জাতিসংঘে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী বক্তব্যের নিন্দা সিপিবির
Posted: 27 সেপ্টেম্বর, 2026
একতা প্রতিবেদক :
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী, হুমকিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের মঞ্চকে অত্যন্ত অশ্লীলভাবে রঙ্গমঞ্চে পরিণত করেছেন।
সিপিবি বলেছে, বিশ্বের সর্বোচ্চ বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক মঞ্চ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ও যুদ্ধনীতির সাফাই গেয়েছেন এবং চুক্তি না হলে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বাভাবিককরণের অপচেষ্টা করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কিউবা প্রসঙ্গেও ট্রাম্পের বক্তব্য সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের পুরোনো রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি কিউবা সম্পর্কে শিষ্টাচার বহির্ভূত অশালীন শব্দমালা প্রয়োগ করেছেন। একইসঙ্গে ট্রাম্প কিউবায় যে মৌলিক পরিবর্তন আনার হুমকি দিয়েছেন, তা একটি জবরদস্তিমূলক আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদবিরোধী অসদাচরণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য চাপ ও হস্তক্ষেপের এই ঘোষণা জাতিসংঘ সনদের নীতি এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পরিপন্থি। কিউবার জনগণের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল কিউবার জনগণের; কোনো পরাশক্তি তা নির্ধারণ করতে পারে না। সিপিবি কিউবার ওপর দীর্ঘদিনের মার্কিন অবরোধ, চাপ ও হস্তক্ষেপের অবসান এবং কিউবার সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জ্ঞাপন করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারকে যুদ্ধের বদলে শান্তি, আধিপত্যের পরিবর্তে বৈশ্বিক সমতা এবং সামরিক জোটের পরিবর্তে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পক্ষ অনুসরণ করতে হবে।
সিপিবি বিশ্বব্যাপী চলমান শান্তি, গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।