শাসকদের ‘উন্নয়ন’ থেকে জনগণের অভ্যুত্থান এবং তারপর
Posted: 09 আগস্ট, 2026
বাংলাদেশের গত ছয় দশকে বড় তিনটি গণঅভ্যুত্থানে- ১৯৬৯, ১৯৯০, ২০২৪- আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিল দেখতে পাই। পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক অভ্যুত্থান করে দেশের ক্ষমতা দখল করেন ১৯৫৮ সালে। তাঁর শাসনামলকে (১৯৫৮-১৯৬৮) ‘উন্নয়নের দশক’ হিসেবে উদযাপন করা হয়েছিল। সেসময় অনেক অবকাঠামো নির্মাণ হয়, নতুন শহর হয়, সড়ক ও বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়। সেগুলোকে উন্নয়ন সাফল্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু সেসময় গণতন্ত্র পদদলিত হয়, জাতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। সেই ‘উন্নয়নের’ শেষ পরিণতি হয় ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং আইউব খানের পতন। একইভাবে বাংলাদেশের সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেন ১৯৮২ সালে। সেই আমলেও গণতন্ত্রকে প্রহসন বানিয়ে উন্নয়নের নানা প্রচারণা চলেছিল; উপজেলা ব্যবস্থা, সড়ক ও প্রশাসনিক সম্প্রসারণকে সেই শাসনের সাফল্য বলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই শাসনেরও পতন ঘটে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে। সবশেষ শেখ হাসিনার আমলেও একই চিত্র দেখা গেছে। তবে হাসিনা ২০০৮ সালে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু ২০১৪ থেকে আর কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে না দিয়ে জোরজবরদস্তি ক্ষমতায় ছিলেন। পদ্মা সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, উঁচু ভবন ও নানা মেগা প্রকল্প সেসময় ‘উন্নয়নের মহাসড়কের’ দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রচারিত হয়েছে। দেশি বিদেশি বৃহৎ পুঁজি তাঁর পেছনে সমবেত হয়েছিল, এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছিল। কিন্তু তাঁরও পতন হয় অনির্বাচিত শাসনের দশ বছরের মাথায় ২০২৪ সালে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- এই স্বৈরশাসকদের উন্নয়নের দাবি যদি সত্যি হয় এবং যদি দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণ জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে কেন ওই সরকারগুলো জনগণের বিদ্রোহে পতিত হয়েছে? এর উত্তর অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমরা দেখি, এই তিনটি ক্ষেত্রেই উন্নয়নের দাবি বলা হলেও গণতান্ত্রিক অধিকার চূর্ণ করে একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালানো হয়েছে। ধর্মকে এই শাসনের বর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অত্যাচার, দুর্নীতি, বৈষম্যবৃদ্ধি মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে মানুষ আর উন্নয়নের বিবরণকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছিল না। এই তিনটি সময়েই সরকারের ভূমিকা জনগণের ক্ষোভ, অসন্তুষ্টি এবং প্রতিবাদ ক্রমেই বেড়েছে।
দৃশ্যমান অবকাঠামো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু উন্নয়ন যদি মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, কর্মসংস্থান, জবাবদিহি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে, যদি তা নানাবিধ বৈষম্যবৃদ্ধি করে, যদি তা নদী-বনসহ সর্বজনের সবকিছু দখল করতে থাকে, যদি তা ক্রমবর্ধমান লুণ্ঠন ও দুর্নীতির কারণ হয়, যদি তা জুলুম বাড়ায়, তাহলে সেই উন্নয়ন একসময় মানুষের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন উন্নয়নের ফসল কতিপয় গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, আর সাধারণ মানুষের জীবনে বৈষম্য, বেকারত্ব, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে, তখন উন্নয়নের প্রচারণা যতই উচ্চকিত হোক তা আর জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারে না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বিচার করতে গেলে সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার একটি দীর্ঘ সময় ধরে জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় থেকেছে, ফুটপাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়- নির্যাতনের জাল তৈরি করেছে, রামপাল বাঁশখালিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি করেছে, মেগা প্রকল্পের নামে ভয়ংকর সব দুর্নীতি করেছে এবং বিভিন্নভাবে দখলবাজি ও নানা উপায়ে মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে সীমাহীন অত্যাচার চালিয়েছে। ধর্মীয় নানা গোষ্ঠীকে তাল দিয়েছে। বেকারত্ব ও বৈষম্য যখন বেড়েছে তখন কতিপয় গোষ্ঠীর লুণ্ঠন, সম্পদ পাচার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তারপরও ভয়ংকর দমনপীড়ন নির্যাতন খুন গুম ত্রাসের পরিবেশের মধ্যেও এসবের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক আন্দোলন হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলন হয়েছে, একাধিক বড় বড় ছাত্র আন্দোলন হয়েছে, লম্বা সময় ধরে সুন্দরবন আন্দোলন হয়েছে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন হয়েছে. সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লেখালেখি হয়েছে। হামলা, হুমকি, ক্রসফায়ার, গুম, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্ন আইনের ভয় মাথায় থাকলেও প্রতিবাদ থামেনি।
২০১৮-র পর ২০২৪-র কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের অধিকারের আন্দোলন। সরকারের পক্ষে এটা মেনে নেওয়া মোটেই কঠিন বিষয় ছিল না। কিন্তু সরকার তার স্বৈরতান্ত্রিক মনস্তত্ত্ব এবং জনগণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার অভ্যাসের কারণে শিক্ষার্থীদের দাবি মানতে অস্বীকার করে। এক পর্যায়ে নানা টালবাহানা এবং বলপ্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা চলে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে বর্বর হামলা, মামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় জনগণের মধ্যে বহুদিনের বহুমাত্রিক ক্ষোভ ক্রোধের বিস্ফোরণ ঘটে। সরকার যত নৃশংসতা বাড়াতে থাকে আন্দোলনে জনগণের সমর্থন এবং সম্পৃক্ততা তত বাড়তে থাকে। সেখানে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিল্প শ্রমিক, পথশ্রমিক, নারী, অভিভাবক, শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, আইনজীবী, বিজ্ঞানী, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রশিল্পীসহ সকল স্তরের মানুষই পথে নেমে আসেন। সরকারি বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের আক্রমণকে সম্পূর্ণ তুচ্ছজ্ঞান করে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে মানুষ।
মানুষের সম্মিলিত শক্তির এই প্রকাশই হলো ‘গণঅভ্যুত্থান’। মানুষ যখন নিজের জীবন বাজি রেখে অত্যাচারী রাষ্ট্রের ক্ষমতার মুখোমুখি হয় বা প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন অজান্তেই তারা নতুন চৈতন্যে পৌঁছে যায়, তার পরিবর্তনও হতে থাকে। তারা ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চায়, নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মানুষ হিসেবে সে তখন নিজের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে। এটাই গণঅভ্যুত্থানের মুহূর্ত! ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানও তাই। সেসময় কার্ফুু ভেঙে যেরকম প্রবল প্রতিরোধের শক্তি নিয়ে গানের মিছিলে হাঁটতে থাকেন ক্ষুব্ধ শিল্পীরা, সেই প্রতিরোধ সেই সাহস নিয়েই তৈরি হতে থাকে দেয়ালে-দেয়ালে গ্রাফিতি, আর কলমে, কণ্ঠে, মোবাইলে, বাদ্যযন্ত্রে তৈরি হতে থাকে গানের পর গান- কোথাও একক কোথাও যৌথ। অনলাইন প্রযুক্তির কারণে দ্রুত তা পৌঁছে যায় মানুষের কাছে। সাহস, উদ্দীপনা, সহমর্মিতা এবং সৃজনশীলতা একাকার হয়ে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে ছড়িয়ে যায়।
এর আগে প্রায় এক দশক ধরে দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়েছিল সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলন। এতে বিভিন্ন পর্যায়ে শিশু-কিশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। আন্দোলনের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল অনেক গান, কবিতা, ছড়া, নাটক, তথ্যচিত্র, কার্টুন। এটাই হয়। যে আন্দোলন জনগণকে স্পর্শ করে তা তার প্রাণের শক্তি প্রকাশ করে, চাপা থাকা মানুষের শক্তি শত রূপে শতভাবে প্রকাশিত হয়। আমাদের সব বড় আন্দোলনেই আমরা দেখেছি মানুষের প্রাণের উত্থান। মুক্তিযুদ্ধ তো বটেই, কয়েকশ বছরে উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন, ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থান, ফুলবাড়ী আন্দোলন, সুন্দরবন আন্দোলন সব পর্বেই আমরা সৃজনশীলতার বিস্তার দেখেছি। ২০২৪ এও তারই প্রকাশ দেখলাম।
এরকম গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসে। এরকম সময়ে মানুষ অনেক দূরে তাকাতে চায়, ভেতরে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয় যে, ভবিষ্যতে এমন নিপীড়নমূলক, স্বৈরতান্ত্রিক বা কর্তৃত্ববাদী সরকার আর ফিরে আসবে না। একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটবে এবং নিপীড়ন আধিপত্যের ব্যবস্থার বদল হবে।
কিন্তু দেয়ালে, কণ্ঠ, মিছিলে গুলির মুখে দাঁড়াতে সৃজনশীলতা যে গণঅভ্যুত্থানের প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়ালো তার বিজয়ের পরে কীভাবে ভাস্কর্য, ম্যুরাল, মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন, মাজার, মন্দির, গান, নাটক, উৎসব, পালাগান, বাউল গান, চলচ্চিত্র আক্রান্ত হয় সে প্রশ্ন বারবার তুলতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকার এমন সব গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে যারা বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক গভীর অভিব্যক্তির সামনে একটি পাথরের অচলায়তন দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। মানুষের কোনো আনন্দ-উৎসব, সৃজনশীলতা, নারীর সক্রিয়তা তারা গ্রহণ করতে পারে না। সেসময় থেকে আমরা একটি নতুন ধরনের ফ্যাসিস্টিক প্রবণতার উত্থান দেখেছি। অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা, অন্য ধর্মের মানুষ বা ভিন্নমত প্রকাশকারীদের প্রতি বিদ্বেষ প্রচার এবং আক্রমণ চলছে। শিশু-নারী ধর্ষণ ও বিভিন্ন লিঙ্গের মানুষের প্রতি হুমকি এবং আক্রমণ বাড়ছে। আগের কালের মতোই, মিথ্যা মামলা, পাইকারি গ্রেফতার এবং বিচারবিহীন আটক চলছে।
আরেকটি বিষয় যা গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে তা হলো পুরানো ধারায় জনস্বার্থের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করা। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে অনেক চুক্তি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং অযৌক্তিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রাখার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসবের মধ্যে বন্দরের চুক্তি, স্টারলিঙ্কের সঙ্গে চুক্তি, এলএনজি আমদানি চুক্তি এবং জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অন্যতম। সবচেয়ে উদ্বেগজনক এবং বিপজ্জনক চুক্তি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, যা নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে সম্পন্ন হয়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর, আমরা দেখেছি যে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এই বিষয়গুলোতে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যেসব চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তার পক্ষে সংসদের দলগুলোর নীরবতার ঐক্য গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার প্রকাশ। জনগণ প্রত্যাখ্যাত আগের উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতাতেই এখনও দেশ চলছে।
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান আবারও আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, জনগণই ইতিহাসের প্রকৃত নির্মাতা। রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের শক্তি যত বড়ই হোক, জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তির চেয়ে তা বড় নয়। কিন্তু পাশাপাশি আমরা এটাও দেখতে পাচ্ছি যে, গণঅভ্যুত্থান পরিবর্তনের জন্য একটি বড় শক্তি, পথ ও পদ্ধতি হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারে না। বৈষম্যহীন, নিপীড়ন ও আধিপত্যমুক্ত, গণতান্ত্রিক, সর্বজনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যে ধরনের রাজনৈতিক, মতাদর্শিক ও সাংস্কৃতিক শক্তি সমাবেশ দরকার, তা সংগঠিত হলেই কেবল গণতান্ত্রিক রূপান্তর বা রাষ্ট্রের পরিবর্তন সঠিক পথে হতে পারে। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, গণঅভ্যুত্থানের পর কে রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব পাবে, কোন রাজনৈতিক শক্তি প্রভাব বিস্তার করবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হবে- তা নির্ভর করে আপেক্ষিক সংগঠিত শক্তি, রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও আদর্শিক লড়াইয়ের ওপর।
গণঅভ্যুত্থান জনগণের জন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়, কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব সমাজের গণতান্ত্রিক শক্তির। তার কাজ তাই শেষ হয়নি। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানও তাই কোনো সমাপ্তি নয়, বরং নতুন সংগ্রামের সূচনা।
লেখক : অর্থনীতিবিদ