থানে তা ছিল না। তবে, একেবারে শুরু থেকে না হলেও একটা পর্যায়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলনের পূর্ব থেকে প্রতক্রিয়াশীল শক্তি
পরিকল্পিতভাবে এ আন্দোলন অংশ নেয়। ছাত্র নেতৃত্বের মধ্যে গুপ্তভাবে তাদের অংশগ্রহণ ছিল। আন্দোলনে শেষ পর্যায়ে তাদের দৃশ্যমান ভূমিকা প্রকাশিত হয়।
বামপন্থী দলগলোর গণঅভ্যুত্থানের ভূমিকা নিয়ে রিপোর্টে বলা হয়, বামপন্থী দল ও শক্তিগুলো প্রচারমাধ্যমে তো নয়ই, এমনকি মাঠে-ময়দানেও সেভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারেনি। বামপন্থীদের কারও কারও মধ্যে বিভ্রান্তি ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলেও, আন্দোলনে অনেকেই বলিষ্ঠভাবে সক্রিয় ছিল। তারা মাঠে থেকেছে এবং সঠিক সময় সঠিক স্লোগানগুলো সামনে আনার চেষ্টা করেছে।
রিপোর্টে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর্যালোচনার উপসংহারে বলা হয়, একটা সাধারণ লক্ষ্যে আন্দোলন পরিচালিত হলেও, আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী, অংশগ্রহণকারী ও আন্দোলনের সুবিধাভোগীদের মধ্যে নানামাত্রিক দ্বন্দ্ব ছিল এবং এখনো আছে। এটা দিন দিন আরও প্রকাশিত হচ্ছে এবং হবে। ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অংশগ্রহণে সংগঠিত এই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাকে তার লক্ষ্য অভিমুখে অব্যাহত রাখাটা এই মুহূর্তের একটি অপরিহার্য কর্তব্য হিসেবে গণ্য করতে হবে। এই কর্তব্য পালনের গর্ভেই জন্ম দিতে হবে সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লবী প্রক্রিয়া। প্রগতি, বৈষম্যের প্রকৃত অবসান ও শোষণমুক্তির লক্ষ্যে একটি বাম, প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক বিকল্প লক্ষ্যাভিমুখী সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে।
কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টে সাংগঠনিক কর্তব্য পরিচ্ছেদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা আলোচনা করা হয়েছে। রিপোর্টে জাতীয় পরিষদকে সক্রিয় ও কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পার্টিতে পুনরায় কার্যকরভাবে সমালোচনা-আত্মসমালোচনার ধারা পুনঃপ্রবর্তন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সার্বক্ষণিকদের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পার্টির ক্যাডার নীতি প্রণয়নের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পেয়েছে রিপোর্টে। কেন্দ্রের মত বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি জেলা-উপজেলা, গণসংগঠনে সার্বক্ষণিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের জীবনমান নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। দাতানির্ভর অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি গণচাঁদা সংগ্রহের উপর জোর দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে জেলা, জেলা থেকে উপজেলা/থানা, থানা থেকে প্রতিটি শাখায় নিয়মিত যোগাযোগ, সফর এবং প্রতিটি শাখাকে সক্রিয় ও প্রত্যেক পার্টি সদস্যকে সক্রিয় করার বিষয়টি রিপোর্টে আলোচনা করা হয়েছে।
রিপোর্টে সাংগঠনিক ত্রুটি, দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে ১৭টি কর্তব্য প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টের উপসংহারে বলা হয়, দেশের রাজধানী ও বিভাগীয় শহরসহ সর্বোস্তরে জমায়েত ক্ষমতা বাড়াতে না পারলে চলমান রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা ও নেতৃত্বের ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে না। এই জন্য সব পর্যায়ে জমায়েত ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়াতে হবে। শ্রমজীবী মানুষকে ভিত্তি করে পার্টিকে সম্প্রসারিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম ও নারী সমাজকে পার্টিতে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা আরও বাড়াতে হবে। সাহস করে শ্রমজীবীসহ নারী ও তরুণদের আদর্শ ও রাজনৈতিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তুলে তাঁদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। পার্টির সবপর্যায়ে ও গণসংগঠনে সার্বক্ষণিক-কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। পার্টির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিলোপবাদী ধারার অবশেষ, বুর্জোয়া-পেটিবুর্জোয়াসুলভ প্রবণতা, কাজ না করে নেতা হওয়ার প্রবণতা, প্রদর্শনবাদ বা নিজেকে জাহির করার প্রবণতা, কাজ ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা, পার্টির শৃঙ্খলার প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া ইত্যাদির বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম করে, প্রকৃত শ্রেণিসংগ্রাম ও বিপ্লবের ধারায় কমিউনিস্ট পার্টিকে গড়ে তোলা খুবই জরুরি। পার্টির মধ্যে চিন্তার ঐক্য ও কাজের ঐক্য আরও সংহত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টের উপর ৭০ এর অধিক জন প্রতিনিধি আলোচনা করেন। প্রতিনিধিদের দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও বজায় রাখার উপর। সিংহভাগ প্রতিনিধি কংগ্রেসের প্রধান কর্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিভক্ত গণসংগঠনসমূহের ঐক্য প্রতিষ্ঠার কাজটি। ছাত্র, সংস্কৃতি, শিশু-কিশোর, গার্মেন্ট শ্রমিক, হকার, আইনজীবী সংগঠনসমূহের মধ্যে যে বিভক্তি ও মতবিরোধ বিরাজ করছে তা অবিলম্বে নিরসন করার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ কংগ্রেসে দীর্ঘদিন পর পার্টির রণনীতি ‘ঘোষণা ও কর্মসূচি’ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিলোপবাদোত্তরকালে ১৯৯৯ সালে সপ্তম কংগ্রেসে গৃহীত রণনীতি ‘সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে বিপ্লভী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সাধন করুন’ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দ্বাদশ কংগ্রেসে উপলব্ধ হয়েছিল। ত্রয়োদশ কংগ্রেসে বিকল্প পুঁজিবাদ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশের পুঁজিবাদের বিকাশ, বর্তমান উৎপাদন শক্তি-সমাবেশ নেতৃত্ব এসব বিষয় নিয়ে খসড়া ঘোষণা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড শাহীন রহমান খসড়া উত্থাপন করেন।
বিপ্লবের স্তরসহ আরও কিছু মৌলিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে রণনীতি দলিলটি ত্রয়োদশ কংগ্রেসের পর পূর্ণাঙ্গভাবে রচনা করা হবে। এর জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ খসড়াটি সারাদেশের সকল কমরেডের সামনে ব্যাখ্যা করা হবে ও তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে। দেশি-বিদেশি মার্কসবাদী বন্ধুদের সাথে আলোচনা করা হবে। ব্যাপক আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত রণনীতি হয় মধ্যবর্তী বিশেষ কংগ্রেস অথবা চতুর্দশ কংগ্রেসে গ্রহণ করা হবে। সে পর্যন্ত বর্তমান ‘ঘোষণা ও কর্মসূচি দলিলের আপডেটেড রূপটিই পার্টির ‘রণনীতি’ দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
ত্রয়োদশ কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক প্রস্তাবের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির ২০ জন সদস্য ও ৩ জন সংগঠক ভিন্নমত উত্থাপন করেন। যা ‘ভিন্নমতের পয়েন্টস’ হিসেবে কংগ্রেসে পরিচিত হয়। নানা ভিন্নতা থাকলেও দুই দলিলে গুরুত্ব পেয়েছে ‘ক্ষমতা অর্জন’ এর বিষয়টি। ক্ষমতা অর্জনের জন্য কোন পথে হাটতে হবে তা নিয়ে দুই দলিলে ভিন্নমত থাকলেও ক্ষমতা অর্জনের প্রশ্নটি দুই দলিলে সমগুরুত্ব পেয়েছে। উভয় দলিলেই ক্ষমতা অর্জনের জন্য পার্টি গড়া, ফ্রন্ট গড়া ও সর্বাত্মক লড়াই করার বিষয়টিকে প্রধান কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে রাজনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। প্রতিনিধিগণ দুই বক্তব্যের চুলচেরা আলোচনা করেন। অধিকাংশ আলোচক দুই দলিলের বক্তব্যকে ধারণ করে একটি দলিল প্রণয়নের কথা বলেন। কংগ্রেস সেই মত গ্রহণ করে এবং ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেয়, যারা দুই দলিলকে এক দলিলে রূপ দিবে।
চার দিনের কংগ্রেস নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। ত্রয়োদশ কংগ্রেস জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও গণঅভ্যুত্থান-উত্তর দেশীয় রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন রাজনীতি নির্মাণ, গরিব মেহনতি মানুষের স্বার্থে ক্ষমতা অর্জনের জন্য পার্টিকে উপযুক্ত করার কর্তব্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিকে অর্পণ করেছে। সেই সাথে পুরাতন কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি এবং উগ্রডানপন্থী শক্তির আস্ফালন প্রতিরোধ, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াইয়ের দায়িত্ব দিয়েছে।
ত্রয়োদশ কংগ্রেস যে কর্তব্য নির্ধারণ করেছে। সেই কর্তব্যকে সামনে রেখে সেই পথ ধরেই গণআন্দোলনের ধারায় বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাবে পার্টি।
কংগ্রেসের পথ ধরেই এগিয়ে যাবে পার্টি।
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিবি
প্রথম পাতা
হাম ও উপসর্গে প্রাণহানি থামছে না
বাজেটে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানা চালু করার বরাদ্দ দিতে হবে
বাজেটের শ্রেণি চরিত্র
‘মিরাকল প্রতিমন্ত্রী’
ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন কমরেড সেলিম
‘আষাঢ়ের গর্জনে নবযাত্রার ডাক বৈষম্য বিনাশে মানুষ জেগে থাক’
সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
বিশ্বকাপে ফিফাকে ভক্তদের দুয়ো
প্রাথমিকে পরীক্ষার ফি বাতিল এবং সঙ্গীত-চারু-কারুকলার শিক্ষক নিয়োগের দাবি
মানুষের মুক্তির জন্য বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে হবে
‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে’ স্লোগানে বর্ষা উৎসব
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন