ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংকট নিরসনে যৌক্তিক নীতিমালা চাই

Posted: 06 সেপ্টেম্বর, 2026

একতা প্রতিবেদক : ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংকট নিরসনে লুটপাট ও ধনিক শ্রেণির স্বার্থে নয়, বরং সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে যৌক্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবি জানিয়েছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি মহল শ্রমিকদের বিরুদ্ধে শ্রেণি বিদ্বেষ ছড়িয়ে জাতীয় সংহতি ও বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সরকার ও আমলাতন্ত্র সমস্যা সমাধানে বাস্তবায়নযোগ্য যৌক্তিক নীতিমালা প্রণয়ন না করে ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার নীতি তৈরিতে ব্যস্ত। গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে ‘মশাল মিছিল’ পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, সাবেক সভাপতি শাহাদৎ খাঁ, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি, সহ-সভাপতি সুমন মৃধা ও নুরুজ্জামান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, দপ্তর সম্পাদক রিপন হোসেন, থানা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ দিদার, মিন্টু, কুদ্দস, রিপন, বিপুল হোসেন, জয়নাল আবেদীন জয়, নূর আলম, সাকিব, করিম, পলাশ, আব্দুর রাজ্জাক, আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সমস্যা সমাধানে সরকার শ্রমিক-মালিকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের দাবি—বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান উপেক্ষা করে লুটপাটের স্বার্থে—দায়িত্ব স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পাঁয়তারা করছে। একইসাথে বিদ্যুৎ সংযোগ, ফিটনেস, রুট পারমিট ও চার্জিং স্টেশনসমূহের ট্রেড লাইসেন্স বিষয়ে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তা যেমন অযৌক্তিক তেমনি বাস্তবায়নযোগ্যও নয়। সরকার যে নীতি প্রস্তাব করছে তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়— তারা বিদ্যমান ক্ষুদ্র পুঁজিতে বিনিয়োগকৃত রিকশা ও তার শ্রমিকদের উচ্ছেদ করে বৃহৎ পুঁজির মালিকদের তৈরি বিদ্যুৎচালিত বাহনের বিক্রয় নিশ্চিত করতে চায়। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট বিভিন্ন সময়ে দেশ পরিচালনাকারী সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট। এই ভুলনীতি ও দুর্নীতি আড়াল করতে প্রান্তিক মানুষের বাহনের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ব্যাটারিচালিত যানবাহন দেশের সড়ক উপযোগী নকশায় আধুনিকায়নে সহায়তা প্রদান, বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান এবং অংশীজনের অংশগ্রহণে যৌক্তিক নীতিমালা প্রণয়নসহ রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ১২ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এর আগে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ঢাকাস্থ থানা নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয় । ব্যাটারিচালিত যান আটকের ‘মব কর্মসূচি’ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কিনা তদন্তের দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক ও ব্যাটারি খুলে নেয়ার যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। ৩০ আগস্ট, এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি বলেন, দেশের লাখো শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির একমাত্র ভরসা এই ব্যাটারিচালিত যানবাহন। সরকার যখন এইবাহন পরিচালনার জন্য নানা পদক্ষেপ আলোচনা করছে ও একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার উদ্যোগের মধ্যে আছে তখন অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়াতে রাস্তা থেকে গাড়ি তুলে নিয়ে ব্যাটারি জব্দ করার ‘মব কর্মসূচির’ আহ্বান দেশকে সরাসরি নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিবে। লাখো পরিবার জীবিকাহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তাদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি হবে এবং এই অস্থিরতার মধ্যে ছাত্র-শ্রমিকদের মুখোমুখি দ্বন্দ্বে ফেলায় যেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করবে তার দায় কে নেবে-এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন নেতৃবৃন্দ। এই ধরনের মব কর্মসূচির উদ্যোগ কখনো স্বাভাবিক পদক্ষেপ হতে পারে না। বরং এর আড়ালে পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিরতা তৈরি করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা ও বাংলাদেশকে মব কালচারের মধ্য দিয়ে ব্যর্থ রাষ্টে পরিণত করার কোনো সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে কিনা, সেটা এখনই খতিয়ে দেখা দরকার বলে বিবৃতিতে দাবি জানান নেতৃবৃন্দ । বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঢাকাকে বাঁচাতে হলে ‘সকলের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। এতদিন রাষ্ট্র শুধু বিত্তবানদের বিলাসবহুল স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে ভুলনীতি বানিয়েছে, আর তার খেসারত দিতে গিয়ে আজ ঢাকা তার বাসযোগ্যতাই হারিয়ে ফেলেছে। বিদ্যুৎ সংকট আর যানজট-এই দুটো সমস্যাই তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রের ভুলনীতির কারণে, অথচ তার দায় এখন চাপানো হচ্ছে খেটে খাওয়া রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের ঘাড়ে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। শ্রমিকের ওপর দায় না চাপিয়ে বরং যৌক্তিক নীতিমালা ও সমন্বিত সুষ্ঠু সড়ক ব্যবস্থাপনার দাবি জানান তারা। একইসাথে নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট দাবি করে বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে অনিবন্ধিত না রেখে, বিআরটিএর মাধ্যমে লাইসেন্স ও রুট পারমিট দেয়া হোক। এতে একদিকে যেমন লাখো মানুষের জীবিকা রক্ষা পাবে, তেমনি অন্যদিকে সড়কেও শৃঙ্খলা আসবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই আটক ও ব্যাটারি জব্দের মব কর্মসূচি বন্ধ না হলে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন।