গার্মেন্ট শিল্পে মজুরি বোর্ড গঠন ও বন্ধ কারখানা চালুর দাবি

Posted: 30 আগস্ট, 2026

একতা প্রতিবেদক : দেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরি নির্ধারণ, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, ছাঁটাই বন্ধ, গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন এবং শ্রমিকদের জীবন ও কর্মসংস্থান রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। ২৮ আগস্ট রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক হত্যার বিচার এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীলিপ দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাজাহান, সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল সাহা, আজিজুল ইসলাম, শাহিন আলম প্রমুখ। সমাবেশে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান বলেন, তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে দেশের উৎপাদনমুখী অর্থনীতি চলতে পারে না। একইভাবে অভুক্ত ও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত শ্রমিকদের দিয়ে দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্পও কখনো টেকসই হতে পারে না। শিল্পের উৎপাদন ও শ্রমিকের জীবনমান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাই একদিকে অবিলম্বে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান এবং অন্যদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রতি দুই বছর পরপর নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি করেন। সংগঠনের সভাপতি মন্টু ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৩ অনুযায়ী শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রতি তিন বছর অন্তর পুনর্বিন্যাসের বিধান রয়েছে। সেই হিসাবে এবছরে নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করার কথা। কিন্তু সরকার তার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এদিকে সরকারের ছয় মাসে মূদ্রাস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকের জীবন ওষ্ঠাগত। তাই অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা জরুরি। তিনি আরো বলেন, সেই সাথে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে প্রায় শতাধিক কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারকে দ্রুত এর সমাধান করতে হবে। বন্ধ কারখানা চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। এবং শ্রমিকদের মান সম্মত জীবনের জন্য দ্রুত রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান তিনি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও কিন্তু সে অনুযায়ী শ্রমকিদের আয় বাড়েনি। ফলে সংসারের ব্যয় মেটাতে অনেক শ্রমিককে বাধ্য হয়ে অতরিক্তি সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং অনেকে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। এমতাবস্থায় সরকারি চাকুরিজীবিদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তার সাথে সংগতি রেখে দ্রুত শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি করা দরকার। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডারের বিষক্রিয়ায় ৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সরকার শ্রমিকদের জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। দ্রুত এই ঘটনায় দায়িদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, গাজীপুর ছাড়াও আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, উত্তরার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রয়েছে। কোনো কোনো কারখানায় তিন-চার মাসের বেতনও বকেয়া রয়েছে উপরন্তু শ্রমিকরা অযথা মিথ্যা কারণ দেখিয়ে তাদের ছাঁটাই করেই চলছে। কোনো রকম পাওনা পরিশোধ করছে না। এক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরেও ন্যায্য দাবি উত্থাপন করে শ্রমিকরা জীবন দিয়েছে। বর্তমান সরকারও শ্রমিকদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছ না। সরকারের কাছে মুখে নয় কাজে দৃষ্টিভঙ্গি বদলের প্রমাণ দেয়ার দাবি জানান তিনি। সমাবেশে সংগঠনের সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির খোকন বলেন, শ্রমিকের জীবনের সংকটকে আড়াল করে রাখার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নাই। শ্রমিকের দাবির মধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা পুরাতন স্বৈরাচারী অপকৌশল। সরকারকে দায়িত্ববোধ থেকে শ্রমিকের সমস্যার সুরাহা করতে হবে। শ্রমিকরাও দায়িত্বশীলতার সাথে সকল দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী চক্রান্ত মোকাবিলা করবে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন গত বছর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫,০০০ টাকা দাবি করা হলেও তা নির্ধারণ করা হয় মাত্র ১২,৫০০ টাকা। কিন্তু এখনো অনেক কারখানা এই মজুরিও দিচ্ছে না এবং শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। মালিকপক্ষ নানান অজুহাত দেখিয়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করছে না। সরকার দ্রুত এসবের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বৃহৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায় করে ছাড়বে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ে সপ্তাহব্যাপী সকল শিল্প এলাকায় মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। শ্রমিক সমাবেশ শেষে একটি মিছিল কদমফুল ফোয়ারা ঘুরে তোপখানা সড়ক হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।