বিশেষ সম্পাদকীয়...

জয়তু একতা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
দেখতে দেখতে গণমানুষের মুখপত্র সাপ্তাহিক একতা আর একটি বছর পেরিয়ে গেছে। এবার একতা ৫৮ বছরে পা দিয়েছে। এটি খুব কম সময় নয়; বিশেষত বাংলাদেশের বামপন্থি রাজনীতির ইতিহাসে। এত দীর্ঘ সময় ধরে গণমানুষের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে একতা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে- একতার পাঠক, পৃষ্ঠপোষক, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক ভালোবাসার কারণেই। তাই একতার এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের প্রতি থাকল শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। গত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সময়ই আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দুই বছর আগে দেশের মানুষ জীবন দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়েছে। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি ঘটনামাত্র নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তৈরি করেছে। একতা জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ মানুষের লড়াই-সংগ্রাম ও মুক্তির বয়ান তৈরি করেছে। এ কারণে তাকে বারবারই শাসকবর্গের চক্ষুশূল হতে হয়েছে। বার বার একতার উপর আক্রমণ হয়েছে। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট রাজনীতির বিরুদ্ধেও একতা ছিল সবসময় সরব। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই কমিউনিস্ট পার্টিসহ এদেশের বামপন্থিরা ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে। চব্বিশের গণআন্দোলনও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সেই অবদানকে আজকে উগ্র ডানপন্থি শক্তি মুছে দিতে চায়। তারা নিজেদের মত কবে ইতিহাসের বয়ান নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এটা যে তারা শুধু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে করছে তা নয়; তারা মুক্তিযুদ্ধকে নিয়েও বিকৃত বয়ান তৈরির প্রয়াস চালাচ্ছে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে তাই একতার দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে প্রকৃত লড়াইকামী জনতার জন্য। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্নের ফ্যাসিস্টমুক্ত সব মানুষের জন্য বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে বামপন্থিরাই গড়তে সক্ষম। সেই সক্ষমতার বয়ানই আগামী দিনে মানুষের সামনে তুলে ধরবে একতা। এজন্য একতাকেও সেই সক্ষমতার অবস্থানে নিতে হবে। সেই প্রত্যাশা একতার জন্য। জয়তু একতা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..