‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’- একটি পর্যালোচনা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
আবু তারেক সোহেল ভূমিকাঃ ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’-এর পূর্বে স্বাধীন বাংলাদেশে আরো ছয়টি কমিশন/কমিটি রিপোর্ট ঘোষিত হয়েছিল। এগুলো হলো : বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন (ড. কুদরত-ই-খুদা) রিপোর্ট ১৯৭৪, অন্তর্বর্তীকালীন শিক্ষানীতি (কাজী জাফর-আবদুল বাতেন প্রণীত) ১৯৭৯, মজিদ খান কমিশন রিপোর্ট ১৯৮৩, মফিজ উদ্দিন শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট ১৯৮৭, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০০ ও জাতীয় শিক্ষা কমিশন (মনিরুজ্জামান মিয়া) প্রতিবেদন ২০০৩। সেই মোতাবেক বাংলাদেশে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ হয়েছে দুটি ২০০০ ও ২০১০ সালে। বর্তমান শিক্ষানীতি- ২০১০ জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী (চেয়ারম্যান) ও ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ (কো-চেয়ারম্যান) এর নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রণীত হয়। যেকোনো রাষ্ট্রের জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরি হয় কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে। যার মধ্যে শিক্ষা-দর্শন থাকবে; জাতির আশা-আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হবে; সর্বোপরি সর্বসাধারণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা প্রণীত ও গৃহীত হবে। শিক্ষানীতির বক্তব্য অনুযায়ী, এটি প্রণয়নে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাবলি, জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশনের সুপারিশ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। প্রাক্-কথন, মুখবন্ধ, আঠাশটি অধ্যায় ও দুইটি সংযোজনী নিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর কলেবর। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ঃ আলোচ্য শিক্ষানীতির ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, “শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানে উপযোগী মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক ও কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলা”। আরো বলা হচ্ছে ‘‘শিক্ষানীতি দেশে গণমুখী, সুলভ, সুষম, সার্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করবে”। আমরা ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য’ শীর্ষক প্রথম অধ্যায়টিকে জাতীয় শিক্ষানীতির ২০১০-এর মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছি। এই উদ্দেশ্যে পরবর্তিতে মোট ৩০টি উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটি ধারাও উপরের ন্যায় অনেক বাগাড়ম্বরপূর্ণ শব্দে পরিপূর্ণ। খুব সুকৌশলে ইতিবাচক শব্দের মধ্যেই এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে যার ফলে পুরো শিক্ষানীতিটিই একটি গোঁজামিলের স্তূপে পরিণত হয়েছে। যার পুরোটাই অসংখ্য পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে পরিপূর্ণ। আমরা কয়েকটি ভাগে তা আলোচনা করবো- প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা ঃ আলোচ্য শিক্ষানীতির দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার কথা বলা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখানে অসংখ্য ইতিবাচক শব্দের মধ্য দিয়ে পরস্পরবিরোধী এবং আলোচ্য শিক্ষানীতিরই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পরিপন্থি অনেকগুলো বিষয় খুব সুকৌশলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১। ধারাঃ আলোচ্য অধ্যায়ের কোথাও শিক্ষার ধারা নিয়ে আলাদা ও সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। উপরন্তু, “একই পদ্ধতির মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাংলাদেশের সংবিধানে ব্যক্ত করা হয়েছে”- এই কথা স্বীকার করে নিয়েই বিভিন্ন পদ্ধতির সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। অধ্যায়- ২(খ), প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে, “প্রাথমিক স্তর থেকে নিজ নিজ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।” পরবর্তিতে এই ধারাবাহিকতায় মাদরাসা শিক্ষা (অধ্যায়- ৬) এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার (অধ্যায়-৭) জন্য দুইটি আলাদা অধ্যায়ই সংযুক্ত করা হয়েছে। এমনকি এই ধারা শিক্ষা সকল স্তরেই বিদ্যমান থাকবে, যা পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে অসংখ্যবার আলোচিত হয়েছে। যেখানে শুরুতেই সংবিধানের দোহাই দেয়া হয়েছে এবং সংবিবিধানের ২৮(১) ধারা অনুযায়ী বলা হয়েছে, “কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না”। যা কিনা শিক্ষানীতির শুরুতে সমুন্নত রাখার কথাও বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে, একটা নির্দিষ্ট ধর্মের শিক্ষাকে শিক্ষানীতির অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে তা সংবিধান পরিপন্থি হয় কি-না সেই প্রশ্নটাও স্বাভাবিকভাবে এসে যায়। (যদিও আমাদের সংবিধানেও অনেক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে)। ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “নৈতিকতার মৌলিক উৎস ধর্ম”। আমরা মাদরাসা শিক্ষা ও ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা এখানেই সীমাবদ্ধ রাখবো। কেননা, আলোচ্য শিক্ষানীতির মূলনীতির সাথে তা সাংঘর্ষিক। এছাড়াও আলোচ্য শিক্ষানীতি ঘোষণা করছে, “মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় ধর্ম মন্ত্রণালয় কতৃক পরিচালিত সকল ধর্মের শিশুদেরকে ধর্মীয়জ্ঞান, অক্ষরজ্ঞানসহ আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিকতার শিক্ষা প্রদানের কর্মসূচি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গণ্য হবে।” প্রাক- প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষায় যদি এই ধরনের ধর্মীয় শিক্ষার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয় তবে কীভাবে অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিমনস্ক এবং কুসংস্কারমুক্ত মানুষ গড়ে উঠবে? যা কিনা আলোচ্য শিক্ষানীতিরই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বলে ঘোষিত হয়েছে। ২। মাধ্যমঃ শিক্ষার মাধ্যম কী হবে সে বিষয়েও আলোচ্য অধ্যায়ে আলাদা ও সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। অথচ ‘বিভিন্ন ধারার সমন্বয়’ এই অংশে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের উল্লেখ রয়েছে। এই স্তরে আদিবাসীসহ সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার জন্য স্ব স্ব মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে; যেটা বাস্তবায়ন হয়নি। ৩। রাষ্ট্রের দায়িত্বঃ “সকলের জন্য মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ সংবিধানে বিধৃত আছে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রকেই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।” আলোচ্য অধ্যায়ে এও বলা আছে, “প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব বেসরকারি বা এনজিও খাতে হস্তান্তর করা যাবে না।” এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার যাবতীয় ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে। এর পরে কোনো বক্তব্যের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু তারা বলছে, “কোন ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা কোনো এনজিও প্রাথমিক শিক্ষাদানকল্পে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে চাইলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে রাষ্টীয় বিধি-বিধান পালন করতে হবে।” অর্থাৎ এখানেও কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। যা স্পষ্টতঃ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। ৪। শিক্ষণ পদ্ধতিঃ শিশুর সৃজনশীল চিন্তা ও দক্ষতা প্রসারের জন্য সক্রিয় শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে আলোচ্য অধ্যায়ে। এই বিষয়ে শিক্ষকদের অদক্ষতা ও পূর্ব প্রস্তুতির যথেষ্ট ঘাটতি প্রকটভাবে দৃশ্যমান। যার ফলে অহেতুক শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ৫। বৈষম্যঃ আলোচ্য অধ্যায়ে বলা হচ্ছে,“বিভিন্ন ধরনের এবং এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য প্রকট”। এই বাস্তবতা স্বীকার করে এবং তা কমিয়ে আনার জন্য পরিকল্পিত কর্মসূচির ভিত্তিতে সহয়তা করার অঙ্গীকারও আছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল উল্লেখ নেই; তাছাড়া এখন পর্যন্ত এই বৈষম্য কমেনি বরং আরো প্রকট হয়েছে। ৬। এছাড়াও শিক্ষানীতিতে ঝরে পড়া সমস্যার সমাধান, আদিবাসী শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু, পথশিশু ও অন্যান্য অতিবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। যদিও তা কার্যক্ষেত্রে খুব বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনি। মাধ্যমিক শিক্ষা ঃ আলোচ্য অধ্যায়ে বলা হয়েছে, “নতুন শিক্ষা কাঠামোয় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষার স্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।” যা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে। এই স্তরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই স্তর শেষেই শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধারায় যাবে, নয়তো অর্জিত বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভিত্তিতে বা আরো বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকার্জনের পথে যাবে। আলোচ্য ধারায়ও অসংখ্য ইতিবাচক শব্দের আধিক্য লক্ষ্যণীয়, যদিও এখানেও শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। ১। ধারাঃ এই স্তরে তিনটি ধারার কথা সুস্পষ্টভাবে বলা আছে। সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাধারা। এবং প্রত্যেক ধারা আবার কয়েকটি শাখায় বিভক্ত থাকার কথাও বলা হচ্ছে। অর্থাৎ অসংখ্য ধারা নিয়ে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হওয়ার কথা এই নীতিতে সুস্পষ্ট। ২। মাধ্যমঃ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মাধ্যম নিয়ে কোনো কথা না থাকলেও মাধ্যমিক স্তরে বলা হচ্ছে, “এই পর্যায়ে শিক্ষার মাধ্যম হবে মূলত বাংলা। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট পাঠ্যসূচি ইংরেজি মাধ্যমেও শিক্ষা দেয়া যাবে। বিদেশিদের জন্য সহজ বাংলা শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে।” আলোচ্য শিক্ষানীতি ধনী-গরিব, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন শিক্ষার কথা বললেও, এই নীতিতেই শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলকে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; যা যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি’র সমমান হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলা মাধ্যমের সাথে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে পাঠ্যসূচির মধ্যে বাংলা ও বাংলাদেশ স্টাডিজ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ৩। আলোচ্য অধ্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১ঃ৩০- উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া শিক্ষক নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে, সেটাও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। উচ্চশিক্ষাঃ আলোচ্য অধ্যায়ে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের শুরুতেই বলা আছে, “উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য হবে জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা”। জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে জ্ঞান সৃজনের মধ্য দিয়ে মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রগুলো নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে। আলোচ্য অধ্যায়েও সেই বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়েছে। যদিও এই ক্ষেত্রেও অসংখ্য অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। ১। স্বায়ত্বশাসনঃ একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হচ্ছে তার স্বায়ত্বশাসন। আলোচ্য শিক্ষানীতিতেও একই কথার প্রতিধ্বনী শোনা যায়, বলা হচ্ছে, “বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রগুলোর জন্য স্বশাসন ব্যবস্থা অপরিহার্য”। কিন্তু বাস্তবে দেশের প্রায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নামেমাত্র স্বায়ত্বশাসন ভোগ করছে। উপরন্তু, অধ্যায় ২৭-এ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যে কার্যপরিধি দেয়া হয়েছে, সেই মোতাবেক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বময় আধিকারিক হচ্ছে সেই কমিশন। ২। অর্থায়নঃ বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রগুলোর অর্থায়ন কীভাবে হবে সে বিষয়ে আলোচ্য নীতিমালায় সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই; তবে ইঙ্গিত আছে। উচ্চশিক্ষা অধ্যায়ের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ১৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, “উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য শিক্ষাখাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। সরকারি অনুদান ছাড়াও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যয় নির্বাহের জন্য শিক্ষার্থীর বেতন ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা চালাতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ভর্তি ফি ও বেতন খুবই সামান্য। অভিভাবকের আর্থিক সচ্ছলতার প্রত্যয়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর বেতন নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। অসচ্ছলতা প্রমাণের মূল দায়িত্ব অভিভাবকের উপর ন্যস্ত থাকবে। তবে তার জন্য যথাযথ নিয়মনীতি প্রণয়ন করা হবে।” উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালগুলোর সাম্প্রতিক অবস্থা বিচারে এটা সহজেই অনুমেয় যে, রাষ্ট্র উচ্চশিক্ষা খাতে ক্রমাগত বরাদ্দ কমাতে যেমন আগ্রহী; তেমনি শিক্ষার্থীর বেতন ও ব্যক্তিগত অনুদান বাড়াতেও বদ্ধ পরিকর। স্বচ্ছলতার ভিত্তিতে বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে তা যথাযথ নিয়মনীতি প্রণয়নের অভাবে এখনো অকার্যকর। এছাড়া এখানে যা বলা আছে তা শুধুমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন নিয়ে কোনো আলোচনাই আলোচ্য শিক্ষানীতির কোথাও নেই। ৩। ছাত্র সংসদ নির্বাচনঃ পুরো শিক্ষানীতির কোথাও ছাত্র সংসদ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই। একেবারে শুরুতে প্রথম অধ্যায়ে ৬ নম্বর ধারায় যদিও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশে সহায়তা প্রদানের কথা বলা আছে। এছাড়া আলোচ্য ধারায় বলা হচ্ছে, উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হবে, “জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের উপযোগী বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, মানবমুখী, প্রগতিশীল ও দূরদর্শী নাগরিক সৃষ্টি”। কিন্তু উচ্চশিক্ষার স্তরেই শুধু নয়, শিক্ষার কোনো স্তরেই কীভাবে নেতৃত্বের গুনাবলি বিকশিত হবে সেরকম কোনো নির্দেশনা এই শিক্ষানীতিতে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে স্কুল পর্যায়ে ছাত্র সংসদ চালু হয়েছে; অথচ বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদগুলো অকার্যকর হয়ে আছে। এর ফলে জাতীয় জীবনে যেমন সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না, তেমনি শিক্ষার্থীরাও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ শিক্ষানীতির বিভিন্ন যায়গায় সুযোগ্য নেতৃত্ব, নানা ধরনের অধিকার সচেতন নাগরিক তৈরির কথা বলা হয়েছে। ৪। গবেষণাঃ গবেষণা ব্যতিরেকে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান বিবেচিত হয় না। আলোচ্য নীতিই বলছে, উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য হবে, “জ্ঞান চর্চা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী হতে জ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি।” এছাড়াও কৌশল হিসেবে বলা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলিক গবেষণার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। গবেষণায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, প্রাতিষ্ঠানিক কনসালটেন্সির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে; বেসরকারি উদ্যোগকেও উৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে গবেষণা খাতে আলাদা করে বাজেট বরাদ্দের কথা কোথাও উল্লেখ নেই। ৫। শিক্ষার মানঃ উচ্চশিক্ষার কৌশলে বলা হচ্ছে, “উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বপ্রকার যত্ন নেয়া প্রয়োজন। তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” কিন্তু কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কবে তা গ্রহণ করা হবে সে বিষয়ে আর কোথাও কিছু বলা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বরং শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ক্রমশ নিম্নগামী। ৬। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ঃ উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জন্মলগ্ন থেকেই নানা সংকট ও সমস্যার মধ্য দিয়ে যা অগ্রসরমান। এই শিক্ষানীতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত কোনো আলোচনাই নেই। ৭। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ উচ্চশিক্ষার এই অধ্যায়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনো আলোচনা নেই। ৮। প্রশাসনঃ বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের ক্ষেত্রে অধ্যায় ২৭- এ আলোচনা করা হয়েছে। সকল পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন’কে সমন্বয় সাধন ও নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এখানে তিনটি অনুচ্ছেদে এই কমিশনের যে কার্যপরিধি বর্ণনা করা হয়েছে তা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসনের সাথে সাংঘর্ষিক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “প্রত্যেক বিভাগীয় সদরে কেন্দ্র স্থাপন করে এর কার্যক্রমের বিকেন্দ্রীকরণ করা জরুরি প্রতীয়মাণ হওয়ায় দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করা হবে।” এই উদ্যোগ ভাল, তবে এখনো তা কার্যকর হয়নি। মাদরাসা শিক্ষা এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ঃ আলোচ্য শিক্ষানীতির মাদরাসা শিক্ষা অধ্যায়ে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে বলা হচ্ছে, “শিক্ষার্থীর মানে সর্বশক্তিমান আল্লাহতাআলা ও তাঁর রাসুল (সাঃ)- এর প্রতি অটল বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবনে সমর্থ করে তোলা।” এই ধারায় একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত শিক্ষালাভ করতে পারবে। সাধারণ মাধ্যমের সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সাধারণ মাধ্যমের ডিগ্রিগুলোর সমমর্যাদা দেয়া হবে। আগেই উল্লেখ করেছি, এই অধ্যায়টি সংবিধান ও আলোচ্য শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিপন্থি। যদিও বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর একজন মাদরাসা শিক্ষার্থী। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে কীভাবে এই শিক্ষাকে মূলধারার সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে একীভূত করা যায়, সেই ধরনের নির্দেশনা থাকাটা বাস্তবসম্মত হত। অথচ, এরকম কোন নির্দেশনা আলোচ্য নীতিতে নেই। ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার জন্য আলাদা করে একটা অধ্যায় রাখার কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে মনে হয় না। তাছাড়া এখানে পুরো অধ্যায়ে ধর্ম শিক্ষা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। নৈতিক শিক্ষা নিয়ে যেটুকু আলোচনা তাতে বলা হয়েছে, “নৈতিকতার মৌলিক উৎস ধর্ম”। অর্থাৎ ধর্ম শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষাকে একই বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যান্য ঃ বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা, বয়স্ক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, প্রকৌশল শিক্ষা, চিকিৎসা শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা, আইন শিক্ষা, নারী শিক্ষা, কারুকলা ও সুকুমারবৃত্তি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা, স্কাউট ও গার্ল গাইড, ব্রতচারী এবং ক্রীড়া শিক্ষা বিষয়ে আলাদা আলাদা অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। যার অনেকগুলোই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়াও আলোচ্য শিক্ষানীতির বিভিন্ন অধ্যায়ে শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচি, পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, দায়িত্ব, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা, মূল্যায়ন, শিক্ষার্থী ভর্তি, গ্রন্থাগার ও নির্দেশনা বিষয়ে নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা, দুর্নীতি এবং যথাযোগ্য আইনের অভাবে যার অনেকগুলোই আজো বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষা আইনঃ আলোচ্য শিক্ষানীতির অধ্যায় ২৭- এ বলা আছে, “শিক্ষা সংক্রান্ত সকল আইন, বিধি-বিধান ও আদেশাবলি একত্রিত করে এ শিক্ষানীতির আলোকে এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।” পরবর্তিতে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি- ২০১০’ বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালে শিক্ষা আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হলেও শিক্ষাআইন এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। শিক্ষা আইন চূড়ান্ত না হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষকনেতাদের একটি অংশ নোটগাইড প্রকাশে জড়িত ব্যবসায়ী, কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের বিরোধিতা ও মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতায় শিক্ষা আইন চূড়ান্তে বিলম্বের অন্যতম কারণ। দেশে শিক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতিসহ নানা অপরাধ প্রবণতা ব্যাপকহারে বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষা আইন না থাকায় কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের বেশির ভাগ নির্দেশনা। উপসংহার ঃ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর এদেশের সংবিধানে যে জাতীয় চার মূলনীতি গৃহিত হয়, ১৯৭৪ সালে কুদরত-ই-খুদা কমিশনে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল। কমিশন এদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শের অনুসরণ করে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন- ১। দেশপ্রেম ও সুনাগরিকত্ব, ২। মানবতা ও বিশ্ব-নাগরিকত্ব, ৩। নৈতিক মূল্যবোধ, ৪। সামাজিক রুপান্তরের হাতিয়াররুপে শিক্ষা, ৫। প্রয়োগমুখী ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনুকূল শিক্ষা, ৬। নেতৃত্ব ও সংগঠনের গুনাবলি, সৃজনশীলতা ও গবেষণা। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর সাথে তুলনা করলে সহজেই বুঝা যায় আমরা কতটা পিছিয়ে গেছি। এর মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশের শিক্ষা-দর্শনের ক্ষেত্রে যে সঙ্কট তা মূলত জাতীয় আদর্শের ক্ষেত্রে সঙ্কটেরই প্রতিফলন। এখন আমাদের প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ও ধনিক শ্রেণির সাথে আপোস করে এগোতে হয়। তাদের স্বার্থকে সমুন্নত রেখেই শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হয়। আমরা চাই এরকম একটা শিক্ষানীতি প্রণীত হোক- যেখানে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তার বোধ, গণতন্ত্রের অনুশীলন, সাম্প্রদায়িকতার বিলোপ, নিরক্ষরতার অবসান, মেধা অনুযায়ী বিকাশের সুযোগ, প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সমন্বয়, অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে একমুখী শিক্ষা, জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সাযুজ্য, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মুক্তচিন্তার বিকাশ, জীবনের সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রয়োগ ও তার উৎকর্ষ, জ্ঞানশক্তিকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করা, মানবিক গুনাবলির বিকাশ ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি, সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সৃষ্টিশীলতার স্ফূরণ ও সমাজ চেতনার বিকাশ। স্বভাবতই এদেশের জন্য যে শিক্ষার আদর্শ গ্রহণ করা হবে তাতে এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথের মতই আমরাও শিক্ষাকে জীবনের এক অতি আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ হিসেবে দেখতে চাই। অর্থাৎ জীবনের যা আদর্শ, শিক্ষারও আদর্শ তাই। লেখক : সহ-সভাপতি, ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় কমিটি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..