ঈদযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যুতে ক্ষোভ ক্ষতিপূরণ দাবি

Posted: 07 জুন, 2026

একতা প্রতিবেদক : সড়কে ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের নির্মম মৃত্যুর প্রতিবাদে ও মৃত্যুর মিছিল থামাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে ক্ষেতমজুর সমিতি। গত ২৫ মে ঈদযাত্রায় টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হবার পরদিন বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান। বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সহ সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, রিক্সা ভ্যান ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, কোরবানির পশু আনার জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ বাড়িতে যাওয়া এবং কর্মস্থলে ফেরার জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয় না। এসব দরিদ্র অসহায় মানুষ কাজের আশায় রাজধানীসহ বিভিন্ন বড় শহরে আসেন। দিনরাত পরিশ্রম করে আয় যা করেন তা কিভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছানো যায় সে চিন্তা থেকেই কম ভাড়ায় যাওয়ার জন্য রড বোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছিল তাঁরা। সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা থাকলে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাত্রা করতে হতো না। সিড়ক দূর্ঘটনায় এসব মৃত্যুকে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করে তিনি সবার যাত্রা নিরাপদ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। ডা. ফজলুর রহমান বলেন, গ্রামে সারা বছর কাজ না থাকায় বাকি সময়টা জীবন বাঁচাতে তাদেরকে শহরে আসতে হয়। পরিবারের সাথে ঈদ পালন করার জন্য এসব মানুষ আবার বাড়ি ফিরে যান। যে ১৫ জন শ্রমজীবী মানুষ মারা গেলেন তাদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপুরণ দেওয়া ও পুনর্বাবসন করতে হবে এবং আহতদের সরকারিভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। গাড়ি ভাড়া প্রায় ২ হাজার টাকা যেটা তাদের পক্ষে খরচ করা সম্ভব হয় না। অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা বলেন, শত কষ্টের মধ্যেও দরিদ্র শ্রমজীবী ক্ষেতমজুররাই দেশকে টিকিয়ে রেখেছে। তারাই সরকারকে ট্যাক্স দেয় সবচেয়ে বেশি আবার করোনার মতো মহামারিতে ধান লাগানো থেকে শুরু করে সব কাজ করে সমাজটা টিকিয়ে রেখেছে। কৃষক, ক্ষেতমজুর ফসল ফলানোর কারণেই আমরা ভাত খেতে পারছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা কেন সারা বছর কাজ পাবে না? খাদ্যের নিশ্চয়তা পাবে না? তাদেরকে কেন বাড়ি ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য জেলায় গিয়ে কাজ করতে হবে? তিনি ঈদে বাড়ি যাওয়া-আসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গ্রামের মজুররাই শহরে কাজের আসার আসে। তারা ঈদে বাড়ি যাবে। কিন্তু প্রতিবছর অনেক মানুষ সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। যেখানে বাসের ছাদে লোক নেওয়া নিষেধ সেখানে রড বোঝাই ট্রাকে করে কিভাবে এতগুলো মানুষ মহাসড়ক দিয়ে গেল। এগুলো কেন ট্রাফিক পুলিশের চোখে পড়ে না? নেতৃবৃন্দ সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে শুধু মন্ত্রীদের কথার কথা না বলে বাস্তবে কাজ করার আহ্বান জানান। ২৫ মে ভোররাতে যমুনা সেতুর কাছে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন ক্ষেতমজুরের মৃত্যু হয়। তাঁরা যাতায়াত ভাড়ার খরচ কমাতে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। নিহতদের ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায়।