রাজবাড়ীতে কমরেড কমল কৃষ্ণ গুহ’র স্মরণসভা

Posted: 06 সেপ্টেম্বর, 2026

রাজবাড়ী সংবাদদাতা : বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা সংসদের উদ্যোগে কমরেড কমল কৃষ্ণ গুহ’র প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে স্মতিচারণ, গণসংগীত ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় শহরের আজাদী ময়দান এলাকায় সংগঠনের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘আছে দুঃখ আছে মৃত্যু বিরহদহন লাগে, তবুও শান্তি তবু আনন্দ তবু অনন্ত জাগে’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা। জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজবাড়ী জেলা কমিটির সভাপতি ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রাজবাড়ী জেলা কমিটির সমন্বয়ক আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী থিয়েটারের সভাপতি বাবলা চৌধুরী, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, সাপ্তাহিক অনুসন্ধান পত্রিকার সম্পাদক আবু রেজা আশরাফুল মাসুদ বাবু মল্লিক, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল রাজবাড়ী জেলা কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার দাস, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্রনাথ দাস, প্রয়াত কমরেড কমল কৃষ্ণ গুহ’র ভাগ্নি স্বাগতা সরকার, উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুল জব্বার, কার্যনির্বাহী সদস্য কমল কে সরকার। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি গণসংগীত ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। গণসংগীত পরিবেশনে অংশগ্রহণ করেন ধীরেন্দ্রনাথ দাস, মো. আবদুল জব্বার, সুশীল সরকার, চায়না সরকার শর্মী, মলিনা পারভীন, ফিরোজা খাতুন, জান্নাতুল ফেরদৌস, শিরিন সুলতানা, মুক্তা। বক্তারা বলেন, কমলকৃষ্ণ গুহ ছাত্র জীবন থেকেই প্রতিবাদী ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। এরপর তিনি ন্যাপের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তার হাত ধরেই রাজবাড়ী উদীচী প্রতিষ্ঠিত হয়। তার চিন্তা-চেতনা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের। বর্তমান সময়ে দেশে একটি রাজনৈতিক সংকট চলছে। এই দুঃসময়ে প্রগতিশীল সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। কমলকৃষ্ণ গুহের আদর্শে আমাদের আদর্শিত হতে হবে। রাজনীতির সাথে সংস্কৃতির একটি মেলবন্ধন থাকতে হবে। সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া একটি সুস্থ রাজনীতি সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত, কমরেড কমল কৃষ্ণ গুহ বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা সংসদের প্রথম সভাপতি। তিনি ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ১৮ আগস্ট ১৯৯০ সালে তিনি মারা যান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে স্মরণসভা শুরু করা হয়। উদীচীর দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।