জনগণের সম্পদ লুটেরাদের কাছে
বিক্রির অধিকার সরকারের নেই
Posted: 02 আগস্ট, 2026
খুলনা সংবাদদাতা :
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেছেন, দেশের উন্নয়নে ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাটকল চিনিসহ ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। অথচ শ্রমিকদের উপর দোষ চাপিয়ে, লোকসানের অজুহাতে প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ এবং এখন বিক্রির মত যড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, “আমরা দৃঢ়তার সাথে বলছি মানুষের জমি অধিগ্রহণ করে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যায় তবে বিক্রি করা যায় না।”
আমাদের দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধ জড়িত। মুক্তিযুদ্ধের আগে এই সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয়করণের দাবি উত্থাপিত হয়ছিল।
৩১ জুলাই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি রতন সেনের ৩৪ তম হত্যা বার্ষিকীর সমাবেশে তিনি এইসব কথা বলেন।
খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি এস এ রশীদের সভাপতিত্বে ৩১ জুলাই কমরেড রতন সেনের স্মৃতি স্তম্ভ চত্বরে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল হান্নান। বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. মনোজ দাস, সহকারী সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, খুলনা মহানগর কমিটির সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এ্যাড. চিত্ত রঞ্জন গোলদার, অশোক সরকার, সুতপা বেদজ্ঞ, গাজী আফজাল হোসেন, আব্দুল হালিম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা খুলনার উন্নয়ন সংগ্রামে, শ্রমজীবী মেহনতি কৃষক শ্রমিকের লড়াইয়ে কমরেড রতন সেনের অসাধারণ অবদানের কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের আফসোস হত্যার ৩৪ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার হয়নি। নেতৃবৃন্দ কমরেড রতন সেনের হত্যা মামলা পুনঃতদন্ত ও বিচারের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকার মিছিল নগর প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশের আগে পার্টি ও ছাত্র যুব, গণ সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
এর আগে সকালে কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, রতন সেন পাবলিক লাইব্রেরি স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
ঢাকা : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সাবেক সদস্য, খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট মার্কসবাদী তাত্ত্বিক কমরেড রতন সেনের ৩১তম হত্যাবার্ষিকীতে হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত ও পুনঃবিচারের দাবি জানিয়েছে তার সহযোদ্ধারা।
গত ৩১ জুলাই বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের আহ্বায়ক কার্তিক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও নাট্যজন সুমনা সোমার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কমরেড রতন সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শিল্পী কীরিটী রঞ্জন বিশ্বাস, সৈয়দ লুৎফুল হক মিঠু, নিয়াজ ফাতেমা সিদ্দিকী শিল্পী, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, কৃষক নেতা জাহিদ হোসেন খান, সিপিবি সূত্রাপুর থানার সভাপতি বিকাশ সাহা, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত, শ্রমিকনেতা মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, খেলাঘর নেতা হাসান তারেক, কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের সংগঠক চঞ্চল দাস, ঝর্ণা খানম, নাসরিন আক্তার, মাহমুদ হোসেন রনি, তারিকুজ্জামান, পুষ্পেন রায়, অপু সরকার প্রমুখ।
সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছর আগে, ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল উপমহাদেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা, সিপিবির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সংগঠক কমরেড রতন সেনকে। এখন ২০২৬ সাল। তিন দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেছে, অথচ এই স্বাধীন বাংলায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার, একজন প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক অভিভাবকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচার হয়নি! এটি শুধু বিচারহীনতার সংস্কৃতি নয়, এটি আমাদের রাষ্ট্র ও বিচার ব্যবস্থার গালে এক মস্ত বড় চড়! যার কারণে আরো হত্যাকান্ড সংগঠিত করতে অপশক্তি কুণ্ঠাবোধ করছে না।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর খুলনা কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত করে চার্জশিট দেয়। খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০০৩ সালে ৩ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাপরওয়ানা দেন এবং বাকিদের খালাস দেন। কিন্তু প্রহসন দেখুন! উচ্চ আদালতে আপিলের পর ২০০৫ সালের দিকে সেই সাজাপ্রাপ্ত আসামিরাও খালাস পেয়ে যায়! রাষ্ট্রপক্ষ এই খালাসের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (নম্বর: ২২০/২০০৫) দায়ের করেছিল। কিন্তু ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই আপিল ফাইলবন্দি হয়ে ধুলো জমিয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রিতা প্রমাণ করে–শাসকগোষ্ঠী কখনো চায়নি রতন সেন হত্যার প্রকৃত খুনি এবং পর্দার আড়ালের মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচিত হোক।
তিনি আরও বলেন, দেশ আজ উগ্র দক্ষিণপন্থার কবলে। এদের প্রতিহত করতে হবে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সহ আধিপত্যবাদী শক্তি দেশের উপরে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতে বিরাজনীতিকরনের ধারাকেই সামনে আনতে চায়। এজন্য এরা নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। মানুষের জীবন দিশেহারা অথচ নানা ইস্যুর মার প্যাঁচে জনজীবনের এইসব সংকটকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। মানুষের হতাশা বাড়ছে। তরুণ সমাজকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে নীতিনিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিজস্ব লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরনো পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।