বিশ্ব আবার ‘জঙ্গলের আইনে’ ফেরার ঝুঁকিতে : সি পুতিন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : কিছু দেশ ঔপনিবেশিক আমলের মানসিকতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিশ্ব আবারও ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক যৌথ ঘোষণায় এ কথা বলেন।কোন দেশের উদ্দেশে এ কথা বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে একই ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনার সমালোচনা করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছান পুতিন। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের বিখ্যাত ‘গ্রেট হলে’ সি ও পুতিনের বৈঠক হয়। বৈঠকে তাঁরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। এমন এক সময়ে পুতিন চীন সফর করেন, যার মাত্র ছয় দিন আগে চীন সফর শেষে দেশে ফেরেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সফরে বেইজিংয়ের সেই একই হলে ট্রাম্প ও সি দুই ঘণ্টার বেশি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন।সি ও পুতিনের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্পের গোল্ডেন ডোম তৈরির পরিকল্পনা সারা বিশ্বের কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির বিকল্প তৈরি নিয়ে কাজ না করে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখার সর্বশেষ কার্যকর চুক্তি ‘নিউ স্টার্টের’ কথা বলা হয়েছে। চুক্তিটির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। চুক্তিটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া; কিন্তু ট্রাম্প তাতে রাজি হননি। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, এবার নিয়ে ২৫তম বারের মতো চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে যান পুতিন। তবে পুতিন ও সি এ পর্যন্ত ৪০ বারের বেশি সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি জানায়, সি ও পুতিন প্রথমে একান্তে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। পরে প্রতিনিধিদলসহ বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে আলোচনাকে ‘গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন সি। অন্যদিকে পুতিন রাশিয়া-চীন সম্পর্ককে ‘আধুনিক বিশ্বে আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের একটি মডেল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই অংশীদারত্ব সমান অধিকার, পারস্পরিক সমর্থন এবং ‘অকৃত্রিম বন্ধুত্বের’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।উল্লেখ্য, চলতি বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারত্বের সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী এবং চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী উদ্যাপন করছে। পুতিনের সফরের আগে মস্কো ইঙ্গিত দেয়, তারা চীনের সঙ্গে আরও জ্বালানিচুক্তি করতে আগ্রহী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ চীন সফর করেছিলেন পুতিন। তখন রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বৃহত্তম জ্বালানি সংস্থা গাজপ্রম জানিয়েছিল, উভয় পক্ষ ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন প্রকল্প এগিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে মঙ্গোলিয়া হয়ে রাশিয়া থেকে চীনে বছরে ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। চীন প্রকল্পটি নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন একটা কথা বলে না। তবে সি পাইপলাইনের কথা সরাসরি উল্লেখ না করে বলেন, জ্বালানি ও সম্পদের সংযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা চীন-রাশিয়া সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা হওয়া উচিত। ক্রেমলিন জানিয়েছে, উভয় পক্ষ প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..