ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করায় নিন্দা
Posted: 07 জুন, 2026
একতা প্রতিবেদক :
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ গত ২ জুন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মৌলবাদীদের চাপের মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসন চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীগুলো বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনা পূর্ববর্তী হাসিনা ও ইউনূস সরকারের মৌলবাদ ও মবতন্ত্রের প্রতি সরকারি মদদ দানের ধারাবাহিকতাই প্রমাণ করে। সম্পূর্ণ অযৌক্তিক কারণে কথিত কওমী ছাত্র সংগঠনের আপত্তির মুখে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়ার এই ঘটনা দেশে সরকারের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঠিক কী কারণে ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’র প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়া হল সরকারকে তা পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা দিতে হবে। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ‘তৌহিদী জনতা’র নাম ব্যবহারকারী নব্য ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে পদদলিত করে দেশে মধ্যযুগীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আশ্চর্যের বিষয় যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার তাদের ১২০ দিনের মধ্যেই এই অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে আত্মসমর্পন করে দেশে-বিদেশে দারুণভাবে সমাদৃত দেশীয় ছবির স্থানীয় প্রদর্শন বন্ধ করার যে নজির স্থাপন করেছে তা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে নস্যাৎ করার বার্তা দেয়।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য আশা করে, সরকার দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উক্ত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবে, মব সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করবে এবং সমাজের সকল মত ও পথের মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অবাধ সাংস্কৃতিক তৎপরতার অধিকার নিশ্চিত করবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু, প্রগতি লেখক সংঘের কোষাধ্যক্ষ দীনবন্ধু দাশ, গণসংস্কৃতি কেন্দ্রের সমন্বয়ক জাকির হোসেন, সমাজচিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সমন্বয়ক বিমল কান্তি দাশ, সংগঠক রঘু অভিজিৎ রায়, বাংলাদেশ থিয়েটারের দলপ্রধান খন্দকার শাহ আলম, বাংলাদেশ মাইম এসোসিয়েশনের সভাপতি ম. আবু হারুন টিটো, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের সম্পাদক ইনজামাম, সাংজোগাড়ের সাধারণ সম্পাদক অংকন চাকমা, উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান, চারণের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ও বিবর্তনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুন নূজহাত মনীষা প্রমুখ।