সংস্কৃতি খাত : রাষ্ট্রের দৃষ্টিদারিদ্র্যের প্রতিচ্ছবি
Posted: 21 জুন, 2026
গত নির্বাচনে বিএনপি দেশের প্রগতিশীল, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক অঙ্গনের একটি বড় অংশের নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়েছিল। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এই সমর্থন নিছক নির্বাচনী সমীকরণ ছিল, নাকি একটি রাজনৈতিক প্রত্যাশার প্রকাশ ছিল তা নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু অনেকেই আশা করেছিলেন, ক্ষমতার সামাজিক ভিত্তি ও সমর্থনের উৎস বদলে যাওয়ার ফলে দলটির রাজনৈতিক চরিত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দক্ষিণপন্থি সংকীর্ণতা অতিক্রম করে তারা জনকল্যাণমুখী, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সংস্কৃতিবান্ধব ও নারী-অধিকারভিত্তিক কর্মসূচির দিকে অগ্রসর হবে।
কারণ, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, শিল্পী-সাহিত্যিক এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সমর্থন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং একটি মানবিক ও উদার রাষ্ট্রচিন্তার পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা থেকেও ছিল। প্রত্যাশা ছিল, সংস্কৃতির জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক ও সৃজনশীল চর্চা গুরুত্ব পাবে, মৌলবাদী চাপের কাছে রাষ্ট্র নতি স্বীকার করবে না এবং শিল্প-সাহিত্যের স্বাধীন বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
কিন্তু বাস্তবে সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের সংকোচন, প্রাথমিক পর্যায়ে সংগীত ও চারুকলার শিক্ষক নিয়োগ থেকে সরে আসা, সাংস্কৃতিক পরিসরে মৌলবাদী চাপ মোকাবিলায় দৃশ্যমান দৃঢ়তার অভাব ইত্যাদি কারণে অনেকের মধ্যেই হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে কি সত্যিই রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক দর্শনের পরিবর্তন ঘটেছে, নাকি কেবল ক্ষমতার বিন্যাস বদলেছে অথচ সংস্কৃতি ও মানবিকতার প্রশ্ন এখনো আগের মতই রয়ে গেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির বিপুল ভাষ্য এই বাজেটজুড়ে উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল অঙ্কের ভেতরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৮২৬ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ০.০৮৮ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই হার ছিল ০.১০ শতাংশ। অর্থাৎ মোট সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় সংস্কৃতির অংশীদারিত্ব আরও কমেছে।
একটি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সামনে নতুন এক গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসন সমাজে ভয়, বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও একমুখী চিন্তার যে সংস্কৃতি তৈরি করেছে, তা দূর করার জন্য সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের কোনো বিকল্প নেই। সাহিত্য, নাটক, সংগীত, চারুকলা ও লোকঐতিহ্যই পারে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক চেতনা ফিরিয়ে আনতে।
একসময় এই বাংলার গ্রামীণ সমাজে যাত্রাপালা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়গান শোনাত, বাউলগান মানুষকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসতে শেখাত, গণসংগীত শোষণ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠত। হাটে-মাঠে, মেলায়, প্রভাতফেরিতে এবং গণনাট্যে এক ধরনের মানবিক সমাজচেতনা গড়ে উঠত। মানুষ কেবল বিনোদিত হতো না, তারা নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনুভূতিও অর্জন করতো। আজ সেই সাংস্কৃতিক পরিসর ভয়াবহভাবে সংকুচিত।
ঢাকা শহরের দিকেই তাকানো যাক। প্রায় দুই কোটি মানুষের এই মহানগরে গত দুই দশকে কয়টি নতুন উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মিত হয়েছে? কয়টি নতুন থিয়েটার হল, লাইব্রেরি, সিনেমা হল কিংবা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে? বাস্তবতা হলো- যা হয়েছে তা একেবারেই নগণ্য। বরং বহু কিছু হারিয়ে গেছে। বহু সিনেমা হল ভেঙে শপিংমল হয়েছে, সাংস্কৃতিক পরিসর দখল করেছে বাণিজ্যিক স্থাপনা। যে অল্প কিছু সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা কমিউনিটি হল টিকে আছে, সেগুলোর বড় অংশ এখন বিয়ে, গায়ে হলুদ কিংবা করপোরেট অনুষ্ঠানের ভাড়াকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর এই চিত্রই যখন বাস্তবতা, তখন গোটা দেশের পরিস্থিতি সহজেই অনুমেয়।
এটি যে রাষ্ট্রীয় দর্শনের সংকট তা বহু আগে থেকেই আমরা বলছি। যে রাষ্ট্র ফ্লাইওভার নির্মাণকেই উন্নয়ন মনে করে কিন্তু একটি গণগ্রন্থাগার নির্মাণকে জরুরি মনে করে না, সেখানে মানুষের নৈতিক অধঃপতন ঘটতেই থাকবে। আজকে সমাজে নৈতিকতার যে ভয়াবহ অবস্থা তা যে সাংস্কৃতিক বিপর্যয়েরই ফল, তা অনুধাবন করার মত রাজনৈতিক প্রজ্ঞা কি রাষ্ট্রের কর্তাদের আছে?
গত দুই দশকজুড়ে বাংলাদেশে বাউল শিল্পীদের ওপর যে ধারাবাহিক আক্রমণ হয়েছে তা গভীরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। যারা শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে এই ভূখণ্ডে মানবধর্ম, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার গান গেয়ে এসেছেন, তারাই আজ মৌলবাদী আক্রমণের শিকার। শেখ হাসিনা সরকারের সময় যেমন হয়েছিল, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা আরও বিস্তৃত হয়েছে। কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে বাউল আখড়া, কোথাও আক্রান্ত হয়েছে মাজার, কোথাও শিল্পীদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, ভেঙে ও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের নীরবতা এসব আক্রমণকে আরও উৎসাহিত করেছে।
অথচ এই বাজেটে বিধ্বস্ত বাউল আখড়া পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। নেই ধ্বংসপ্রাপ্ত মাজার, আক্রান্ত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কিংবা মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের স্মারক ভাস্কর্য পুনর্গঠনের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা। রাষ্ট্র তার ইতিহাস , ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির প্রতি কি দায়বদ্ধতা হারিয়ে ফেলেছে?
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সংস্কৃতি ও শিক্ষানীতির প্রশ্নে রাষ্ট্রের ধারাবাহিক আপসকামিতাও গভীরভাবে লক্ষণীয়। শেখ হাসিনা সরকার দীর্ঘ সময় ধরে মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে এক ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছিল। ক্ষমতাকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল হিসেবে কখনো “কওমী জননী” উপাধি গ্রহণ, কখনো চাপের মুখে পাঠ্যপুস্তক থেকে বহু শিশুবান্ধব, অসাম্প্রদায়িক ও সৃজনশীল লেখা বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত সেই নীতিহীন আপসেরই বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে শিক্ষা ও সংস্কৃতির পরিসরে মুক্তবুদ্ধি ও মানবিক চর্চা ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকারের প্রবণতাও একই দিকে ঝুঁকছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সংগীত ও চারুকলার শিক্ষক নিয়োগের যে ঘোষণা একসময় দেওয়া হয়েছিল, মৌলবাদী ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর চাপের মুখে সেখান থেকেও সরকার সরে এসেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল গান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও মাজারে হামলার ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছেনা। ফলে সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মানবিক শিক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক সমঝোতাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।
আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো সংস্কৃতিকে ক্রমশ বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তরের প্রবণতা। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শিল্প ও সংস্কৃতির বাণিজ্যিকীকরণের চেয়ে এর নান্দনিক, সৃজনশীল ও মননশীল দিকটিই প্রধান। সংস্কৃতির মানদণ্ড যদি কেবল আর্থিক উপার্জন দিয়ে নির্ধারিত হয়, তবে শিল্পের আত্মা ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যায়। তখন শিল্পী সমাজের বিবেক না হয়ে বাজারের চাহিদা পূরণের কারিগরে পরিণত হন।
সংস্কৃতি কোনো পণ্য নয়। এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও মূল্যবোধের ধারক। তাই সরকার তথা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাহিত্য-শিল্পের বিকাশ এবং মননশীল চর্চার প্রসার। কিন্তু এবারের বাজেটে “ক্রিয়েটিভ হাব” তৈরির যে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ “সৃজনশীল শিল্প” ধারণাটি যদি কেবল বাজার, ব্র্যান্ডিং ও বিনোদন ব্যবসার সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে লোকসংস্কৃতি, গণসংগীত, পরীক্ষাধর্মী নাটক বা সমাজমনস্ক শিল্পচর্চা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বে। শিল্পের মুক্ত ও প্রতিবাদী চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আজ প্রয়োজন সংস্কৃতিকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখা। কেবল রাজধানী নয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্মুক্ত মঞ্চ, গণগ্রন্থাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও লোকসংস্কৃতির উৎসব গড়ে তুলতে হবে। শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে অভিজ্ঞ সংস্কৃতিকর্মীদের হাতে দায়িত্ব দিতে হবে। শিল্পচর্চার ওপর সব ধরনের ভয়, সেন্সরশিপ ও অযৌক্তিক বাধা দূর করতে হবে।
কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ কেবল তার জিডিপি দিয়ে নির্ধারিত হয় না, নির্ধারিত হয় তার কল্পনাশক্তি, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক গভীরতা দিয়ে।
সংস্কৃতির জন্য ০.০৮৮ শতাংশ বরাদ্দ তাই নিছক রাষ্ট্রের আর্থিক কৃচ্ছ্রতার বিষয় নয়, এটি আমাদের সময়ের এক গভীর রাজনৈতিক, নৈতিক ও সভ্যতাগত সংকটের প্রতীক। এই বাস্তবতায় সরকারের ভেবে দেখা প্রয়োজন তারা কি জনগণের প্রত্যাশিত নিজস্ব গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতায় এসেছে, নাকি সংসদে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক এজেন্ডাকেই পরোক্ষভাবে কার্যকর করতে এসেছে।
কারণ ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন কোনো রাষ্ট্র সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি ও মানবিক শিক্ষার ক্ষেত্র সংকুচিত করে এবং মৌলবাদী চাপের সামনে আপসের পথ বেছে নেয়, তখন শেষ পর্যন্ত সেই আপস কেবল সাংস্কৃতিক পরিসরকেই দুর্বল করে না, গণতন্ত্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। মৌলবাদী শক্তির বিকাশ যে আদর্শিক ও নৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে ঘটে, সেই সংকীর্ণ, অসহিষ্ণু ও প্রতিক্রিয়াশীল ভাবাদর্শ সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো মানবিক মুক্তি বা সামাজিক অগ্রগতি বয়ে আনে না। বরং তা মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা সংকুচিত করে, সমাজে বিভাজন বাড়ায় এবং সৃজনশীল শক্তিকে দমিয়ে দেয়।
সংস্কৃতি খাতে মোট জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১ শতাংশ বরাদ্দ রাখার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী, লেখক ও প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ যে দাবি জানিয়ে আসছেন, তার ন্যায্যতা নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ সংস্কৃতিতে ব্যয় কোনো অপচয় নয়, এটি একটি জাতির মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সৃজনশীল ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।
যে রাষ্ট্র শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, নাটক, সংগীত ও শিল্পচর্চাকে শক্তিশালী করে, সেই রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে সহনশীল, উদার ও সচেতন নাগরিক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। বিপরীতে সংস্কৃতিকে অবহেলা করলে সমাজে উগ্রতা, অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিস্তার ঘটে। তাই সংস্কৃতি খাতে ১ শতাংশ বরাদ্দের দাবি কেবল অর্থ বৃদ্ধির দাবি নয়, এটি একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণেরও দাবি।
লেখক: সাধারণ সম্পাদক, উদীচী, কেন্দ্রীয় কমিটি