নাৎসিদের পর জার্মানিতে অতি ডানপন্থীদের প্রথম জয়, কেন

Posted: 13 সেপ্টেম্বর, 2026

জার্মানির এক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে অতি ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর ডয়চল্যান্ড (এএফডি) অল্পের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে এতে স্বস্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সাখসেন-আনহাল্ট রাজ্যে তারা এক বিশাল জয় ঝুলিতে পুরেছে। কয়েক দশক ধরে অতি ডানপন্থীদের এমন ক্রমাগত উত্থান বিষয়টিকে এতটাই স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছে যে বিশাল কোনো জয় ছাড়া এখন আর তা সংবাদের শিরোনামই হয় না। কিন্তু যে দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উগ্র চরমপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই দলের ৪৪ শতাংশ ভোট পাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। জার্মানির ক্ষুদ্র এক রাজ্যে হলেও এটি ইউরোপীয় গণতন্ত্রের জন্য এক অশনিসংকেতের দিন। সাখসেন-আনহাল্টে (এবং সার্বিকভাবে জার্মানি) হয়তো সাময়িকভাবে পরিস্থিতি চরম অবনতির হাত থেকে বেঁচে গেছে; কারণ, এএফডি নাৎসি আমলের পর জার্মানির প্রথম উগ্র ডানপন্থী রাজ্য সরকার গঠনের লক্ষ্য সরাসরি পূরণ করতে পারছে না। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনেও যে তাদের ভাগ্যের এমন জোর থাকবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। দুই সপ্তাহ পর মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন রাজ্যের নির্বাচন কিংবা আগামী বছর ফ্রান্সের নির্বাচনে পরিস্থিতি কী হবে, তা-ও নিশ্চিত নয়। কোনো দেশই এখন অতি ডানপন্থার চোখরাঙানি থেকে মুক্ত নয়। আর তার চেয়েও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, কোনো উগ্র ডানপন্থী দল বা রাজনৈতিক নেতাই এখন আর রাজনৈতিক সাফল্যের দৌড়ে পিছিয়ে নেই (আমেরিকা যার বড় প্রমাণ)। সুতরাং আমাদের বিশ্লেষণ ও কৌশলগুলো এখন নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে। সাখসেন-আনহাল্ট তথা পূর্ব জার্মানির এই চিত্র এক চরম বাস্তবতা হলেও এটি পুরো ইউরোপের সাধারণ প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করে। পুরোনো মূলধারার প্রধান দলগুলো ধসে পড়ছে, রাজনীতি খণ্ডিত হয়ে পড়েছে এবং অতি ডানপন্থী দলগুলো দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। ফলস্বরূপ জোট সরকার গঠন করা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে; বিশেষ করে যদি অতি ডানপন্থীদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে হয়। অনেক দেশ, রাজ্য ও শহরেই চরম ডানপন্থীদের আটকাতে সব গণতান্ত্রিক দলকে বাধ্য হয়ে একসঙ্গে সরকার গড়তে হচ্ছে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে অকার্যকর ও অস্থির জোট সরকার, যা জনগণের রাজনৈতিক অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং দিন শেষে উগ্র ডানপন্থীদের সমর্থন বাড়াতে সাহায্য করছে। গণতান্ত্রিক দলগুলো যদি সরকার পরিচালনায় অনুপ্রেরণাদায়ক কোনো ইশতেহার তৈরি করতে না পারে, তবে উদারপন্থীরা একসময় ভোটকেন্দ্রমুখী হওয়া বন্ধ করে দেবে। আর তখন অতি ডানপন্থীরা পুরো জনসংখ্যার সংখ্যালঘু অংশ হয়েও ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে। সম্প্রতি এই ফলাফল জার্মানির ‘ব্র্যান্ডমাউয়ার’ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দেবে। এই নীতি অনুযায়ী, মূলধারার দলগুলো এএফডির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে যায় না। বলতে গেলে পুরো ইউরোপের মধ্যে জার্মানিই এখন অন্যতম ব্যতিক্রম, যারা অতি ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে এমন রাজনৈতিক বর্জন বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইতালি থেকে সুইডেন—ইউরোপের প্রায় সর্বত্রই অতি ডানপন্থী দলগুলোকে স্বাভাবিকীকরণ করা হয়েছে এবং মূলধারার রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, ডানপন্থী দলগুলো এই উগ্রপন্থীদের সঙ্গে জোট বাঁধার সময় দাবি করে যে এরা নাকি এখন অনেক ‘নরম’ বা ‘রক্ষণশীল’ হয়েছে। যদিও এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তবু সাধারণ ভোটার, দলীয় কর্মী ও গণমাধ্যমের একাংশের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে জার্মানির ক্ষেত্রে এই অজুহাত দাঁড় করানো প্রায় অসম্ভব। ইউরোপের সবচেয়ে চরমপন্থী দলগুলোর অন্যতম এএফডি, আর সাখসেন-আনহাল্টসহ যেসব অঞ্চলে এরা বেশি সফল, সেগুলো এএফডির সবচেয়ে উগ্র শাখা হিসেবে পরিচিত। অবশ্য এতেও কিছু ডানপন্থী রাজনীতিক থেমে থাকছেন না; তাঁরা দাবি করছেন যে বামপন্থীদের চেয়ে এএফডি কম ক্ষতিকর।