সার সংকটসহ কৃষকের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে

Posted: 27 সেপ্টেম্বর, 2026

একতা প্রতিবেদক : উর্বর কৃষি জমি নষ্ট করে, বসতভিটা থেকে মানুষকে উচ্ছেদ করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন বন্ধ এবং সার সংকট সমাধানসহ কৃষকের সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। গত ২০ সেপ্টেম্বর পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি দলের লোকজন ক্ষমতা, প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় সাধারণ কৃষকের জমিতে জোর করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নানা পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগের সময়ই বিভিন্ন জেলায় ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে নির্মাণের ফলে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দলীয় লোকজন তাদের পকেট ভারী করার জন্য প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত আদায় করে সাধারণ কৃষকদের বেকায়দায় ফেলছে। সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএমএ সবুর, ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের জুলফিকার আলী, বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফোরামের আসাদুর রহমান আসদ, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের ওবায়দুল্লাহ মুসা, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, নির্বাহী কমিটির সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন জেলায় সারের জন্য কৃষকের হাহাকার দেখা যাচ্ছে। সরকার বলছে, পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। কিন্তু চাষীরা সে সার কিনতে পারছে না। ফলে অনেক জমিতে ফসল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া কৃষি উপকরণের দাম চড়া। বিভিন্ন জেলায় কৃষক ধানের দাম পাচ্ছে না, ফলে বাড়িতেই সে ধান নষ্ট হচ্ছে। হাওর অঞ্চলে এবার ধান হারিয়েছে বেশিরভাগ কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ কৃষক কোন সাহায্য সহযোগিতা পায় নি। কৃষক বছরের পর কৃষিতে লোকসান গুনছে। অন্যদিকে ফরিয়ারা পরিশ্রম না করেও কৃষকের হক কেড়ে নিচ্ছে। সভা থেকে ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধের দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং ৫ অক্টোবর বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন, সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়া কৃষকের সার সমস্যার সমাধান, কৃষি উপকরণের দাম কমানো, ধানের লাভজনক দাম, রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আগামী ২৩-২৯ সেপ্টেম্বর দাবি সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।