অর্থ ব্যয়ে ‘অসমর্থ’ সরকার
কিনছে ২৫ মার্কিন বিমান
Posted: 04 অক্টোবর, 2026
একতা প্রতিবেদক :
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট এবং বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জোটের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, সরকার শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানসহ অগ্রাধিকারমূলক খাতে অর্থবিনিয়োগ করতে না পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় করে ২৫টি বোয়িং বিমান কিনছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। অন্যদিকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক নাগরিক সেবার সংকট মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণ নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আদানিসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পনির কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে সেই বাড়তি মূল্য জনগণের কাঁধে চাপাচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। উপরন্তু ক্রমাগত বিদ্যুৎ জা¦ালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে একটি গোষ্ঠীকে লাভবান করে যাচ্ছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে ও বাসদ (মাহবুব)’র কেন্দ্রীয় নেতা মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ প্রমুখ।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমাবেশে বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবন আজ গভীর সংকটের মুখে। দেশের বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়ছে। হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার ভূমিকা না রাখায় চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, একদিকে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যা সরকারের গুরুতর ব্যর্থতা।
সমাবেশ থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, মজুতদারি ও বাজার কারসাজি বন্ধ, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, জনগণের মৌলিক প্রয়োজন, নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানুষের উপর একের পর এক সংকটের বোঝা চাপানো বন্ধ করতে হবে।
সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।