পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে হেরে আইনজীবীর ভূমিকায় মমতা

Posted: 17 মে, 2026

একতা বিদেশ ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সাক্ষী হলো রাজ্যবাসী। রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর পোশাকে সওয়াল করলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের আদলে কলকাতায় প্রথমবারের মতো অবৈধ কারখানায় ‘বুলডোজার’ চালিয়েছে নতুন সরকার। নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে ১২ মে জনস্বার্থ মামলা করেন প্রখ্যাত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র অ্যাডভোকেট শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হয়। এদিন কালো গাউন পরে মামলার শুনানিতে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে দেখা গেলেও এবার তিনি নিজ দলের কর্মীদের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইতে হাইকোর্টে দাঁড়ালেন। আদালতে মমতা বলেন, ‘ভোটের পর শিশু, নারী এমনকি সংখ্যালঘু কাউকেই রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ঘরবাড়ি লুট ও আগুন দেওয়ার নতুন নতুন অভিযোগ আসছে, কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটি কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যবাসীকে বাঁচান।’ পাল্টা সওয়াল করেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, তৃণমূলের এসব অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি বা তথ্যপ্রমাণ নেই। পুলিশ বর্তমানে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেননি। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার নীতি’ এবার দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গেও। নির্বাচনের প্রচারে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে কঠোর অপরাধ ও অবৈধ কাজ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।