মানচিত্রের নিলাম ও আমাদের হাড়ের ঘরবাড়ি

Posted: 26 জুলাই, 2026

নকশাকারদের টেবিলে এখন রাত্রিকালীন মেলা বসেছে, সেখানে বেচাকেনা হয় ঘামের ঘ্রাণ, নদীর শরীর। যারা ভাবছে এই পলিমাটি কোনো পৈতৃক ডায়েরির পাতা- যাতে যখন খুশি লিখে দেওয়া যায় দাসত্বের শর্ত, তাদের আঙুলে আজ আমরা ছুঁইয়ে দেবো ত্রিশ লাখ নক্ষত্রের আগুন। এখানে কোনো শকুনের ছায়া দীর্ঘ হতে দেওয়া হবে না, যারা সুদূর সমুদ্রের ওপার থেকে উড়ে আসা দস্যুর থাবায় তুলে দিতে চায় আমাদের মায়ের আঁচল; যারা তোয়াজ করে, যারা বেইমানির মলাটে মোড়ায় স্বদেশ, তাদের ধমনীতে এ দেশের নদীর কোনো স্রোত নেই। তারা চেনে শুধু ডলারের ধারালো নখ, তারা বোঝে না-এই মাটি কোনো বানিজ্যিক পোস্টার নয়। এই মাটি আসলে আমাদের পূর্বপুরুষের সম্মিলিত পাঁজর, যার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এখনো ভোরের দিকে তাকাই। শোনো শকুনের দল, শোনো সাম্রাজ্যবাদের বেনিয়ারা- এই মুক্তাঞ্চল কোনো পণ্যবীথি নয় যে নিলামে তুলবে! আমাদের লাল-সবুজের যে আকাশ, তা কোনো বাপের কেনা সম্পত্তি নয়, তা এ দেশের মেহনতি মানুষের বুকের রক্তে বোনা এক চিরন্তন অধিকার। লাল পতাকার নিচে আজ জড়ো হচ্ছে সহস্র বজ্রপাত, কমরেডদের প্রতিটি শ্লোগান এখন এক একটি জীবন্ত দেয়াল। সেই দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দেবে তোমাদের দালালি, জেগে উঠছে মুক্তিযুদ্ধের এক নতুন নবজাগরণ, যা ধুয়ে মুছে সাফ করবে সব সাম্রাজ্যবাদী নোংরামি। আমরা বিক্রি হতে আসিনি, আমরা মাথা নোয়াতে আসিনি। যতবার তোমরা এই মানচিত্র ছুঁতে আসবে লোভাতুর নখে, ততবার এই মাটি থেকে জেগে উঠবে কোটি কোটি দুর্জয় হাত উচ্চকণ্ঠে বলবে: ‘‘সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক, এই দেশ মুক্ত ছিল, এই দেশ মুক্তই থাকবে!”