শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ কোম্পানি বেসরকারিকরণ চক্রান্ত রুখো : স্কপ

Posted: 23 আগস্ট, 2026

একতা প্রতিবেদক : ৪৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেয়ার জনবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ। স্কপ একইসাথে লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ৬টি সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বা কোম্পানিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্কপ। গত ১২ আগস্ট সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। স্কপ এর যুগ্ম সমন্বয়কারী নুরুল আমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করে যুগ্ম-সমম্বয়কারী এ. এ. এম ফয়েজ হোসেন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোট এর সভাপতি আব্দুল কাদের হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক বাদল খান, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ এর সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ বাদল, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম আরা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনয়ন কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন প্রমুখ। সমাবেশে ঘোষণায় বলা হয়- পাট, চিনি, বস্ত্র, কাগজ, সার, ইস্পাত, রাসায়নিক, প্রকৌশলসহ এসব কারখানা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিকানা জনগণের। জনগণের মালিকানাধীন রাষ্ট্রীয় সম্পদ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালু না করে কতিপয় পুঁজিপতির হাতে তুলে দিয়ে সরকার কি বার্তা দিতে চান? ইতিমধ্যে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ব্যক্তিমালিকানায় চালুর নামে লুটপাটের বিশেষ আয়োজন কি-না? জাতীয় শিল্প সম্পদ এবং জনগণের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অধিকার বঞ্চিত শ্রমিকদের জিম্মি করার পায়তারা কি-না? বিদ্যমান শ্রম আইন অনুসারে চাকরির সম্পর্ক ছেদ হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের চুড়ান্ত পাওনা পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বছরের পর বছর কোন কোন মিলে যুগ পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকদের সমগ্র জীবনের অর্থ না পেয়ে অনেকেই দারিদ্রতা ও চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। এখনো অনেকেই চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘোষণঅয় আরো বলা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রধানত ৬টি সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বা কোম্পানি রয়েছে, যা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ, স্বচ্ছ ও বিল আদায় নিশ্চিত করতে বেসরকারি মালিকানায় দেয়ার কথা বলেছে। তাহলে ব্যক্তিমালিকরা কি সরকারের চেয়েও ক্ষমতাবান নাকি সরকারের মধ্যেই এইসব মালিকরা রয়েছে, যারা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থবিরোধী এ ধরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে বিদ্যুৎ বিল মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে চরম সংকট সৃষ্টি হবে। নেতৃবৃন্দ ৪৫টি শিল্প কারখানা এবং ৬টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে হস্তান্তর না করে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু, চাকরিচ্যূত শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করার দাবি জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টনে এসে শেষ হয়।