ভরা মৌসুমেও মিলছে না পদ্মার রুপালি ইলিশ

Posted: 27 সেপ্টেম্বর, 2026

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা : পদ্মা নদীর কথা বলতেই মাথায় আসে রুপালি ইলিশের ঝাঁকের কথা। একসময় পদ্মার বুকে জাল ফেললেই দেখা মিলত ইলিশের। ভরা মৌসুমে নদীতে ব্যস্ততা বাড়ত জেলেদের, জমজমাট হয়ে উঠত নদীপাড়ের মাছের ঘাট, দূর-দূরান্তের ক্রেতারা আসত ইলিশ নিতে। মাছ ধরেই চলত বহু পরিবারের সংসার। কিন্তু সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকবছর ধরে পদ্মায় জাল ফেললেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। মাছ ধরতে সময় ও খরচ বাড়লেও কমেছে আয়। ফলে জীবিকার তাগিদে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন জেলেরা। পদ্মা ও যমুনাবেষ্টিত মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকা নদী দুটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশ ছিল এখানকার জেলেদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। কয়েক বছর ধরে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় সেই নির্ভরতা এখন সংকটে রূপ নিয়েছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পলি জমে চর ও ডুবোচর সৃষ্টি, পানিদূষণ, ইলিশের খাদ্য কমে যাওয়া, মিঠাপানির প্রবাহের পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত কারণে পদ্মায় ইলিশের বিচরণ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জালে জাটকা ও মা ইলিশ ধরার কারণেও ইলিশের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের মৎস্য অধিদপ্তরের ‘ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ’র ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পদ্মা নদীতে ইলিশের আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে লোয়ার পদ্মা নদীতে ইলিশ আহরণ হয় ১ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১১৭ মেট্রিক টনে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সামান্য বেড়ে হয় ১ হাজার ১২২ মেট্রিক টন।