নতুন পে-স্কেল : দেশবাসীর
জন্য আশীর্বাদ না বোঝা
Posted: 06 সেপ্টেম্বর, 2026
সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। এটি আগামী দুই বছরের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নানা মহলে বিশেষত যারা এই পে-স্কেলের আওতাভুক্ত তাদের মাঝে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। তারা হিসাব কষে বোঝার চেষ্টা করছে যে, এই ঘোষণা কার্যকর হলে তারা কী পরিমাণ লাভবান হবেন। কিন্তু ১৮ কোটি দেশবাসীর বিপুল অংশ এ পে-স্কেলের আওতাভুক্ত নয়। ফলে তাদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোর বিষয়টি তেমন কোনো আলোচনার বিষয় হয়নি।
এমনকি দেশের একটা বড় অংশ জানেই না যে, পে-স্কেল কাকে বলে এবং পে-স্কেল বলে কোনো কিছু ঘোষিত হয়েছে। তারা সবাই গাঁও-গেরামের অতি সাধারণ মানুষ ও শহরের হতদরিদ্র ছিন্নমূল ও বস্তিবাসী।
পে-স্কেলের আওতাভুক্ত না থাকা অনেকে ভাবতে পারেন যে, এটি তাদের কোনো বিষয় নয় এবং এর অভিঘাত থেকে তারা মুক্ত থাকবেন। কিন্তু, পে-স্কেলের অভিঘাত থেকে কেউ মুক্ত থাকবে না। কারণ, নতুন পে-স্কেলের ফলে অর্থনীতিতে, বিশেষত দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে এর সৃষ্টি করা প্রভাব দেশের সব মানুষকেই স্পর্শ করবে। তাছাড়া, পে-স্কেলের ব্যাপারটা যেহেতু রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কর্ণধার-গোষ্ঠীর একটি বিষয়, তাই এর দৃশ্যমান প্রভাব রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সমাজ সবকিছুর ওপর পড়বে, সেটিই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে দেশের মোট কর্মক্ষম ও উপার্জন সক্ষম মানুষের সংখ্যা ৫ কোটির কিছু বেশি। কিন্তু এর মধ্যে যারা সরকারি অফিস-আদালতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে, সামরিক বাহিনীতে, সরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা সরকারি অবসর ভাতা পাওয়াদের তালিকাতে আছেন কেবল তারাই পে-স্কেলের অর্ন্তভুক্ত। সব মিলিয়ে এদের সংখ্যা কোনোভাবেই ২০ লাখের বেশি হবে না। যা দেশের মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৪ শতাংশ।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, দেশের মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৪ শতাংশ পে-স্কেল ঘোষণার মাধ্যমে বর্ধিত বেতন-ভাতা পাবেন। কিন্তু, কর্মে নিয়োজিত দেশের অবশিষ্ট ৯৬ শতাংশ মানুষের আয় উপার্জন আদৌ বাড়বে কিনা এবং বাড়লেও তা কতোদিনে ও কি পরিমাণে বাড়বে— তা বলা যায় না। ফলে সব মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানের হ্রাস-বৃদ্ধি যেটিই হোক, তা এক তালে ঘটবে না। ফলে বর্ধিত বেতন কাঠামোর কারণে দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণ-অকল্যাণ, মঙ্গল-অমঙ্গল পরিমাপ করতে হবে শুধু ৪ শতাংশ-এর ভালো-মন্দ দিয়ে নয়, অবশিষ্ট ৯৬ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা-জীবনযাত্রার মানের ওপর তা কী প্রভাব সৃষ্টি করবে, তার হিসাব-নিকাশের দ্বারা। সেদিকে এবার একটু নজর দেয়া যাক।
পে-স্কেলের আওতার তাদের বাইরে থাকা ৯৬ শতাংশ মানুষের আয়-উপার্জন বৃদ্ধির কোনো ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। এদের মধ্যে রয়েছে (১) সরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক (২) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক (৩) ক্ষেতমজুর (৪) কৃষক (৫) অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক। এইসব শ্রমিক-ক্ষেতমজুর-কৃষি শ্রমিক-কৃষক প্রমুখ শ্রমজীবীর সংখ্যাই দেশের কর্মজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সরকার এ শ্রমজীবী মানুষদের জন্য মজুরি কমিশনের ঘোষণা, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, কাজের নিশ্চয়তা ইত্যাদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে তারা আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকবে।
ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার খর্বিত থাকায় এবং মজুরির হার নিয়ে দর কষাকাষিতে দুর্বল পক্ষ হওয়ায় (প্রধানত বিপুল পরিমাণ বেকারত্ব ও বেকারত্বের ফলে শ্রমের চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি থাকার কারণে) সমাজের এসব অংশের মানুষের পক্ষে তাদের আয় সমানুপাতিক পরিমাণে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে না। কিংবা আয় তারা কিছুটা বাড়াতে পারলেও সেজন্য তাদেরকে অনেক সময় দিতে হবে। ইতোমধ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘বাজারের’ অন্ধ শক্তির মর্জির ওপর তাদেরকে চূড়ান্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে।
সরকারি পে-স্কেলের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে কৃষক-শ্রমিক ও মজুর ছাড়াও রয়েছে (১) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী (২) প্রফেশনাল (৩) স্বনিয়োজিত নানা পেশার মানুষ। এ ধরনের মানুষের সংখ্যাও ব্যাপক। বাড়ি ভাড়া, খুচরা ব্যবসা-বাণিজ্য, ওয়ার্কশপ, চায়ের স্টল, রিকশা-ভ্যান চালানো, সেলুন, খাবারের দোকান ইত্যাদি নানা ধরনের সেবা প্রদানে তার নিজেদের আয়-উপার্জন করে। এদের আয়-উপার্জন বৃদ্ধিরও কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এছাড়া সমাজে অবশ্য ক্ষুদ্র এমন একদল মানুষ আছে যাদের অর্থ-বিত্তের উৎস হলো লুটপাট ও লুটপাটের উচ্ছিষ্ট আহরণ। তাদের আয়ের কোনো সীমা নেই। পে-স্কেল কি হলো না হলো তাতে তাদের মোটেই কিছু যায় আসে না। জিনিসপত্রের দাম নিয়ে তারা চিন্তিত না, কারণ কোনো মূল্য হারই তাদের সামর্থ্যরে বাইরে নয়।
নতুন পে-স্কেলের ফলে আগামী মাস থেকে ৪ শতাংশ মানুষের হাতে বাড়তি আয় আসা শুরু করবে। কিন্তু এদের বাইরে থাকা অবশিষ্ট ৯৬ শতাংশ মানুষের আয় সাথে সাথে বাড়বে না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পর্যায়ক্রমে আয় বাড়ানোর পথ করে নিতে পারলেও বেশিরভাগেরই অধিকাংশকেই তাদের আয় বাড়ানোর জন্য অনেক সময় ধরে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হবে। কিন্তু পে-স্কেল ঘোষণার সাথে সাথে জিনিসপত্রের দাম বাড়া শুরু হবে। কিছু মানুষের বর্ধিত ক্রয় ক্ষমতা, অন্য এক অংশের মানুষ কর্তৃক অবস্থা সামাল দেয়ার জন্য দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে ক্রেতাদের ওপর চাপ স্থানান্তর, পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রবণতা, অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্বারা পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ প্রভৃতি কারণে বেপরোয়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি অবধারিত হয়ে উঠবে।
এর বিপরীতে রেশনিং ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্যের দোকান প্রভৃতি সরকারি কার্যক্রম না থাকায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রিত রাখার কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না। দ্রব্যমূল্য যে গতিতে বাড়বে পে-স্কেলের আওতাধীন ৪ শতাংশ তা সামাল দিতে সক্ষম হলেও, বেশিরভাগের পক্ষেই তাদের সীমিত আয় তুলনামূলক ধীরগতিতে বৃদ্ধির কারণে ক্রয়ক্ষমতার হিসেবে সব সময়ই কয়েক ধাপ পিছিয়ে থাকতে হবে।
আসল ব্যাপার হলো ক্রয়ক্ষমতা : বাড়বে বৈষম্য
একথা ঠিক যে, টাকার পরিমাণে একজন মানুষের আয় বাড়লেই তা তার জীবনমানের উন্নতি বোঝায় না। জীবনমান বলতে অনেক কিছুকেই হিসাবে নিতে হয়। তবে সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে প্রধান বিষয়টি হলো বাজারে পণ্য ও সেবা প্রাপ্তিতে তার সক্ষমতার পরিমাণ। তার সেই স্বক্ষমতা নির্ভর করে একদিকে তার আয়ের পরিমাণ আর অন্যদিকে বাজারের মূল্য সূচকের ওপর। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, শায়েস্তা খানের আমলে এই বাংলায় ১ টাকায় ৮ মণ চাউল কেনা-বেচা হতো। এখন সেই পরিমাণ চাউলের দাম ২৫ হাজার টাকারও বেশি। তাহলে কি এ থেকে বলা যায় যে, সেসময় মানুষের জীবনযাত্রার মান ২৫ হাজার গুণ উন্নত ছিল। না, সেকথা বলা যাবে না। কারণ দ্রব্যমূল্যের পাশাপাশি দেখতে হবে যে সেসময় একজন মানুষের আয়-উপার্জন কতো ছিল। সে তথ্য নির্ভুলভাবে জানা না থাকলেও আমরা একথা জানি যে সেসময় মূদ্রা হিসেবে ব্যবহার হতো কড়ি। এক পয়সাই বড় পরিমাণের অর্থ বলে বিবেচিত ছিল। সে কারণে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নির্ধারিত হয় একদিকে আয় ও অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের পরিমাণের ওপর। অর্থাৎ তার ক্রয়ক্ষমতার ওপর।
পে-স্কেল ঘোষণার ফলে বিভিন্ন অংশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সেই সূত্রে তাদের জীবনমানে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়বে।
কেন বৈষম্য বাড়বে
১. পে-স্কেলের আওতাধীন ৪ শতাংশ মানুষের আয় রাতারাতি বাড়বে। আসলে গত কয়েক বছরের বিপুল মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনায় নিলে এই বেতন বৃদ্ধি করাটা তাদের ক্রয়ক্ষমতা বর্ধিত বাজারদরের সাথে সমন্বয় করার জন্য অপরিহার্য ছিল। তবে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত প্রায় ১:৮ রাখা হয়েছে। যদিও স্বাধীনতার আগে ও পরে ১:৪ অথবা ১:৫ অনুপাতের সপক্ষে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান ও দাবি ছিল। কিন্তু এখন প্রায় ১:৮ অনুপাত বজায় রাখার ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য বাড়বে।
২. এই বৈষম্যের পরিমাণ আরো বাড়বে এই কারণে যে, উচ্চতর স্কেলের কর্মচারীদেরকে এখন আগের তুলনায় তাদের বেতনের বেশ কম অংশ নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনার পেছনে খরচ করতে হবে (চালডাল, তেল, নুন, ডাল, তেল ইত্যাদির ব্যবহার মোট ২০ শতাংশ বাড়াতে পারবে না)। ফলে অপরিহার্য পণ্যাদির বাইরে বিলাসদ্রব্যসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার সক্ষমতা তাদের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে।
৩. পে-স্কেল ঘোষণার পর দ্রব্যমূল্য সমানতালে বৃদ্ধি পেলে শেষ পর্যন্ত কারোরই, বিশেষত নিম্নতর স্কেলের কর্মচারীদের কোনো লাভ হবে না। মূল্যস্ফীতির ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা পূর্বের অবস্থায়ই ফিরে আসবে। মূল্যস্ফীতির সাথে তাল রেখে বছর-বছর পে-স্কেল পুনর্বিন্যাসের ব্যবস্থা থাকলে এই পরিস্থিতি পরিহার করা সম্ভব হতো। আর নিম্নতর স্কেলের কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের বর্ধিত বেতনের সুবিধা যেভাবে ও যতটা দ্রুত হারাবে, উচ্চতর স্কেলের কর্মকর্তারা তাদের সুবিধাটা ততটা দ্রুত হারাবে না। এর ফলেও উঁচু-নিচুর মধ্যে বৈষম্য আরো বাড়বে।
৪. পে-স্কেলের ফলে মূল্যস্ফীতি ঘটবে। পে-স্কেলের আওতাধীন ৪ শতাংশ মানুষ সেটা সামাল দিয়ে চলতে পারলেও অবশিষ্ট ৯৬ শতাংশ মানুষ (১ শতাংশ বিত্তবান লুটেরা ধনিকদের কথা বাদ দিলাম) তাদের আয় সমান গতিতে বাড়াতে পারবে না। ফলে ৯৬ শতাংশ-এর ক্রয়ক্ষমতা রাতারাতি হ্রাস পাবে বা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তাদের মধ্যেকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মেহনতি মানুষের অনেক সময় লেগে যাবে।
৫. পে-স্কেল ঘোষিত হলেও মজুরি কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ ও জাতীয় ন্যূনতম মজুরিসহ মজুরি-স্কেল নির্ধারণের উদ্যোগ নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, অসংগঠিত খাতে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার খর্বিত থাকায় যৌথ দর কষাকষির মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও হয়নি। শ্রমিকের শ্রম স্বার্থে আইনের সংশোধনীও করা হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকসহ গ্রাম ও শহরের সাধারণ মেহনতি মানুষের মজুরির হার (টাকায়) আগের স্তরেই থেকে যাবে। কিন্তু পে-স্কেলের বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে যখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে, তখন এসব শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, দিনমজুরদের প্রকৃত আয় (ক্রয়ক্ষমতা) সেই পরিমাণে (কমপক্ষে ১৫-২০) শতাংশ হ্রাস পাবে।
৬. পে-স্কেলের আওতায় বাইরে যে ৯৬ শতাংশ সাধারণ মানুষ রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই প্রকৃত আয় বিভিন্ন মাত্রায় কমবে। এদের মোট সংখ্যা কম করে হলেও পৌনে পাঁচ কোটি। এই পৌনে পাঁচ কোটি মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার ফলে (এবং তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে তা ১৫-২০ শতাংশ হওয়ার ফলে) তাদের সৃষ্ট এক বিশাল পরিমাণের বাড়তি ‘উদ্বৃত্ত মূল্য’ লুটপাটযোগ্য ভান্ডারে জমা হবে। পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার অদৃশ্যমান কারসাজির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তার বেশিরভাগটাই জমা হবে মুষ্টিমেয় লুটেরা ধনিকদের হাতে। এভাবেই, যেমন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের দুর্দশা বৃদ্ধি পাবে ও বৈষম্য বাড়বে, একই সাথে অর্থনীতিতে লুটপাটতন্ত্র কর্মকাণ্ড ও ধারা আরো মদদ পাবে।
সরকারের আরো কি করা দরকার
পে-স্কেল ঘোষণার ফলে প্রকৃতই যেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলে লাভবান হয় এবং কোনো অংশের মানুষের উপর যেন এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেজন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো তাই একই সাথে গ্রহণ করা দরকার।
১. ঘোষিত পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন সীমা ঠিক রেখে সর্বনিম্ন বেতন অন্তত ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৫-এ নামিয়ে আনা।
২. স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন করে মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতিবছর যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধি করা।
৩. কলকারখানা-ক্ষেত খামারের সব শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, দিনমজুর ও মেহনতি মানুষের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং তার প্রদান প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪. অবিলম্বে মজুরি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বর্ধিত মজুরি স্কেল ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন করা। সব ধরনের শ্রমিকের স্বার্থে যৌথ দরকষাকষির অধিকারসহ অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রদান করে শ্রম-আইন সংশোধন করা।
৫. পৃথক মন্ত্রণালয় অথবা বিভাগের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে চাল, ডাল, গম, তেল, চিনিসহ ১২ ধরনের পণ্য রেশনের মাধ্যমে সরবরাহ করা এবং সর্বত্র সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকান চালুসহ শক্তিশালী, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ‘গণবণ্টন ব্যবস্থা’ চালু করা।
৬. বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা, পরিবহন ইত্যাদি ক্ষেত্রে লাগামহীন মাত্রায় খরচ বাড়ানো প্রতিরোধ করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারিভাবে সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবহন ইত্যাদির ব্যবস্থা করা।
তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি একমাত্র প্রকৃত বামপন্থি শক্তির দ্বারা সরকার গঠন হলেই এসব কার্যক্রম করা সম্ভব এবং সেগুলো বাস্তবায়ন হলেই কেবল পে-স্কেল বা বেতন বৃদ্ধি সমগ্র দেশবাসীর জন্য সুফল বয়ে আনবে।