শিশুদের এই করুণ মৃত্যুর দায় কার?

Posted: 17 মে, 2026

বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। এক সরকার, এনজিও এবং স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞরা মিলে গত কয়েক দশক ধরে এমন জয়গান গেয়ে আসছেন। এমনও বলা হয়েছে, টিকাদানের ফলে শিশুদের মারাত্মক ছয়টি রোগ প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে। ফলে গত ২০ বছরে দেশে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুহার ৮১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে একের পর এক শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। যে রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা মারা যাচ্ছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রায় শুরু থেকেই শিশুদের সেই হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক এই রোগটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ করে কেনো ব্যাপকমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে? দুঃখজনক এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে অবহেলা এবং অবৈজ্ঞানিক ও পশ্চাৎপদ দৃষ্টিভঙ্গী। মূলত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে টিকা কেনায় চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণেই দেশে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের সরকার দায়িত্ব নিয়ে টিকা সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতি বাতিল করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করেছিল। সে সময় ইউনিসেফের কর্মকর্তারা একাধিকবার সরকারের উচ্চপর্যায়ে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, নতুন সিদ্ধান্ত ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। টিকা সংগ্রহে ১২ মাস বিলম্ব ঘটবে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকেও বারবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সরকার তা শোনেনি। শেষ পর্যন্ত ড. ইউনূসের সরকার টিকা আমদানিতে ব্যর্থ হয়। এ কারণে গত মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় গুদামে হাম-রুবেলাসহ ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমে আসে। ওই মাসে সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪১ শিশু প্রাণ হারায়। সেই যে শুরু হয়েছে হামে শিশু মৃত্যুর এই মিছিল দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের। ফলে হাম শুধু যে একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তা কিন্তু নয়। এটি বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার ফলে সমাজে সৃষ্টি হওয়া চরম বৈষম্যেরও প্রতিচ্ছবি। সুষম খাবারের অভাবে অপুষ্টির শিকার, পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কারণে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়া এবং চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় জন্ম নেওয়া শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।