‘মহৎ কার্ড’
Posted: 13 সেপ্টেম্বর, 2026
একতা প্রতিবেদক :
গ্যাস নেই বলে বাসায় রান্না বন্ধ, কুচ পরোয়া নেহি! হোটেল আছে না! সার নেই বলে মাঠের আমন ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা, কুচ পরোয়া নেহি! আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। অভাব কিসের? তাই আমাদের মুখে হাসির অভাব নেই। কারণ, জাতি হিসেবে আমাদের সহ্যক্ষমতা অসীম। আমরা সেই চোরের গল্পের মতন- দেখি না ব্যাটা কী করে!
জনগণ সরকারের কাজকর্ম দেখছে, মন্ত্রীদের মনভুলানো কথাও শুনছে। আর এদিকে সাত-সকালে রান্নাঘরে গিয়ে গৃহকর্ত্রী যে লাইটার ঠুকছেন। একবার, দুবার, বিশবার! চুলা কথাও বলে না। একবার একটু ‘ফিসফিস’ করলেই গৃহকর্ত্রী আনন্দে লাফিয়ে উঠছেন- ‘হে হে চলে আসছে।’
কিন্তু পরক্ষণেই আবার চুলার কোনো সাড়াশব্দ নেই। চুলার মতই চুপসে যান গৃহকর্ত্রীও। কোথা থেকে গ্যাস আসবে, তা স্বয়ং গ্যাস কোম্পানিও জানে না। কিন্তু তারা এটা জানে, এই সোনার বাংলায় কাউকে সারা মাস গ্যাস না দিলেও সোনার মানুষেরা ঠিক ঠিক মাস শেষে বিলটা কষ্ট করে এসে অফিসে দিয়ে আসবে। একবার চাইতেও হবে না।
এমনও সোনার দেশে গ্যাস সংকট, সার সংকট- থোড়াই কেয়ার!
যদি কোনো অকারণে সাত-সকালে বা গভীর রাত আড়াই-তিনটায় গ্যাসের চুলায় নীল রঙের এক চিলতে শিখার দেখা মেলে, তাহলে তো আর কথাই নেই- গৃহকর্ত্রী চিৎকারে মনে হবে দূর দিগন্তের শেষ প্রান্তে একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। যদিও সেটা দিয়ে চাল ফোটা তো দূরের কথা, পানি গরম হতে হতে গৃহকর্তা অফিসে গিয়ে কাজ শেষ করে আবার বাসায় ফিরে আসেন।
তারপর তিনি টিভি খুলে বসেন। সেখানে একজন রাজনৈতিক তার্কিক হয়ত বলছেন- দেখুন, এখন একটু গরম বটে। বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু সামনের শীতে এতটা গরম থাকবে না। এটা আমরা নিশ্চিত করছি।
আরেকজন রাজনীতিবিদ বলছেন, বিদ্যুতের সমস্যার কথা যেটা মানুষ বলছে, সেটাও থাকবে না। গ্যাসের সমস্যাটা সমাধান হয়ে গেলে সেটাও হয়ে যাবে। তখন গ্যাস বা বিদ্যুৎ দুটাই থাকবে। মানুষের ইচ্ছে হলে গ্যাস দিয়ে রান্না করবে, মানুষের ইচ্ছে হলে বিদ্যুতের চুলায় রান্না করবে। কিন্তু একটু ধৈর্য দরকার। যে আগামী সাড়ে চার বছর ধরে ধৈর্য দেখাতে পারবে, তাদের জন্য সরকার ‘মহৎ কার্ড’ চালু করবে।