অবিলম্বে আবু বকর ও সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি

Posted: 16 আগস্ট, 2026

একতা প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিক ও রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও হয়রানি মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গত ১২ আগস্ট বিকেল ৫টায় পল্টন মোড়ে মুক্তি ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় থেকে প্রেসক্লাব অভিমুখে সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের অধিকার, অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা; ভিন্নমত দমন করা নয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিক ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তার সেই বক্তব্যের পর তাকে ছাত্রদল নেতাকে নিগৃহীত করার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার কারণে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। সিপিবি আবু বকরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনৈক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রাঙ্গামাটি শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ও গ্রেপ্তারের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা না রেখে কোনো নাগরিককে তুলে নেওয়া এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, একজনকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে এবং আরেকজনকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেপ্তার করা হলে তা কেবল দুজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়; এটি সমাজে ভয় ও নীরবতার পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা। জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলা, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি দাবি করা প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ যে বাংলাদেশ চেয়েছিল, সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার, আইনের শাসন ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত হওয়ার কথা। অথচ গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও যদি প্রতিবাদ ও সমালোচনার জবাবে মামলা-গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা ঘটে, তাহলে তা জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। নেতৃবৃন্দ আবু বকর ছিদ্দিক ও সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলার আইনগত ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশ এবং রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। সমাবেশ থেকে সিপিবি নেতা আবু বকর ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দান, উভয়ের গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, সাদা পোশাকে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া ও বাহিনীর পরিচয় প্রকাশসহ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, অনিয়মের প্রতিবাদ ও সমালোচনার কারণে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অন্যায়, দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার রাখে। মামলা-গ্রেপ্তার করে সেই কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। কৃষক সমিতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাড. এস এম এ সবুর ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সিপিবি নেতা কমরেড আবু বকর ছিদ্দিককে মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়ে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। কমরেড আবু বকর ছিদ্দিককে গত ৯ আগস্ট পুলিশ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে চালান করেছে। কমরেড আবু বকর ফ্যামিলি কার্ড সংগ্রহকারী নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রতিবাদ করলে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকে নিগৃহীত করার মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে অনিয়মের বিরুদ্ধে মানুষ কথা বলতে পারেনি। যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা মামলা করে এবং পুলিশ বাহিনী দিয়ে গ্রেফতার করে দমন করতো। গণ- অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন হলেও বর্তমান বিএনপি সরকারও একই কায়দায় প্রতিবাদ দমন করার পথে হাঁটছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কৃষকনেতা আবু বকর ছিদ্দিকের মুক্তি দাবি করেন। সেইসাথে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড বিতরণে দলীয় প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানান।