সাহস ও আদর্শের মূর্ত প্রতীক সৈয়দ উপল বখত

Posted: 04 অক্টোবর, 2026

মহাবিশ্বের কালের স্রোতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। আমাদের অনেকেই গৎবাঁধা জীবনকে টেনে নিয়ে যাই মৃত্যু অবধি। কিন্তু কেউ কেউ এই গতানুগতিক জীবনকে পেরিয়ে যান। তাদের মেধা আর কর্মের মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ করে তোলেন। সেই জীবন কেবলমাত্র ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে সীমিত থাকে না। সেই জীবন ছুঁয়ে যায় আরো অনেক জীবন, সেই জীবন আশা ও আলো হয়ে জ্বলে আরো অনেক জীবনে। সেই জীবন স্বপ্ন হয়ে জাগে অনেক প্রাণে। সেই জীবনের ব্যপ্তি আয়ুর সময়কাল দিয়ে নয় বরং কর্ম ও প্রভাব, সাহস ও আদর্শের গুণে বিস্তৃতি লাভ করে। এমন জীবনই যাপন করেছেন সৈয়দ উপল বখত। দেশের মানুষের গড় আয়ুর বিবেচনায় মাত্র ঊনষাট বছরে তার মৃত্যু অকালই বটে। সৈয়দ উপল বখত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা কিন্তু নিজেকে কর্মী হিসাবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। উপলের রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি হয় ১৯৮২ সনে এসএসসি পরীক্ষার পরে এরশাদের সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে। জেনারেল এরশাদ সেই বছরেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করেছেন। ভয়-ভীতি, সামরিক ফরমানের বাঁধা ডিঙিয়ে ১৯৮৩ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়। এই আন্দোলন সকল ছাত্রদের মতো উপলের জীবনেও আলোড়ন তোলে, উপল তখন নটরডেম কলেজের ছাত্র। এইচএসসি পরীক্ষার পর উপল ক্রমশঃ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে আরো বেশি করে জড়িয়ে পড়তে থাকেন। সামরিক শাসনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় গ্র্রেপ্তার হলে নির্যাতন, নিপীড়ন এমনকি মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই সেই সময়ের আন্দোলনে ছাত্র-যুবকেরা অংশ নিয়েছিল। উপল সেই অকুতোভয় ছাত্রদেরই একজন। শুরুতে উপল কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন না, কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সাথে থেকেই উপল নিয়মিত এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে থাকেন। উপলের বাবা ছাত্রজীবনে বামপন্থি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন, পরিবারেও অনেক বামপন্থি তাত্ত্বিক ও নেতাদের আনাগোনা ছিল। এর প্রভাব উপলের রাজনৈতিক অনুধাবন ও অবস্থানে পড়াই সঙ্গত। আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় উপল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। সেই সময়ের অসংখ্য ছাত্রের মতো উপলের জীবনও শিক্ষা ও রাজনীতির সমান্তরালে প্রবাহিত হতে থাকে। সময়ের পরিক্রমায় উপল ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক কর্মী রূপে। নিষ্ঠা, সততা ও কর্মকুশলতায় দল-মত নির্বিশষে সকলের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন উপল। তাঁর মূল রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্র ছিল ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা ও নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। উপল ছিলেন দক্ষ সংগঠক, অকুতোভয়, সাহসী— এলাকার অসংখ্য সভা-সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন হয়েছে উপলের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বে। সেই সময়ের আন্দোলনরত অন্যান্য সংগঠনের সাথে সমন্বয় ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে উপল দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সমসাময়িক অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কাছে উপলের গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত। নব্বই-এর দশকের মোহাম্মদপুরের প্রতিটি অলি-গলি-পথ, প্রতিটি ধুলিকণা উপলকে চিনতো। ১৯৬৭ সনের ৭ মার্চ খুলনা শহরে বড় খালার বাসায় বাবা সৈয়দ দীদার বখত ও মা বেগম নুরুন্নাহারের ঘর আলো করে জন্ম নেন সৈয়দ উপল বখত। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তেতুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী হাশেমী পরিবারের উত্তরাধিকার বহন করেছেন উপল। এই পরিবারের রয়েছে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম আন্দোলনের ইতিহাস। উপলের দাদা সৈয়দ সরফুদ্দীন হাশেমী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা হিসাবে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের একজন কমান্ডার ছিলেন। সৈয়দ সরফুদ্দীন হাশেমীর ভাই সৈয়দ জালাল উদ্দিন হাশেমী ১৯৪২ সনে বঙ্গীয় আইনসভার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন ও পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিলুপ্তি এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের একজন দৃঢ় প্রবক্তা ছিলেন। তিনি ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় আইনসভায় জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি দাবি করে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় উপলের পিতা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। উপলের চাচা সৈয়দ বেদার বখত মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। স্বাধীনতার পরে উপলদের পরিবার ঢাকার মগবাজারে বসবাস আরম্ভ করেন। সেখানেই ১৯৭২ সনে ‘নজরুল শিক্ষালয়ে’ ভর্তির মাধ্যমে উপলের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৯৭৪ সনে উপলদের পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে আসেন এবং সেখানের স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৭৬ সনে উপল আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং এই স্কুল থেকেই ১৯৮২ সনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। একই বছরে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নটরডেম কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৮৪ সনে এই প্রতিষ্ঠান থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৫ সনে সৈয়দ উপল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবী মা-বাবার জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসাবে উপল শৈশব থেকেই আত্মনির্ভরশীলতার পাঠ নিয়ে জীবনকে অগ্রসর করেছেন। কাকডাকা ভোরে মা ঘুমঘুম চোখের উপলকে স্কুলে রওনা করিয়ে দিয়েছেন। স্কুল থেকে ফিরে নিজ ও একমাত্র বোনের দায়িত্ব উপলকেই সামলাতে হয়েছে। স্কুলে পড়াকালীন সময়ে উপল জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার শাখা মোহাম্মদপুর তরঙ্গ কচি-কাঁচার মেলার সাথে যুক্ত হন এবং তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। নব্বই-এর দশকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রায় একক দক্ষতায় মোহাম্মদপুর তরঙ্গ কচি-কাঁচার মেলাকে সচল রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে উপল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং সুচারুরূপে তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। উপলের জীবনের যে বিস্ময়কর দিকটি তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানতেন তা অনেক রাজনৈতিক সহযোদ্ধাও অনেক পরে জেনেছিলেন। উপলের জীবনের এই বিশেষ দিকটি তাঁকে স্বতন্ত্র ও অনন্য করেছে। উপলের পিতা সৈয়দ দীদার বখত এরশাদ সরকারের মন্ত্রীসভায় ছিলেন। আর উপল রাজপথে এই সরকারের বিরুদ্ধেই আন্দোলন করছেন, লড়াই করছেন। উপলের চোখে এরশাদ স্বৈরাচারী, গণতন্ত্রের পথের কাঁটা। উপলের এই লড়াই প্রকারান্তরে পিতার বিরুদ্ধে লড়াইও। উপলের রাজনৈতিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার, বৈষম্য বিরোধী সাম্যের যে আকাঙ্ক্ষা তা ছিল ইস্পাত কঠিন। উপল লক্ষ্যে ছিলেন অবিচল, নীতির প্রশ্নে ছিলেন দৃঢ়। তাই পিতার রাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষিতে তা অচিন্তনীয় বলা চলে। আর তাই উপল নির্ভীক তারুণ্যের উদাহরণ হয়ে থাকেন। উপল আমাদের নায়ক; রাজপথে ছিলেন, লড়াইয়ে ছিলেন, মিছিলে ছিলেন, শ্লোগানে ছিলেন। থাকবেন আগামী দিনে, প্রেরণা হয়ে। ছাত্রজীবনেই উপল চাকরি না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ব্যবসাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন সন্তান হিসাবে নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসাবে দাঁড় করানোর কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। ছোটখাট ব্যবসা দিয়ে শুরু করেন তার পেশাগত জীবন। এক পর্যায়ে গড়ে তোলেন রেইনবো প্রিন্টিং কমপ্লেক্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ইন্টারপ্যাক লিমিটেড-এ পরিচালক হিসাবে যোগ দেন, আমৃত্যু এই দায়িত্ব পালন করেন। প্রগতিশীল অনেক প্রকাশনা ইন্টারপ্যাকের সহযোগিতায় আলোর মুখ দেখেছে। উপল ছিলেন সর্বভূক পাঠক। শৈশবেই উপল বইয়ের জগতের সাথে সখ্য পাতিয়েছিলেন। গোয়েন্দা কাহিনি, থ্রিলার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক গ্রন্থ সবই পড়েছেন। নিজেকে ঋদ্ধ করার পাশাপাশি সংগঠনে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য বইপড়াকে মাধ্যম করেছিলেন। যাকে সংগঠনে আনবেন তার পছন্দের লেখক ও বই দিয়েই শুরু করতেন, বই উপহার দিতেন এবং নিজেও তা পড়ে ফেলতেন আলাপ-আলোচনা ও বোঝাপড়া সহজভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য। সেই সময়ে উপলের প্রিয় বই ছিল সমরেশ মজুমদারের ট্রিলজি—উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ। উপল ছিলেন একজন ক্রীড়া প্রেমিক। ফুটবল ও ক্রিকেট ছিল তাঁর পছন্দের খেলা। দেশে যখন ক্রিকেট জনপ্রিয় হয়নি তখন সেই ছাত্র জীবন থেকেই উপল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখতেন। দেশীয় অঙ্গনে উপল ছিলেন আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সমর্থক এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমর্থক, বাংলাদেশ তখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্থান করে নেয়নি। উপল একজন সফল ক্রীড়া সংগঠকও। তরুণ ও নবীন ক্রিকেটারদের উৎসাহ ও সহায়তার ক্ষেত্রে ছিলেন অকৃপণ। ইয়াং পেগাসাস ক্লাব ও ইয়াং টেরিপাস ক্লাবের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইয়াং টেরিপাস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। উপলের বন্ধুভাগ্য ঈর্ষণীয়। যেখানেই গিয়েছেন তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোক বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সকলকে আপন করে নিয়েছেন। উপল মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কখনোই পড়েননি কিন্তু এলাকায় থাকার সুবাদে বন্ধুদের সাথে এমনভাবে মিশেছিলেন, যুক্ত হয়েছিলেন যে অনেকেই তাঁকে এই স্কুলের ছাত্র হিসাবেই জানতো এবং সত্যটি জানার পর বিস্মিত হতো। উপল বন্ধুদের বিপদ-আপদ ও সংকটে পাশে থেকেছেন, সাধ্যের অতিরিক্ত দিয়ে করেছেন। উপল গান শুনতে ভালোবাসতেন। উপলের প্রিয় শিল্পী ছিলেন পপ-সম্রাট আজম খান। শৈশবেই মনে দাগ কেটে দেয়া ‘আলাল ও দুলাল’ ও ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’ তার পছন্দের শীর্ষে ছিল। শুধু পপ সঙ্গীত নয়, সব ধরণের গান শুনতেন। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গাওয়া গণসঙ্গীতের বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। প্রিয় গানের তালিকায় আছে মৌসুমী ভৌমিকের ‘আমি শুনেছি সেদিন’, কৃষ্ণকলির ‘বন্ধু তোমার চোখের মাঝে’, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘ধীতাং ধীতাং বোলে’ এবং গণসঙ্গীত ‘লাঞ্চিত নিপীড়িত জনতার জয়’ ইত্যাদি। ১৯৯৬ সনে উপল প্রতিথযশা শিক্ষাবিদ, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ এ কে নাজিবুল হক আনসারীর কন্যা ফাহমা নাদিয়া আনসারী রুমুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উপল-রুমু দম্পতির তিন সন্তান; জ্যেষ্ঠ কন্যা সৈয়দা অর্পা হাশেমী স্থপতি, কনিষ্ঠ কন্যা সৈয়দা অর্চিতা হাশেমী ক্যালফোর্নিয়ার মিডলবুরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এ মাস্টার্স পর্বে অধ্যয়ন করছেন, একমাত্র পুত্র সৈয়দ আরান বখত হাশেমী ঢাকার সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ২০১৭ সালে সৈয়দ উপল গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত হন। তার অন্ত্রের অর্ধেকের বেশি অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করতে হয়। প্রাণ সংশয়ের আশংকা হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা, উপলের মানসিক জোর, স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের ভালোবাসা তাকে ফিরিয়ে এনেছিল সেই যাত্রায়। কিন্তু গত ৩ আগস্ট ২০২৬ একেবারেই হঠাৎ আমাদের সবাইকে স্তম্ভিত করে উপল পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তলোকে। তার এই আকস্মিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে দুঃখ ও কান্নার সাগরে নিমজ্জিত করেছে। উপল নেই কিন্তু উপলের স্মৃতি সতত আমাদের সাথী হয়ে থাকবে। উপলের স্বপ্ন ও সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। উপল আমাদের চিরদিনের সাথী। আমাদের আত্মার আত্মীয়। লেখক : চিকিৎসক, লেখক ও সাবেক ছাত্রনেতা