ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ঘোষণা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার
Posted: 13 সেপ্টেম্বর, 2026
একতা বিদেশ ডেস্ক :
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনেও আর অংশ নিতে পারবে না যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া সাবেক লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পদক্ষেপটি ইসরায়েলের বসতি নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদাহরণ। ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা যে বাড়ছে, এ পদক্ষেপে সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।
গিডিয়ন সার বলেন, ‘ব্রিটিশদের এ পদক্ষেপ নৈতিকভাবে বিকৃত। এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হস্তক্ষেপ।’ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মন্তব্যকে তিনি ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ বলেও আখ্যায়িত করেন।
পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে স্বীকৃত।
গিডিয়ন সার বলেন, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে পাল্টা পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা।
(পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের) অন্যায় ও মানুষের (ফিলিস্তিনিদের) দুর্ভোগের বিষয়টি শুধু ‘তুলে ধরলেই’ আর চলবে না। বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করতে যুক্তরাজ্যকে এখন পদক্ষেপ নিতে হবে।
গতকাল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পদক্ষেপটি ইসরায়েলের বসতি নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদাহরণ। ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা যে বাড়ছে, এ পদক্ষেপে সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘(ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের) দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষার আমাদের প্রচেষ্টায় আজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল।’ তাঁরা আরও বলেন, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁরা তাঁদের উদ্যোগের পক্ষে প্রচার চালাবেন।
ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেনসহ আরও ৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথক এক বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এর অর্থ হলো, ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।