
২০১৯ সালের ২৯ মে দিবাগত রাতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছিল অপ্রত্যাশিত। তাঁর প্রয়াণ বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও বামপন্থী রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনিসংক্রান্ত রোগে ভুগছিলেন। শেষের দিকে নিউমোনিয়া ও বিরল স্টিভেন্স জনসন সিনড্রমে আক্রান্ত হলে, তাঁকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসার এক পর্যায়ে তিনি সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। মৌলভীবাজারের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছিল। যানজটের কথা ভেবে পল্টনের দিক এড়িয়ে কাঞ্চন ব্রিজের রুট দিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হয়। কিন্তু জাফর ভাই বলেছিলেন, “পল্টন হয়েই যেতে হবে। পার্টি অফিসে আমার কিছু জরুরি কাজ আছে।” শেষ পর্যন্ত পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস হয়েই মৌলভীবাজারের বাড়িতে ফিরে গেলেন জাফর ভাই। কিন্তু তখন তিনি নিথর, প্রাণহীন। পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে পার্টির কাস্তে-হাতুড়ি খচিত লাল পতাকায় তাঁর মরদেহ ঢেকে দেওয়া হয়। সমবেত কণ্ঠে ‘আন্তর্জাতিক’ গেয়ে, অশ্রুসিক্ত নয়নে লাল সালাম জানিয়ে আমরা তাঁকে শেষ বিদায় জানিয়েছিলাম।
১৯৫৪ সালের ১১ জুলাই বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক গতিতে এগোতে পারেনি। ১৯৭৯ সালে তিনি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র পূর্ব জার্মানিতে এক বছর মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ওপর উচ্চতর রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে দেশ যখন উত্তাল, তখন তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন। মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে তিনি দ্রুতই জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হয়ে ওঠেন এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ সম্পাদক (ভিপি) নির্বাচিত হন। ছাত্র ইউনিয়নের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ছাত্রজীবন শেষে ভোগবাদী জীবনের সমস্ত মোহ ও সুযোগকে ছুঁঁড়ে ফেলে দিয়ে, হয়ে ওঠেন মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের একজন সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী।
কমরেড সৈয়দ আবু জাফরের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের দুটি পর্যায় রয়েছে। প্রথমত, তিনি মৌলভীবাজার-সিলেট অঞ্চলে পার্টি ও গণসংগঠন গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয়ত, মৌলভীবাজার-সিলেটের আঞ্চলিক গণ্ডি পার করে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও দুটি ধাপ ছিল। শুরুতে তিনি মৌলভীবাজারে অবস্থান করেই কেন্দ্রের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তী সময়ে, ২০১০ সালে ঢাকায় চলে আসেন। তখন থেকে পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনস্থ পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসই হয়ে ওঠে তাঁর ঠিকানা। পার্টি অফিসের একটি কক্ষেই তিনি রাত্রিযাপন করতেন।
কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ পার্টির নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন তিনি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পার্টির পঞ্চম কংগ্রেসে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত বিশেষ কংগ্রেসে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত দশম কংগ্রেসে এবং ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ কংগ্রেসে তিনি পরপর দুইবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ১৯১৭ সালে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। আমৃত্যু তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
বাংলাদেশের গ্রামীণ সর্বহারা ক্ষেতমজুরদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে কমরেড জাফর সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন একজন শীর্ষ নেতা। তিনি সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সিলেটের চা-শ্রমিকদের সুদীর্ঘকালের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক শব্দকর জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সবসময় অগ্রণী ও উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছেন। মেহনতি রিকশা শ্রমিকদের সংগঠিত করার পেছনেও তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে।
সিলেটে চা-শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৯৭২ সালে ছাত্রাবস্থায় তিনি প্রথম কারাবরণ করেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিনাবিচারে দীর্ঘ এক বছর কারাভোগ করতে হয়।
কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনীর একজন যোদ্ধা হিসেবে জীবনবাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি গেরিলা ট্রেনিং গ্রহণ করেন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে। ওই উত্তাল আন্দোলন-সংগ্রামে সোচ্চার ভূমিকার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হন। স্বাধীন দেশে একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যখন আন্দোলন গড়ে ওঠে, তখন মৌলভীবাজারে এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি।
সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন পেশাজীবী-সামাজিক-সাংস্কৃতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে বহুজাতিক কোম্পানি ‘সিমিটার’-এর দেশবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঢাকা-সিলেট পদযাত্রা সফল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাগুরছড়া ও টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণে যে জাতীয় ক্ষতি হয়েছিল, তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ঢাকা-বিবিয়ানা লং মার্চে সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক হিসেবে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তেল-গ্যাস জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে তাঁর লড়াকু ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনেও তাঁর ছিল অবাধ ও সাবলীল বিচরণ। মৌলভীবাজারে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠনটির কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাংস্কৃতিক জাগরণ ছাড়া রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ সম্ভব নয়।
গভীর রাজনৈতিক-তাত্ত্বিক জ্ঞান আর সাংগঠনিক দক্ষতার এক অপূর্ব ও বৈপ্লবিক সমন্বয় ছিল কমরেড জাফরের মধ্যে। গণমানুষের মুক্তির জন্য তিনি যেমন রাজপথে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তেমনই আমৃত্যু সক্রিয় ছিল তাঁর কলম। ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে মৌলভীবাজারের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক মনুবার্তার সম্পাদক-প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পত্রিকাটি পাঠকদের কাছে বেশ সমাদৃত ছিল।
কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ নানামাত্রিক তৎপরতার সঙ্গে আজীবন যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন বহু ব্যতিক্রমী ও মানবিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এক বিরল মানুষ। জনসভায় তিনি যেমন তাঁর ওজস্বী বক্তৃতায় ঝড় তুলতেন, তেমনি ঘরোয়া আড্ডা বা পার্টির আনুষ্ঠানিক সভায় তিনি যেভাবে অকাট্য যুক্তি উত্থাপন করতেন, তা ছিল এক কথায় অসাধারণ ও শিক্ষণীয়। নির্বাচনী লড়াইকে তিনি কখনও এড়িয়ে যাননি, পার্টির বার্তা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে চার বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
কমরেড জাফর ছিলেন জনগণের সত্যিকারের এক দরদি নেতা। শোষিত মানুষের প্রতি ছিল তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা। নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রতি ছিলেন দায়িত্বশীল। পার্টির কর্মীদের প্রতি তাঁর ছিল গভীর মমত্ববোধ। তাঁর অগণিত ভক্ত, অনুরাগী, বন্ধু ও আপনজন দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছেন। তিনি সবাইকে খুব সহজেই আপন করে নিতে পারতেন। নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করা সত্ত্বেও কোনো প্রকার ‘নেতাসুলভ অহমিকা’ বা দম্ভ তাঁর মধ্যে ছিল না। নানা গুণের অধিকারী হলেও, নিজেকে কখনও জাহির করতে পছন্দ করতেন না। তিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ এক খাঁটি মানুষ।
কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য যখন তিনি ঢাকায় চলে আসেন, তখন অল্পদিনের মধ্যেই সবার হৃদয়ে একটি স্থায়ী আসন তৈরি করে নিতে পেরেছিলেন। সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি দ্রুততার সঙ্গে ঢাকাসহ দেশব্যাপী পার্টির স্বাভাবিক নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দেখে কারও কখনই মনে করার সুযোগ হয়নি যে, তিনি মফস্বলের একটি ছোট্ট শহর থেকে উঠে এসেছেন। তিনি অনেকেরই আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিলেন।
নব্বইয়ের দশকে সিপিবির ওপর পার্টির ভেতর থেকেই এক চরম আঘাত আসে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের অনভিপ্রেত বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে, সিপিবির অভ্যন্তরে সুবিধাবাদী ও বিলোপবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তারা পরিকল্পিতভাবে কমিউনিস্ট পার্টিকে বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্রে নামে। কিন্তু বিলোপবাদীদের সেই চক্রান্ত রুখতে সিপিবির ভেতরেই আদর্শিক লড়াই শুরু হয়। পার্টির বিশেষ কংগ্রেস আহ্বান করা হয়। এই সংকটময় সময়ে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির মাত্র ১৩ জন সদস্য বিকল্প দলিল নিয়ে পার্টি রক্ষার ঐতিহাসিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। কমরেড জাফর ছিলেন সেই ১৩ জন সদস্যের একজন। বিলোপবাদীদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়। বিপ্লবী লাইনে নবউদ্যমে পার্টির কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলে। সেই কঠিন সময়ে কমরেড জাফরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কমরেড জাফর আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা। রাজনীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি কখনও আপস করেননি। তিনি ছিলেন বিনয়ী, সজ্জন ও চারিত্রিক দৃঢ়তার অধিকারী। পার্টির নীতি-আদর্শ ও রাজনৈতিক লাইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি কখনই রক্ষণাত্মক ছিলেন না, ছিলেন আপসহীন। বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির বলয় গড়ে তোলার প্রশ্নে তিনি নিরন্তর কাজ করেছেন। দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে বৃহত্তর প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য গড়ে তোলার ব্যাপারেও আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ ছিলেন একজন প্রকৃত মার্কসবাদী বিপ্লবী। তিনি কেবল সমাজবিপ্লবের স্বপ্নই দেখতেন না, বরং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা করতেন এবং কাজ করতেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর রাজনৈতিক শিরদাঁড়া ছিল অত্যন্ত শক্ত ও ঋজু। কোনো পরাজয় বা হতাশা তাঁকে কখনও স্পর্শ করতে পারেনি। বর্তমান বুর্জোয়া রাজনীতির চরম আদর্শহীনতার বিপরীতে তিনি ছিলেন সততা, নীতি ও আদর্শনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তরুণ প্রজন্মের কাছে কমরেড জাফর একজন অনুকরণীয় ও দিকনির্দেশক নেতা। তাঁর ত্যাগী ও কর্মময় বিপ্লবী জীবন থেকে আজকের তরুণদের সমাজ পরিবর্তনের পাঠ ও শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার এই অনন্ত সংগ্রামে তাঁর বৈপ্লবিক ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের প্রতিটি বিপ্লবী লড়াইয়ে তিনি চিরকাল প্রেরণার এক অফুরন্ত উৎস হয়ে থাকবেন। আদর্শিক লড়াইয়ে এই মহান বিপ্লবীর কোনো মৃত্যু নেই। আমাদের প্রতিদিনের, প্রতি মুহূর্তের রাজপথের মিছিলে তথা মেহনতি মানুষের লড়াইয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ-লাল সালাম!
লেখক : সদস্য, সিপিবি, কেন্দ্রীয় কমিটি