দ্রব্যমূল্য এবং জাতীয় বাজেট
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
আধুনিক যুগে সব দেশের সরকারকেই তার বাৎসরিক আয়-ব্যয় সম্পর্কে আগাম পরিকল্পনা করে সেই অনুসারে রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম চালাতে হয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বছরের পরিকল্পিত এই হিসেবটিকে নির্বাচিত পার্লামেন্টে অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের এই আগাম হিসাবকেই বলা হয় ‘বাজেট’। দেশের বাজেট পেশ ও পাশ হওয়ার আগে-পরে তা নিয়ে নানা মহলকে ও ‘ওজনদার’ বিভিন্ন ব্যক্তিকে কম গলদঘর্ম হতে হয় না! সেই বাজেট নিয়ে চলে আলোচনা-পর্যালোচনা-প্রশংসা-সমালোচনার ঝড়। কিন্তু এতোসব পরিশ্রম আর হৈ-চৈ এর গুরুত্ব আসলে কতোটা?
দেশের বাজেটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার বলে বলা হয়ে থাকলেও আসলে তা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ? আগামী অর্থবছরের বাজেট দেশের জিডিপির ২০ শতাংশের কম হতে যাচ্ছে। জিডিপির বাকি ৮০ শতাংশের বেশি টাকা রয়েছে সরকারি বাজেটের বাইরে ব্যক্তিগত মালিকানায় ও কর্তৃত্বে। তাই প্রশ্ন ওঠে, দেখতে বড় মনে হলেও এবারের বাজেটের ওজন আসলে কতটুকু?
এবারের বাজেট বিশাল হবে বলে আগে থেকেই যে বাহাদুরি নেয়া হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে কিছুটা বিভ্রান্তিকর। বাজেট অনেকটাই হাওয়াই মিঠাই-এর মতো। ফুলিয়ে-ফাপিয়ে সেটাকে বিশাল বলে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু মুখে দেওয়ার পর তা যখন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়, বেশ বোঝা যায় যে- তার সারবত্তা কতো ক্ষুদ্র। তখন গতানুগতিকভাবে প্রতি বছরই আমরা এরকম হাওয়াই মিঠাই মার্কা বাজেটই পেয়ে আসছি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ৭০০ কোটি টাকার কিছু বেশি পরিমাণের বাজেট দিয়েছিলেন। বলা হচ্ছে যে, এবারের বাজেট সেই তুলনায় ১০০০ গুণেরও বেশি বড় হবে। কিন্তু বাজেটের সারবত্তা বেড়েছে কয় গুণ? এভাবে চিন্তা করলে বছর বছর ধরে চালিয়ে দেয়া বাজেটের মধ্যকার শুভংকরের ফাঁকি ও হাওয়াই মিঠাইয়ের স্বরূপ বুঝে উঠতে অসুবিধা হয় না।
বাজেটের সারবত্তার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটার কথা জনগণের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায়। সরকারের যেমন আয়-ব্যয় থাকে, প্রত্যেক পরিবারেরও (এবং ব্যক্তির) তেমন আয়-ব্যয়ের একটা হিসাব আছে। সেই অনুসারেই তাকে সংসারের কাজ-কর্ম নির্বাহ করতে হয়। সেই অর্থে সব পরিবারে একটা ‘বাজেট’ থাকার কথা। কিন্তু দেশের অধিকাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে বাৎসরিক বাজেট করে চলার উপায় নেই। তাদের থাকতে হয় অনিশ্চিত ‘দিন আনি-দিন খাই’ অবস্থায়। অনেকের অবস্থা আরো খারাপ। তাজউদ্দিন সাহবের সময়ের তুলনায় সরকারের বাজেটের পরিমাণ টাকার অংকে যদি বাড়ে হাজার গুণ; গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন যাত্রার মান কি সেই পরিমাণে বেড়েছে বা বাড়বে? তাহলে প্রশ্ন, ১০০০ গুণ বৃদ্ধি পাওয়া বাজেটের টাকা কোন হাওয়ায় উধাও হয়ে যাবে?
এ প্রশ্নের জবাব- টাকার অংকে বৃদ্ধি পাওয়া বাজেটের অর্থ চলে যাচ্ছে মুষ্টিমেয় লুটেরা কোটিপতির পকেটে। আর, গরিব ও মধ্যবিত্তের হাতে তার যেটুকু পৌঁছাচ্ছে, তার প্রায় সবটাই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে মূল্যস্ফীতির চাপে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, সাধারণ গরিব-মধ্যবিত্ত সব রংয়ের মানুষের কাছে সরকারের বাজেট ‘রঙিন ফানুস’ হয়েই থাকবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তার অবস্থা হয়ে দাঁড়াবে ‘দম ফুরিয়ে ঠুস্্’। এমনই ঘটে চলেছে বছরের পর বছর।
দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। শায়েস্তা খানের আমলে জিনিসপত্রের দাম কি ছিল, আর আজ তা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, সে সম্পর্কে গভীর দীর্ঘশ্বাস ও ক্ষেদোক্তি শুনেছি সেই ছেলেবেলাতেও। আরো বড় হয়ে, যখন থেকে রাজপথের মিছিলে যোগ দিতে শুরু করেছি, এমন মিছিল কমই দেখেছি যেখানে স্লোগান উঠেনি ‘চাল-ডাল-তেলের দাম কমাতে হবে’। দ্রব্যমূল্যের সমস্যাটি শতাব্দী প্রাচীন, আর তা চলছে আজো। রাজত্বের ভাঙাগড়া হয়েছে, দেশ বদল হয়েছে, কতো সরকার এসেছে-গেছে-কিন্তু দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার রাশ টেনে ধরা কখনই সম্ভব হয়ে ওঠেনি। মানুষের সামনে সব সময় একটি বড় যন্ত্রণা হয়ে থেকেছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সাম্প্রতিক সময়ে এই যন্ত্রণার অসহনীয়তা আগের সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উচ্চবিত্তরা অবস্থা সামাল দিতে পারলেও মধ্যবিত্তের অবস্থা সঙ্গীন। আর নিম্নবিত্ত-গরিবেরা যে কেমন করে বেঁচে আছে তা বলাই বাহুল্য।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে কেউ কেউ। কিন্তু মানুষ এই অজুহাত মেনে নিতে পারে না, কারণ তারা প্রতিদিন চোখের সামনে দেখছে যে শাক-সবজি, কাঁচা মরিচ, মাছ-ডিম ইত্যাদি, যে-সব জিনিস বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় না, যেসব জিনিসের দামও সমান তালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
‘বাজার সিন্ডিকেটের’ কারসাজিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ বলে প্রায় সব মহল থেকে চিহ্নিত করা হলেও তাকে দমন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়না। সিন্ডিকেটের দু’-একজনের বিরুদ্ধে হালকা ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র গোটা সিন্ডিকেট একজোট হয়ে বেপরোয়া পাল্টা আঘাত হেনে বাজারের ওপর তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে মূল্য নৈরাজ্য আরো বাড়িয়ে দেয়। সরকার তাতে ভয় পেয়ে পিছিয়ে গিয়ে তাদেরকে তোয়াজ করতে শুরু করে। কিন্তু এ ধরনের তোয়াজের দ্বারাও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে কখনো কোনো সুফল আনা গেছে এমন কোনো দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বাজারের ওপর মুনাফালোভীদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রতিষ্ঠিত। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই দ্রব্যমূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারাই নিয়ন্ত্রক হয়ে থাকছে। বাজারের ওপর সরকারের অথবা জনগণের (ক্রেতা বা খোদ উৎপাদকের) কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নেই। পক্ষান্তরে দেশি-বিদেশি লুটেরা সিন্ডিকেটের হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কুক্ষিগত রয়েছে। ফলে মূল্য নৈরাজ্য ও অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এক স্থায়ী প্রবণতা হয়ে থাকছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে সৃষ্ট অসহনীয় পরিস্থিতির গোড়ার কারণ ও উৎস হলো এখানেই।
অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি অবধারিত নয়। মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু তা করতে হলে অর্থনীতি পরিচালনার নীতি ও দর্শনে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। ‘বাজার মৌলবাদ’ (market fundamentalism))-এর অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসতে হবে, ‘ব্যবসার বিষয়ে নাক গলানো সরকারের কাজ নয়’ (govt. has no business to do business)-এই নয়া রক্ষণশীল পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী মতবাদ পরিত্যাগ করতে হবে। ‘বাজার-ই বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে’–এই কথা বলে বাজারের ওপর মুনাফালোভী লুটেরাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ মেনে নিলে বাজার সব সময় কালো শক্তির কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। তাই, সেই ক্ষতিকর নীতি পরিত্যাগ করে বাজারের ওপর জনগণের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকল্পে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা হলো দ্রব্যমূল্য সঙ্কট নিরসনের প্রাথমিক ও অপরিহার্য শর্ত। এসব বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে জনকল্যাণে বিকল্প ধারার প্রয়োগোনুকূল বাস্তবসম্মত সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যে ব্যবস্থাগুলো এখনই গ্রহণ করা প্রয়োজন সেগুলোর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো :
১. বাজারের ওপরে মুনাফা শিকারী লুটেরাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা। ‘অবাধ খোলা বাজার অর্থনীতির’ দর্শন ও ‘মার্কেট ফান্ডামেন্টালিজম’-এর নীতি থেকে বের হয়ে আসা।
২. পাইকারি ও খুচরা বাজারে রাষ্ট্রের প্রভাব-সক্ষমতা সৃষ্টি করা। একই সাথে এ বাজারগুলোতে প্রত্যক্ষ রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের উপযুক্ত ব্যবস্থা ও কার্যক্রম চালু করা।
৩. পৃথক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে গ্রাম-শহরসহ সারা দেশে সাশ্রয়ী, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ‘গণবণ্টন ব্যবস্থা’ (Public Distribution system) চালু করা।
৪. নিম্নআয়ের মানুষের জন্য, বিশেষত দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা। এজন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট ভোটার আইডি কার্ডের মতো ছবিসহ রেশন কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করা। এই দরিদ্র মানুষদের জন্য রেশনে কন্ট্রোল দামে চাল, গম, তেল, ডাল, চিনি এবং প্রয়োজনমত অন্যান্য অত্যাবশ্যক পণ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রদান করা।
৫. টিসিবি’র কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে অত্যাবশ্যক পণ্যসামগ্রীর আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা।
৬. রাষ্ট্রীয় সহায়তায় ন্যায্য মূল্যের দোকান চালু করা এবং ক্রেতা-সমবায় সমিতি সংগঠিত করে দেশব্যাপী তার বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
৭. বিএডিসির কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে সারা দেশে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ যন্ত্রপাতিসহ কৃষি উপকরণ ন্যায্য মূল্যে এবং সময় মতো খোদ কৃষকের কাছে সরাসরি সরবরাহের ব্যবস্থা করা।
৮. মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে উৎপাদক কৃষক ও ক্রেতা সাধারণকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ, ক্রেতা-সমবায় সমিতি প্রভৃতির সাথে উৎপাদক কৃষক ও তাদের সমবায়ের সরাসরি সংযোগ ও লেনদেন প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা।
৯. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে খাদ্যদ্রব্যসহ অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য সামগ্রীর বাফার স্টক গড়ে তোলা।
১০. পণ্য পরিবহনে দুর্নীতি, হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা একই সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন সাধনসহ হাট-বাজারে ইজারাদারি ব্যবস্থা ও তোলা আদায়ের অত্যাচার বন্ধ করা।
১১. পাইকারী ও খোলা বাজারে পণ্যমূল্য তদারকির জন্য ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ (Price Regulatory Authority) প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি উপযুক্ত ‘ক্রেতা স্বার্থ সংরক্ষণ আইন’ প্রণয়ন করা।
১২. আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওপেন মার্কেট সেল, মার্কেটিং অপারেশন, টেস্ট রিলিফ, কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) প্রভৃতি কর্মসূচিসহ সব সময় দ্রুত ‘ঝটিকা কার্যক্রম’ পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা।
১৩. বিলাস দ্রব্য আমদানি কিছু সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা।
১৪. ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিরসনের অনুকূলে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সব সরকারই বলে থাকেন যে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণই হলো এখন তাদের সামনে এক নম্বর কাজ। কিন্তু এটা তাদের নিছকই মন ভুলানো কথার কথা। এ বিষয়ে কাজের কাজ তারা কিছুই করে না। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে উল্লিখিত ধরনের দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে তারা প্রধানত ‘ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা’র ওপর নির্ভর করে পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। এ যাবতকালে সব বাজেটেই প্রধানত এ নীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে।
বাজেটে প্রতিবারই সেই একই গৎবাধা সুরে টিসিবি কার্যক্রমের কথা, দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর নানা প্রজেক্টের কথা বলা হয়ে থাকে। এসব প্রস্তাবের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করে থাকেন যে, এই বাজেট সবদিকের ভারসাম্য রক্ষা করে এমনকি এক আধবার এমন কথাও বলা হয়েছে যে, ‘বাজেটে একই সাথে মার্কস ও বাজারকে তুষ্ট করা হয়েছে’। আসলেই কি তাই?
এ প্রসঙ্গে সেই গল্পের কথাটাই মনে পড়ছে। এক ভদ্রলোক হোটেলে গিয়ে খরগোশের মাংসের ডিশ অর্ডার দেয়ায় হোটেল ম্যানেজার তাকে জানালেন যে তারা আলাদাভাবে খরগোশের মাংস রান্না করে না, খরগোশ ও ঘোড়ার মাংস সমানে-সমানে মিশিয়ে রান্না করে থাকে। বাধ্য হয়ে সেই ‘মিক্সড’ ডিশ অর্ডার দিয়ে তা খাওয়ার পর ভদ্রলোক ম্যানেজারকে ডেকে এনে জানতে চাইলো যে, খাওয়ার সময়’তো খরগোশের মাংস সামান্যই মুখে পড়লো, সব’তো মনে হলো ঘোড়ার মাংস। অথচ আপনি আমাকে মিথ্যা করে কেন বলেছিলেন যে, দুটোকে সমানে-সমানে মিশিয়ে রান্না করা হয়েছে? ম্যানেজার জবাবে বললেন, স্যার! আমি সত্য কথাই বলেছি, ‘একটি ঘোড়ার’ সাথে ঠিক ‘একটি খরগোশের’ পুরোটাই সমানে-সমানে মিশিয়ে এই ডিশ রান্না করা হয়েছে!
বাজারের ওপর ঘোড়ার সমপরিমাণ ‘মুনাফালোভীদের নিয়ন্ত্রণের’ সাথে খরগোশ পরিমাণ ‘রাষ্ট্রীয়-নিয়ন্ত্রণ’ মিশিয়ে যে খাদ্য তৈরি হবে তা ঘোড়ার মাংসের বিস্বাদযুক্ত হতে বাধ্য। এই হলো কিছু বুর্জোয়া পণ্ডিত দ্বারা ‘সমাজতন্ত্রের বাইরে’ মুক্তির দিশা প্রদানকারী বিভিন্ন লেবেল লাগিয়ে ব্যাপক পরিমাণে ফেরি করে প্রচারিত মিশ্র অর্থনীতির প্রকৃত স্বরূপ! ফলে মূল্যস্ফীতি সব সময়ই সাধারণ মানুষের জন্য ‘কাল’ হয়ে থাকবে। বাজেটের আয়তন ও চাকচিক্য যতোই বাড়ানো হোক না কেন এবং তাকে যতো জনতুষ্টিকর আবরণে ও ভাষাপ্রয়োগের অভিনবত্ব দিয়ে হাজির করা হোক না কেন–তাতে জনকল্যাণ সাধিত হবে না। মূল্যস্ফীতিই সব শুভ উদ্যোগের ‘টায়ার পাংচার’ করে দিবে।
‘ভাঙ্গা কপালের’ এই নিয়তি বদলাতে হলে, পুঁজিবাদের প্রমাণিত দেউলিয়া ব্যবস্থা পরিত্যাগ করে ‘সমাজতন্ত্র অভিমুখীনতার’ প্রগতিবাদী পথ গ্রহণ করতে হবে।
প্রথম পাতা
হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছাড়ালো
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ
পার্টিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে
প্রগতিশীল শক্তির সুসংহত ও সীমানাহীন অঙ্গীকার প্রয়োজন
প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোক
অনেক সমালোচনা আর বিতর্কের বিশ্বকাপ
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি টিইউসি’র
সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে দোষীদের শাস্তির দাবি
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন