গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিবৃতি

সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়াবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সৌদি আরব সরকারের নেতৃত্বে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়াবে বলে হুশিয়ার করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। গত ৩ আগস্ট সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সৌদি সরকার ইয়েমেনের বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার কাঠামো হিসেবে এই বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট (এমএমডিএ) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বহুজাতিক এই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের সভায় আমন্ত্রিত হয়েছিল ৫১টি দেশ। তার মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিল, কিন্তু অধিকাংশ দেশই এই জোটে যুক্ত হতে রাজি হয়নি। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এটা স্পষ্ট যে, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও নানা বৈশ্বিক জোটে বিভক্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কোন একটি পক্ষের সাথে এ ধরণের সামরিক জোটে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়াবে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় সামরিক ব্যয়ও বাড়বে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের ইরানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ হুতিদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হবে। মার্কিন সমর্থিত এই সহযোগী জোটে অংশগ্রহণ ইরান ও ফিলিস্তিন জনগণের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়ায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সামিল, যা বাংলাদেশের জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, দেশে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার থাকার পরও সৌদি জোটে অংশগ্রহণ নিয়ে সংসদে বা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এটা গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি চেতনার পরিপন্থী যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সৌদি সরকারের নেতৃত্বে ১৪টি দেশ নিয়ে গঠিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট (এমএমডিএ) থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পাটির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..