সাধারণের তুলনায় অ্যাডভান্সড এআই ১৩৬ গুণ বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে
Posted: 27 সেপ্টেম্বর, 2026
একতা প্রযুক্তি ডেস্ক :
সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় জটিল কাজ করতে সক্ষম অ্যাডভান্সড এআই এজেন্টগুলো (অও অমবহঃং) প্রতি কুয়েরিতে বা প্রশ্নে ১৩৬.৫ গুণ বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (কেএআইএসটি) গবেষকেরা এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছেন।
গবেষণাপত্রটি ২০২৬ সালের আইইইই ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটার আর্কিটেকচারে প্রকাশিত হয়েছে। এতে এআই এজেন্ট পরিচালনায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের আড়ালে থাকা প্রকৃত ব্যয় পদ্ধতিগতভাবে পরিমাপ করা হয়েছে।
এআই এজেন্ট কেন বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে
সাধারণ চ্যাটবট সাধারণত ব্যবহারকারীর প্রশ্ন গ্রহণ করে সরাসরি উত্তর তৈরি করে। অন্যদিকে, এআই এজেন্ট কোনো কাজ সম্পন্ন করতে নিজে থেকে পরিকল্পনা করে, একাধিক ধাপে সিদ্ধান্ত নেয় এবং সার্চ ইঞ্জিন, ক্যালকুলেটর বা অন্যান্য বাহ্যিক টুল ব্যবহার করে।
প্রয়োজনে এটি একই কাজের বিভিন্ন ধাপ বারবার বিশ্লেষণ করে এবং ফলাফল যাচাই করে। গবেষকদের মতে, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্টের উত্তর দিতে সর্বোচ্চ ১৫৩ দশমিক ৭ গুণ বেশি সময় লাগতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই এজেন্ট বাহ্যিক ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশন থেকে তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও ব্যয়বহুল গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ সচল থাকে। মোট কাজের সময়ের সর্বোচ্চ ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ জিপিইউ কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকেও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, ভবিষ্যতে এআই এজেন্ট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলে এবং প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৭০ কোটি অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণ করলে ডেটা সেন্টারগুলোর মোট বিদ্যুৎচাহিদা প্রায় ১৯৮ দশমিক ৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্তরাষ্ট্রের গড় মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকের সমান। গবেষকদের সতর্কতা, বর্তমান বৈশ্বিক বিদ্যুৎ অবকাঠামো এ ধরনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়।
গবেষণা দলের নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক রু মিন-সু বলেন, এআইকে আরও বুদ্ধিমান করে তোলার পাশাপাশি সেই বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা ও টিকিয়ে রাখতে কত বিদ্যুৎ এবং অর্থ প্রয়োজন, এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো তা পরিমাণগতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সম্ভাব্য টেকসই সংকট এড়াতে তিনি এআই মডেল, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে একসঙ্গে বিবেচনা করে উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। এই পদ্ধতিকে গবেষকেরা ‘কো-ডিজাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।