বোয়িং বিমান ক্রয় কার স্বার্থে
Posted: 13 সেপ্টেম্বর, 2026
২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মূল চুক্তির একদম শেষ অনুচ্ছেদ হচ্ছে বাণিজ্যিক নানা বিষয় নিয়ে। এর মূল কথা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের কেনাকাটার অঙ্গীকার। অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশ কতগুলো নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে বাধ্য থাকবে। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান কিনতে হবে।
এ শর্তানুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমানের সাথে বোয়িং কোম্পানির ১৪টি বিমান ক্রয়ের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয় হবে এই ১৪টি নতুন বিমান কিনতে। এর মধ্যে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার আরো ১১টি বোয়িং বিমান কেনার সম্মতি দিয়েছে। যার জন্য বাংলাদেশকে আরো প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। বাংলাদেশের বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বোয়িং কোম্পানির সাথে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রথম বিমানটির ডেলিভারি পাবে ২০৩১ সালের শেষ প্রান্তিকে। প্রথম চুক্তির শেষ বিমান তথা ১৪ নম্বর বিমানটির ডেলিভারি হবে ২০৩৫ সালে। নতুন আরো যে ১১টি বিমানের চুক্তি হবে তা পেতে ২০৩৮ সাল লেগে যাবে। মার্কিন ডলারের হিসাবে হয়তো দাম একই থাকবে। কিন্তু বিনিময় হারের বৃদ্ধি (ডলারের তুলনায় টাকার মান হ্রাস) বাংলাদেশি টাকায় এর দাম অনেক বেড়ে যাবে। ৩০ এপ্রিলের চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি বিমানের দাম পড়বে ২৭১.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১২২.৭৩ টাকা দরে বাংলাদেশি টাকায় প্রতিটি বিমানের দাম পড়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। এটা খুবই নিশ্চিত, ২০৩১ সালের ডিসেম্বর বা ২০৩৫ বা ৩৮ সালে ডলার-টাকা বিনিময় হার একই থাকবে না। ডলার সুপ্রিমেসির এইকালে ডলারের তুলনায় টাকার মান কমবে, ডলার আরো দামি হবে। অর্থাৎ ডেলিভারি সময়ে টাকার মূল্যে বিমানগুলোর দাম অনেক বেড়ে যাবে। তখন প্রতিটি বিমানের দাম ২৭১.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধে ৩ হাজার ২৭২ কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি টাকা ব্যয় করতে হবে।
বোয়িং কোম্পানি কী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান?
যুক্তরাষ্ট্র্র বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তিতে একটি শর্ত জুড়ে দিচ্ছে বোয়িং কোম্পানি থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিমান ক্রয় করতে হবে। এ শর্ত জুড়ে দেয়ার পেছনে কারণ কী? বোয়িং কি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান? না এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়।
দি বোয়িং কোম্পানি একটি মার্কিন মাল্টিন্যাশানাল করপোরেশান, যারা বিমান, রোটোরক্রাফট, রকেট, স্যাটেলাইট ইত্যাদি তৈরি ও বিক্রয় করে। বোয়িং সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক বিমান নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম। ২০১৫ সালের আয়ের উপরে ভিত্তি কওে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ঠিকাদার, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম রপ্তানিকারক। বোয়িং কোম্পানি ডো জোন্স শিল্প গড় বা ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ (উঔওঅ)-এর ৩০টি কোম্পানির একটি। বোয়িং কোম্পানির সদর দপ্তর শিকাগোতে। এটি ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানি। ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’-এর সাথে মিলে বোয়িং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক বিমানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বোয়িংয়ের
সংশ্লিষ্টতা কোথায়?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বোয়িং কোম্পানির মধ্যে গভীর ব্যবসায়িক, কূটনৈতিক এবং ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িংয়ের ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ ডলার সমমূল্যের শেয়ার কিনেছেন। ঠিক একই দিনে মার্কিন নৌবাহিনী বোয়িংকে ৮৮০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় কাজ দেয়। সমালোচকরা বলেন, ট্রাম্পের বোয়িংয়ের শেয়ার কেনা ও বোয়িংকে মার্কিন নৌবাহিনীর কাজ প্রদানের মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউস বোয়িংয়ের সাথে ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে নতুন দুটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমান কেনার চুক্তি করে। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার থেকে উপহার পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ট্রাম্পের নিজস্ব বিলাসবহুল ব্যক্তিগত বিমান ‘ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান’ হচ্ছে বোয়িং ৭৫৭। এর আগেও ১৯৯৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তার ব্যবহৃত বিমানটি ছিল বোয়িং ৭২৭।
ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছে বোয়িংয়ের সাবেক কর্মকর্তারা। সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা সচিব প্যাট্রিক শ্যানাহান ছিলেন বোয়িংয়ের সাবেক নির্বাহী। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও জাতিসংঘে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বোয়িংয়ের পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন।
মোটকথা, ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং বিমানের বৈশ্বিক প্রচারক। তিনি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বোয়িংয়ের ক্রেতা। একইসঙ্গে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে ট্রাম্প বোয়িং কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার হোল্ডার।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং কোম্পানির ‘ইন্টারন্যাশনাল সেলসম্যান’!
হাস্যরসের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উপরোক্ত অভিধায় অবহিত করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে চীন সফরের আগে ট্রাম্প চীনকে পাঁচশত বোয়িং বিমান কেনার শর্ত দিয়েছিল। ট্রাম্প ও শি জিং পি য়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় প্রাথমিকভাবে চীন ২০০টি বোয়িং বিমান এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কিনবে। ভবিষ্যতে বিমান ক্রয়ের সংখ্যা ৭৫০টি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চীনের বাজারে বোয়িংয়ের বিক্রি বন্ধ ছিল। ট্রাম্পের বিশেষ প্রচেষ্ট্রায় বোয়িং পুনরায় চীনে বাজার ফিরে পেয়েছে। এটা ট্রাম্পের সেলসম্যানশিপের জন্যই সম্ভব হয়েছে।
ট্রাম্পের সেলসম্যানশিপের আরেকটা সাফল্য হচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজের কাছে ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২১০টি বোয়িং বিমান বিক্রয়ের চুক্তি।
এছাড়া বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান কোম্পানি ইউএস-বাংলা গত ২৯ জুলাই ২০২৬-এ ২১টি নতুন বোয়িং বিমান তাদের বহরে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। উগান্ডা এয়ারলাইন্স জুলাই ২০২৬-এ বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনার কেনার অর্ডার দেয়। লুক্সেমবার্গের লাক্সএয়ার (খীঁধরৎ) জুলাই ২০২৬-এ বোয়িং ৭৩৭-১০ মডেলের বিমান ক্রয়ের চুক্তি করেছে। সৌদি আরবের রিয়াদ এয়ার (জরুধফয অরৎ) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তাদের বহরে যুক্ত করার জন্য বোয়িং ড্রিমলাইনার ক্রয়ের চুক্তি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন রাষ্ট্র টু রাষ্ট্র সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ব্যবসার প্রসারে বিভিন্ন দেশের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। এত মার্কিন অর্থনীতির স্বার্থের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোয়িং কোম্পানি থেকে বর্ধিতহারে প্রাপ্ত মুনাফার স্বার্থ নিহিত রয়েছে।
সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের বলি সারা পৃথিবীর নিরন্ন মানুষ
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার রাষ্ট্রিপতি হয়ে ইরান, ভেনেজুয়েলা, কিউবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং অবশিষ্ট সারা পৃথিবীর মানুষের বিরুদ্ধে ‘শুল্কযুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে।
১৯৭৭ সালে প্রণীত একটি মার্কিন ফেডারেল আইন ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ (ওঊঊচঅ), যা রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রদান করে। আইনটি সাধারণত বৈদেশিক হুমকি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবেলায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সে আইনের বলে ট্রাম্প নিজের দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সবল করার জন্য সারা পৃথিবীর মানুষের উপর ‘শুল্কযুদ্ধ’ চাপিয়ে দেয়।
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় যে মার্কিন রপ্তানির বিরুদ্ধে বিদেশি দেশসমূহের আরোপিত আর্থিক ও অ-আর্থিক বাণিজ্য বাধাসমূহ পর্যালোচনা করে তার প্রতিক্রিয়ায় ‘পারস্পরিক শুল্ক’ কাঠামো প্রস্তুত করতে। প্রশাসনকে শুল্কহার, বিনিময় হার এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতির মতো বিষয় বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ট্রাম্প একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন, যা তিনি ‘মুক্তি দিবস’ (লিবারেশান ডে) হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের উপর ৩৭% বর্ধিত শুল্ক আরোপ করা হয়। এছাড়া ভিয়েতনাম ৪৬%, কম্বোডিয়া ৪৯, ভারত ২৬%, চীন ১৪৫% শুল্কারোপের শিকার হয়।
৯ এপ্রিল থেকে ৫৭টি দেশ ও অঞ্চলের উপর উচ্চতর শুল্ক কার্যকর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (টঝঞজ) জানায়, এই নীতির লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনা।
আরোপিত বর্ধিত শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে ওঊঊচঅ-এর অধীনে ৫ এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর প্রায় সকল দেশের উপর ন্যূনতম ১০% ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়। পরে বাংলাদেশের উপর ১ আগস্ট থেকে ৩৫% বর্ধিত শুল্ক আরোপ করা হয়। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তা কমিয়ে ২০% করে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট তা কার্যকর করা হয়।
‘পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করো- নাইলে বর্ধিত কর দাও’- এ ধরনের হুমকি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রপ্তানি নির্ভর দেশগুলোকে চুক্তি করতে বাধ্য করে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তির শর্তানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশ থেকে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় দেশগুলোকে বাধ্য করছে এবং এ ভাবেই তারা তাদের বাণিজ্য ঘাটিতি হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে।
মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের বিমান কেনা তেমনি একটি অপ্রয়োজনীয় ক্রয় যা সে করতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চাপে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকার নিজেদের গদি বাঁচাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে পচিঁশটি বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘কলা বেচা রথ দেখার’ মত দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবার আগে আমেরিকার স্বার্থ দেখেছে আর বোয়িং কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার হিসেবে সেলসম্যানশিপ দিয়ে কোম্পানির মুনাফা বাড়িয়ে নিজের পকেট ভারি করছে। দেশীয় দালালদের সহযোগিতায় সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে সারা পৃথিবীর মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে।
সময়ের ঘড়ি বেজে উঠেছে। বিপ্লব সমাসন্ন। বিদ্রোহের প্রস্তুতি জরুরি।