এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না

Posted: 27 সেপ্টেম্বর, 2026

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে হাসিনা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ৩৬ দিনের লড়াইয়ে সরকারি হিসাবে আটশত ছাত্র-শ্রমিক-জনতা জীবন দিয়েছে। ২৫ হাজারের অধিক তরুণ আহত হয়েছে, অনেকে চিরজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছে। এই অসংখ্য আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অর্জিত বিজয় বেহাত হয়েছে ড. ইউনূস গংয়ের অবিমৃষ্যকারিতার জন্য। সারা পৃথিবীর রাজা, বাদশাহ, রাজকুমারি, প্রেসিডেন্টদের সাথে ওঠা-বসার কারণে অনেকে ভেবেছিল ড. ইউনূস একটা ব্র্যান্ড। তার ১৮ মাসের শাসনে প্রমাণিত হয়েছে যত গর্জে তত বর্ষে না। ব্র্যান্ড ইউনূস ফেল, ঢাহা ফেল। পাশ্চাত্য মানসিকতার ড. ইউনূস, কিন্তু তারই প্রত্যক্ষ মদদে ’৭১-এর ঘাতক, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, পশ্চাৎপন্থি জামাত-শিবির চক্র ও অন্যান্য মৌলবাদী শক্তির ক্ষমতায়ন হয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসনে অন্যদের বঞ্চিত করে জামাতিদের পদায়ন করেছিল ইউনূস প্রশাসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার জামাতিদের নির্বাচিত হওয়ার একটা পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করেছিল, কিন্তু স্বাধীনতা প্রিয় মানুষ তাদের সকল চেষ্টা প্রতিহত করে দিয়েছে। এত রক্ত, এত পঙ্গুত্ব, এত শ্রম, এত ঘামে অর্জিত বিজয় আজ ক্ষমতাসীন শ্রেণির কারণে নিঃষেশিত। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার আট মাস ধরে ক্ষমতায়। আবার খুন, আবার গুম, আবার শিশু হত্যা, নারী ধর্ষণ পুরনো রুপে ফিরে আসছে। আবার সেই কান্না, আবার সেই আহাজারি। আবার মৃত্যু উপত্যকায় পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের স্বদেশ। চলমান বছরের প্রথম দিন থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ২৬৭ দিনের অকারণ, অপ্রয়োজনীয়, মৃত্যুর হিসাব পাঠকদের জন্য হাজির করছি। শিশু হত্যা, শিশু মৃত্যু, শিশু নিখোঁজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২০৯ জন ও হামে ১ হাজার ৮১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। একই সময়কালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৯ হাজার ১৪৯ জন ও হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বা আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন। এই হিসাব সরকারি হিসাব। এ হিসাবের বাইরে রয়ে গেছে অনেক মানুষ, যারা অর্থাভাবে বা অন্যান্য অনেক কারণে হাসপাতালের চৌকাঠ পেরোতে পারেনি। তাদের মৃত্যুর খবর অথবা আক্রান্তের খবর সরকারি দপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে তারা অনুপস্থিত। হামে আক্রান্তদের সিংহভাগই হচ্ছে শিশু। হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তালবাহানা ও গুরুত্ব না দেয়া হামের মহামারি শুরুর জন্য দায়ী হলেও এতদিন পরেও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থতার দায় বর্তমান সরকারের। মুখে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বর্তমান সরকার একে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতি ও মহামারি বলে স্বীকার করছে না। টিকার লক্ষ্যমাত্রা ভুল নির্ধারণ করে শতভাগের বেশি টিকা দেয়া হয়েছে বলে সরকার আত্মতুষ্টিতে ভুগেছে। অনেক দেরিতে এ ভুল স্বীকার করলেও তা শোধরাতে এখনো অবশিষ্ট শিশুদের টিকা দেয়া শুরু হয়নি। ১৫ বছর পর্যন্ত বয়সের সবাইকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। অপরদিকে, চিকিৎসাব্যবস্থার অতিকেন্দ্রীকরণের কারণে হামের গুরুতর রোগীদের একটা বিরাট অংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক চিকিৎসা না পেয়ে সরাসরি ঢাকামুখী হচ্ছে। ফলে সীমিত জরুরি ও নিবিড় চিকিৎসা সেবার কারণে সবাইকে বাঁচানো যাচ্ছে না। অথচ অপুষ্ট শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে ও মাধ্যমিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনলেই এদের অধিকাংশ সুস্থ হয়ে উঠতো। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। অপরদিকে, বিশেষজ্ঞ ও মন্ত্রীদের পূর্বাভাস সত্ত্বেও ডেঙ্গু অপ্রতিহত গতিতে আবার হাজার হাজার মানুষকে আক্রান্ত করছে ও শতাধিক মানুষ জীবন হারিয়েছে। মানুষের বাড়ির কাছে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ভ্রাম্যমাণ ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হলে অনেক মানুষ ডেঙ্গু রোগে শনাক্ত হয়ে তারা সতর্কতার কারণে জটিল অবস্থায় যেত না, মৃত্যুর সংখ্যাও কমে যেত। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাকে মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখলে এদের অধিকাংশ প্রাণে বেঁচে যেত। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সহায়তা দিলে তাদের মধ্যে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা যথাযথ ও সময়মত চিকিৎসা পেয়ে বেঁচে যেতে পারত। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটা করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হলেও তার বিশেষ কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। গতানুগতিক প্রচারসর্বস্ব অভিযান না চালিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে এ অভিযান সারাদেশে পরিচালনা করলে অবশ্যই সফলতা আসতে পারে। সরকার যথপোযুক্ত উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গু কারণ এডিস মশার উৎপত্তিস্থল অবশ্যই নির্মূল করা যেত, যেমনটি করেছে আমাদের পাশের দেশ ভারতের কলকাতা শহর কর্তৃপক্ষ। আমাদের সরকারের নির্বিকার আচরণ, ভুলনীতি ও দুর্নীতির ফলে প্রতিদিন নিজের মায়ের বুক খালি করে অপ্রয়োজনীয় আত্মদান করছে অসংখ্য শিশু। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে এখনো ২ হাজার ৩৮টি শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির হিসাবে, এ সময়ে গড়ে প্রতিদিন ১০টির বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আইন সালিশ কেন্দ্র (অঝক)-এর হিসাবে ১৯৫ শিশু সহিংসতায় নিহত ও ১৯২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ সময়কালের মীরপুরের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এবং একটা মোবাইল ফোনের জন্য কুমিল্লায় তের বছরের শিশু অপ্রতিমকে হত্যা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সাভারের মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসার সাত বছরের শিশু ছাত্রটিকে ছয় মাস ধরে একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক যৌন নির্যাতন করেছেন। শিশুটির বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের জুতাপেটা করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়ে তাদের কর্তব্য শেষ করেছে। শিশু হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা জরুরি। মিরপুরের ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষের প্রেক্ষিতে বিচার ব্যতীত সরকারের কোনো হেল-দোল চোখে পড়ছে না। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করা, দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনাটা অতীব জরুরি। কিন্তু সরকারের নিস্পৃহতায় এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু, পরিবারের সবার কান্না রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নিহত ব্যক্তিরা মূলত যেসকল বাহনে থাকা অবস্থায় বা যেসকল বাহনের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, সেগুলো হচ্ছে- মোট নিহতের একটি বিশাল অংশ (গড়ে ৩০% থেকে ৪০% এর বেশি) ছিল মোটরসাইকেলের চালক এবং আরোহী। ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা, নসিমন, করিমন, ভটভটি এবং মহিন্দ্রার মতো কম গতির ও থ্রি-হুইলার যানের চালক ও যাত্রীরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, লরি এবং ড্রাম্প ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ বা ধাক্কায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সাথে এসব যানবাহনের চালক ও হেল্পাররা নিহত হয়েছে। দূরপাল্লার এবং লোকাল বাসের যাত্রী ও চালকেরা মুখোমুখি সংঘর্ষ বা বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। সাধারণ বাইসাইকেল এবং প্যাডেল চালিত রিকশার আরোহীরা বড় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও, সড়ক দুর্ঘটনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ছিলেন পথচারীরা, যারা কোনো বাহনে না থেকেও রাস্তা পারাপার বা ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় মূলত বাস, ট্রাক এবং দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। গত আট মাসে দুর্ঘটনায় নিহত চার হাজার মানুষের এ অপ্রয়োজনীয় হঠাৎ মৃত্যু অসংখ পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। অসংখ্য পরিবার পথে বসে গেছে। এ মৃত্যুর মিছিল জোর গতিতে বেড়েই চলেছে। থামানোর কোন উদ্যোগ নাই। শ্রমিকের জীবনের কোনো মূল্য নাই বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই সারা দেশে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬ জন নিহত হন। গত ২০ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার সীমানার ভেতর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৯ জন নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জাহাজভাঙা শিল্পে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছে। বছরের প্রথম ৬ মাস বিলসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮টি দুর্ঘটনায় ৩ জন শ্রমিক নিহত হয়। ১৪ আগস্টে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস নির্গত হয়ে একসাথে ১০ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। আগস্টের শেষের দিকে ‘বারাকা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড’-এ ওপর থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১ জন শ্রমিক মারা যায়। কর্মস্থলে কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত না হওয়ায় অকাতরে জীবন দিচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। তাদের জীবনের কোন নিশ্চিয়তা নাই। পুঁজিপতিদের মুনাফার যুপকাষ্ঠে বলি প্রলেতারিয়েতের জীবন। তারা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের শিকার। দেশ, রাষ্ট্র, সরকার, আইন আদালত সব কিছুই মালিকের পক্ষে গরিবের পক্ষে কেই নাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আটশো মানুষ জীবন দিয়েছে অবস্থা পরিবর্তনের জন্য। অবস্থার পরিবর্তন হয় নাই। আগের অবস্থাই বিরাজ করছে। রাষ্ট্র ও সরকারে নির্লিপ্ততা, আইন কার্যকরী করার উদ্যোগহীনতায় মানুষের জীবন মূল্যহীন হয়ে পড়ছে। বিনা কারণে, অপ্রয়োজনীয় জীবন দিতে হচ্ছে শ্রমজীবী, মেহনতি গরিব মানুষদের। কবি নবারুণ ভট্টচার্য্য মৃত্যু, রক্তপাত দেখে দেখে বলেছিলেন ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়’। বাংলাদেশে চলমান অপমৃত্যু, অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু দেখে কবির মতেই এই মৃত্যু উপত্যকাকে নিজের দেশ হিসেবে মেনে নিতে পারি না। এই সকল নিরীহ মানুষের মৃত্যুতে গর্জে উঠতে হবে। কবির মত করেই বলতে হবে— যে পিতা সন্তানের লাশ শনাক্ত করতে ভয় পায় আমি তাকে ঘৃণা করি- যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে আমি তাকে ঘৃণা করি- যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানি এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না আমি তাকে ঘৃণা করি।