শহীদ সাবেরের আরেক দুনিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মযহারুল ইসলাম বাবলা: ১৯৩০ সালের ১৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁস্থ সোনাপুকুর গ্রামে নানার বাড়িতে শহীদ সাবের এর জন্ম এবং ঈদগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় নিজ মাকে ছেড়ে পিতার কাছে সৎ মায়ের সংসারে কলকাতা চলে যান। কলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তি হয়ে বরাবরই ক্লাসের সেকেন্ড বয় হিসেবে পরিচিতি পান। ‘ছন্দ শিখা’ নামক হাতে লেখা পত্রিকার মাধ্যমেই তাঁর সাহিত্য জগতে প্রবেশ। মুকুল ফৌজেও যুক্ত ছিলেন। আবুল মনসুর আহমদ সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেহাদে স্কুলছাত্র শহীদ সাবেরের প্রথম লেখা ছাপা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইত্তেহাদে তাঁর লেখা গল্পও ছাপা হয়েছিল। ইত্তেহাদ পত্রিকার সাহিত্য পাতা দেখতেন জহুরি সাহিত্য সম্পাদক কবি আহসান হাবীব। কবি আহসান হাবীব শহীদ সাবের সম্পর্কে বলেছিলেন- অমন সপ্রতিভ দ্বিতীয় কাউকে তিনি দেখেননি। বয়সের তুলনায় অসামান্য পরিপক্ক প্রতিভাধর ছিলেন শহীদ সাবের। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় স্বপরিবারে তাঁরা পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হয়ে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন সাবের। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে আই.এ পড়ার সময়ে তখনকার একমাত্র অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ও কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনে যুক্ত হয়ে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রগতিশীল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান রাষ্ট্র জুড়ে তখন কমিউনিস্টদের ওপর চলছে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন। ক্ষমতাসীন মুসলীম লীগ সেই ধারাবাহিকতায় ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীদের ওপর ইচ্ছেমত যখন-তখন গুণ্ডা লেলিয়ে হামলা চালায়। আই.এ ক্লাসের ছাত্র শহীদ সাবের ১৯৫০ সালে ছাত্র ফেডারেশনের এক সমাবেশে বক্তৃতারত অবস্থায় গ্রেফতার হন। সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না দিয়ে নিরাপত্তা বন্দি শহীদ সাবেরকে চট্টগ্রাম কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরে তাঁকে আতঙ্কের জেল খ্যাত রাজশাহী জেলে পাঠানো হয়। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল পাগলা ঘণ্টা বাজিয়ে সেনাবাহিনী লেলিয়ে রাজশাহী জেলে হত্যা করা হয় সাতজন কমিউনিস্ট রাজবন্দিকে এবং এতে আহত হন শতাধিক রাজবন্দি। বন্দিদের আতঙ্কগ্রস্ত করা এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্যই দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে কমিউনিস্ট বন্দিদের রাজশাহী কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। রাজশাহী জেলের সর্বকনিষ্ঠ রাজবন্দি ছিলেন শহীদ সাবের। রাজবন্দিরা তাঁকে খুব স্নেহ করতেন। এই তরুণের নানা আবদার-উপদ্রব হাসি মুখে সহ্য করতেন তাঁরা, বিশেষ করে ঢাকার রেল শ্রমিক আন্দোলনের নেতা সুকুমার চক্রবর্তী। ১৯৫১ সালে রাজশাহী জেলে থাকাকালীন আই.এ পাস করেন সাবের। রাজশাহী জেল থেকে ঢাকার সেন্ট্রাল জেলে বদলি হয়ে আসা বন্দি শহীদ সাবেরকে তাঁর পিতা বন্ড দিয়ে মুক্তির উদ্যোগ নিলেও শহীদ সাবেরের তীব্র বিরোধিতার কারণে সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। সচিবালয়ে কর্মরত তাঁর পিতা অনেক চেষ্টার পর যুক্তফ্রন্ট সরকারের কল্যাণে তাঁকে জেল থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন। শর্ত ছিল ঢাকা থেকে কোথাও যাওয়া চলবে না। যেতে হলে গোয়েন্দা বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের শাসনামলে বিনা বিচারে চারবছর জেল খেটে ছাড়া পান তিনি। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ১০/জে, আজিমপুর কলোনিতে বাবার সংসারে ফিরে আসেন। সংসারের আর্থিক সহযোগিতার জন্য আজিমপুরস্থ ওয়েস্ট অ্যান্ড হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। সাবের একই সঙ্গে জগন্নাথ কলেজের নৈশ শাখায় বি.এ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালে বি.এ পাস করেন। চট্টগ্রাম জেলে বসেই বন্দি জীবনের কাহিনী নিয়ে লিখেছিলেন ‘আরেক দুনিয়া থেকে’ নামক রোজনামচা। লেখাটি গোপনে জেল থেকে পাচার হয়ে কলকাতা থেকে প্রকাশিত নতুন সাহিত্যের চৈত্র ১৩৫৭ সংখ্যায় ছাপা হয়। লেখাটি নিয়ে চারদিকে সাড়া পড়েছিল। কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখাটি পড়ে মুগ্ধ হয়ে পত্রিকার সম্পাদককে চিঠি লিখে এই নতুন প্রতিভার আগমনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। নিরাপত্তা বন্দি বলেই স্বনামে লেখা ছাপানোর অধিকার তাঁর ছিল না। ‘আরেক দুনিয়া থেকে’ ছাপা হয়েছিল ‘জামিল হোসেন’ ছদ্মনামে। কবি ও কথাসাহিত্যিক হিসেবে সেই তাঁর যাত্রা শুরু, কিন্তু দুর্ভাগ্য ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ মাত্র এই ক‘টি বছরই মূলত তিনি লিখতে পেরেছিলেন। বি.এ পাস করে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দিন দৈনিক সংবাদে। সংবাদের সম্পাদকীয় তিনিই লিখতেন এবং দেখতেন সাহিত্য পাতাও। সংবাদে চাকুরিরত অবস্থায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেন্ট্রাল সুপারিয়র সার্ভিসে (সিএসএস) অন্তর্গত সিএসপি পরীক্ষায় বসেন; লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। চোখের সমস্যার অজুহাতে নিশ্চিত সরকারি চাকরি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়। পরে তিনি ফেডারেল ইনফরমেশন সার্ভিসে পরীক্ষা দিয়ে পুরো পাকিস্তানে প্রথম স্থান অধিকার করেন। কিন্তু তিনি ছিলেন জেলখাটা কমিউনিস্ট, তাঁর সম্পর্কে গোয়েন্দা রিপোর্ট সন্তোষজনক ছিল না। এ কারণে তাঁকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি বিস্তারিত জানালে তিনি এ ব্যাপারে ওভার রুল করে, নিয়োগপত্র প্রদানের সরকারি নির্দেশের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেই রাতেই সামরিক শাসন জারির মধ্য দিয়ে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন। শহীদ সাবেরের পরিবার ও শ্রেণির আকাক্সক্ষা এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের গণতন্ত্র একই সঙ্গে ভেস্তে যায়। নিজের অবস্থানে টিকে থাকতে না পারার যন্ত্রণায় জীবনের প্রতি তীব্র অনীহা কিংবা ঘৃণায় নিজের মধ্যে গুটিয়ে যান শহীদ সাবের। তাঁর সেই মানসিক বিপর্যয়কালে সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষে রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই) উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর বন্ধু সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক ফাউজুল করীম এবং মন্টু খান (সাংবাদিক আবেদ খানের অগ্রজ) তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পাবনার হাসপাতালে রেখে আসেন। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও চিকিৎসার ধারাবাহিকতার অভাবে তাঁর আর সুস্থ হওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। ডাস্টবিন থেকে খাবার তুলে খাওয়া, পেটিকোট, আন্ডারওয়্যার পরে রাস্তায় বের হয়ে যাবার মত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাও ঘটেছিল। নোংরা ও অপরিষ্কার থাকা তাঁর মজ্জাগত হয়ে যায়। বেগম সুফিয়া কামাল এবং ওয়াহিদুল হক-সন্জীদা খাতুন তাঁকে পরিচ্ছন্ন স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে নিজেদের বাড়িতে নিয়েও রাখতে পারেননি। ফাঁকি দিয়ে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে যান। তাঁর জীবন হয়ে পড়ে অসংলগ্ন এবং প্রথা বিরোধী। বংশালের সংবাদ অফিসই হয়ে উঠেছিল সাবেরের একমাত্র আশ্রয়স্থল। দিনভর উদভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে রাতে ঘুমাতে যেতেন সংবাদ অফিসে। মেঝে, বারান্দা, হাতলবিহীন চেয়ার ছিল তাঁর ঘুমের স্থান। সংবাদ অফিস থেকে তাঁকে প্রতিদিন দুই টাকা দেয়া হতো। প্রেসক্লাবে খাওয়া ফ্রি। ফ্রি খাওয়ার বেলায়ও ছিলেন অনিয়মিত। সিগারেট, একমাত্র সিগারেট খেতেই সবার কাছে হাত পাততেন নির্দ্বিধায়। জীবনের বোঝা বয়ে বয়ে উদভ্রান্ত জীবনে অভ্যস্ত শহীদ সাবের মূলত বন্ধুদের সাহায্যেই বেঁচে ছিলেন মাত্র। ছিল না বোধ। ছিল না স্বপ্ন পূরণের সামান্য মানসিক শক্তি। কেউ খাওয়ালে খেতেন নয়তো না খেয়েই থাকতেন। অনাহার ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। পরিবার পরিজন থেকেও মানুষটি পাননি যথাযথ ভালোবাসা ও সহমর্মিতা। তাঁর সুচিকিৎসা হয়নি। ভালো হবার শতভাগ সম্ভাবনা থাকলেও সুচিকিৎসা ও পরিচর্যার অভাবে তাঁর আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে সুস্থ করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের জনৈক নেতার উক্তি ছিল- ‘সুস্থ লোককে বাঁচাবো? না পাগল সাবেরকে বাঁচাবো? ইউনিয়ন তো সাবেরের পরিবার পরিজন নয় যে সারাক্ষণ তাঁর পেছনে লেগে থাকবে?’ ২৫ মার্চের গণহত্যা পরবর্তী সান্ধ্য আইন শিথিল হওয়ামাত্র পুরানা পল্টন লেনের দাদার বাড়ির সবাইসহ ঢাকাস্থ আমাদের পুরো পরিবার আত্মরক্ষার্থে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কুশিয়ারবাগে আশ্রয় নিয়েছিল। শহীদ সাবেরের অনুজ পেয়ারুও সঙ্গে ছিলেন। দাদার বাড়ির লাগোয়া অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদের মায়ের কাছে জেনেছি, শহীদ সাবের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দাদার বাড়িতে এসেছিলেন। তালাবন্ধ শূন্য বাড়িতে কাউকে না পেয়ে অগত্যা নিঃশব্দে ফিরে গেছেন আদি ঠিকানা বংশালের সংবাদ অফিসে। ১৯৭১-এর ৩১ মার্চ সকালে পাকিস্তানি হানাদাররা প্রগ্রতিশীল ও জাতীয় চেতনার দৈনিক সংবাদ অফিস আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। সংবাদের স্থায়ী বাসিন্দা ঘুমন্ত শহীদ সাবের সেই আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যান। তাঁর দেহের সৎকার তো দূরের কথা, শনাক্ত পর্যন্ত করা যায়নি। পুরো সংবাদ অফিসের সাথে ছাই ভস্ম হয়ে যায় দৈহিকভাবে বেঁচে থাকা শহীদ সাবের। রাষ্ট্রীয় খড়গে জেল ফেরত শহীদ সাবের রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে পারেনি। সাংবাদিকতা পেশাও তাঁকে দিতে পারেনি আর্থিক নিশ্চয়তা। পরিবার ও শ্রেণির চাপে এবং ব্যক্তিগত জীবনের প্রেমকে সফল করতে ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছুটতে হয়েছে আত্মপ্রতিষ্ঠার পিছু। শাসক সহযোগী সরকারি আমলা হবার জন্য নিজের স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে সিএসপি এবং সিআইএস পরীক্ষা দিতে হয়েছে। নিয়োগ প্রাপ্তির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ধরনা পর্যন্ত দিয়েছেন। নিজের চিন্তা-চেতনার আত্মাহুতির মানসিক যন্ত্রণা-কষ্টে শহীদ সাবের দ্রোহী হয়ে বদলে গিয়েছিলেন। করেছিলেন ভিন্ন মাত্রার নীরব প্রতিবাদ। মতাদর্শিক অঙ্গীকার এবং নিজস্ব সত্তার বিকাশের বিপরীতে পিতা-পরিবার-শ্রেণি হতে ব্যক্তিগত প্রেম তাঁকে ঠেলে দিয়েছিল সনাতনী প্রতিষ্ঠার পেছনে, যা তাঁর পক্ষে ছিল অসহনীয়। ইচ্ছের বিরুদ্ধে চলতে গিয়ে মতাদর্শ ও বিবেকের দংশনে বৈরী সমাজ ব্যবস্থার উপহাসে শহীদ সাবের অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যান। শ্রেণির চাপে ক্ষত-বিক্ষত শহীদ সাবের নীতি ও মূল্যবোধের এই বিচ্যুতি সহ্য করতে পারেননি। তাই ভেঙ্গেছেন, কিন্তু মচকে যাননি। আজকের ন্যায় সাংবাদিকতা তখন পেশা হিসেবে নিশ্চিত কিছু ছিল না। অনিয়মিত বেতন প্রাপ্তির বিড়ম্বনায় বাবা-মা-ভাইবোনদের ঢাকায় বাসা ভাড়া করে এনেও সংসারের ব্যয় মেটানো সম্ভব হয়নি। সেজন্য তাঁর বাবা আত্মীয় পরিজনদের কাছে উপহাস করে বলতেন- ‘সাবের আমাদের অনাহারে না খাইয়ে মারার জন্য ঢাকায় এনেছে।’ আর্থিক অনিশ্চয়তায় পুরো পরিবারকে চট্টগ্রাম ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। সাবের নিজের মত করে চলতে পারেননি। তিনি যেমনটি চেয়েছিলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাঁকে অন্য পথে ঠেলে দিয়েছিল। যে পথের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর মতাদর্শ। শ্রেণি উত্তরণের মোহ কিংবা নেশা তাঁর ছিল না। থাকার কথাও নয়। চাপিয়ে দেয়া নানা চাপে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শহীদ সাবেরকে পাগলের খ্যাতি নিয়ে বাঁচতে হয়েছে এবং সবার অলক্ষ্যে পুড়ে মরতে হয়েছে। তাঁর নির্লোভ-নির্মোহ সমষ্টিগত জগতটিকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েই জীবন ও সৃষ্টির জগৎ থেকে স্বেচ্ছায় হারিয়ে গেছেন। নিজে হেরে সবাইকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। আত্মসমর্পণের চেয়ে উত্তমই ছিল বোধ করি তাঁর এই হারিয়ে যাওয়া। শহীদ সাবেরের রচনাসমূহের মধ্যে প্রকাশিত গ্রন্থ রোজনামচা আরেক দুনিয়া থেকে (১৯৫৭), ছোট গল্পগ্রন্থ এক টুকরো মেঘ (১৯৫৫), কিশোর গল্পগ্রন্থ ক্ষুদে গোয়েন্দার অভিযান (১৯৫৮), অনুবাদগ্রন্থ পুশকিনের ইস্কাপনের বিবি, গোগলের পাগলের ডায়েরি, ক্যাথরিন ওয়েন্স পিয়ার এর কালো মেয়ের স্বপ্ন (১৯৫৮)। অসংখ্য কবিতা লিখেছেন তিনি, তবে গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয়নি। বিভিন্ন দৈনিক ও পত্রপত্রিকায় তাঁর প্রচুর কবিতা ছাপা হয়েছিল। ১৯৭২ সালে ছোটগল্পে (মরণোত্তর) বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন শহীদ সাবের। লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..