হাম ও উপসর্গে প্রাণহানি থামছে না
Posted: 21 জুন, 2026
একতা প্রতিবেদক :
এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৬৭০ জনে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গে ৫৭৭ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৯ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯৬ দিনে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৯০ হাজার ৯৮২ জনের মধ্যে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৫ হাজার ১৫৬ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৬৯ জনের। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯৬ জন।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেয়ামাত্রই কোনো ধরনের অবহেলা না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরে গুটি বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করে, হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা কার্যত হামেই মৃত্যু। রোগ শনাক্তের সীমাবদ্ধতার কারণে নিশ্চিত হামে মৃত্যু বলা যাচ্ছে না।
হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী চলছে টিকাদান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, শতভাগের বেশি শিশু টিকার আওতায় এসেছে। তাহলে এখন প্রশ্ন- টিকা দেয়ার দুই মাস হতে চললেও কেন কমছে না সংক্রমণ? টিকা সব শিশু পাচ্ছে কি-না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে, চিকিৎসকরা বলছেন, টিকার প্রথম ডোজ ৭০ শতাংশের কম কার্যকর। তাই টিকা নেয়ার পর কেউ কেউ আক্রান্ত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সুরক্ষা নিশ্চিতে বয়স অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, একটি টিকা দিলে ৬০ বা ৭০ শতাংশ সুরক্ষা হয়। দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হলে ৯৫ শতাংশ বা শতভাগ সুরক্ষা হয়। এ ছাড়া, ৫ বছরের বড় শিশুদেরও বেসরকারিভাবে হামের টিকা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।
হাম থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর অন্য জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার কারণেও সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর নজির নেই। মারা যাওয়া ৫০১ জনের মধ্যে ৮০ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। এই মৃত্যু শুরু হয়েছে এ বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকেই। এখনো মৃত্যু অব্যাহত আছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের একটি অংশ কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযোগ করে আসছে যে হাম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে হামে মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না।