২০ মে’র মধ্যে ঈদ বোনাস বেতন-বকেয়া দিতে হবে

Posted: 17 মে, 2026

একতা প্রতিবেদক : গার্মেন্ট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পূর্ণ বোনাস এবং মে মাসের পূর্ণ বেতন ঈদের ছুটির আগে ২০ মে’র মধ্যে পরিশোধের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। গত ১৫ মে সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিলীপ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল সাহা, আজিজুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাজাহান, শাহীন আলম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নগর কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, শ্রমিক নেতা আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি, কলি বেগম, আনিসুজ্জামান, জাহিদ নগর, শ্রমিকনেতা সফিকুল, ছাত্রনেতা তোহা প্রমুখ। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ বলেন, শ্রমিকের শ্রমে দেশের অর্থনীতি চলে। শ্রমিকের রক্ত পানি করা শ্রম ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। শুধু উৎপাদন নয় এদেশের শ্রমিকের অবদান আরো বড়। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছে। তার সুফল থেকে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তাই নয় বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হারে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করা হয় না কখনো। এতে শ্রমিকের জীবন আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠে দিন দিন। তিনি আরও বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবি করে গত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে পতিত স্বৈরাচারের গুলিতে চারজন শ্রমিকনেতা প্রাণ হারিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত সরকার এসেছে। অথচ গণ-অভ্যুত্থানের পরেও ন্যায্য দাবি উত্থাপন করে শ্রমিকদের জীবন দিতে হয়েছে। সরকার মুখে শ্রমিকের কথা বললেও কাজে এখনো তার কোনো প্রমাণ রাখেনি। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকের আত্মত্যাগ ও জীবনদান সবচেয়ে বেশি। তাই শ্রমিকবান্ধব আচরণ না করা সরকারের জন্য হবে গণঅভ্যুত্থানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। এ শ্রমিক নেতা বলেন, ২০ মে’র মধ্যে ঈদ বোনাস, চলতি মাসের পূর্ণ বেতন ও সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে মালিকদেরও বাধ্য করতে সরকারকে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকরা আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের পাওনা আদায় করবে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের শত শত গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং লাখো শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, গত রোজার ঈদে ৩৫ শতাংশ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বোনাস দেয়া হয়নি। টিসিসি’র যে সিদ্ধান্ত সেই সিদ্ধান্তগুলো এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা দাবি জানাই সেই সিদ্ধান্তগুলো অতি দ্রুত এই সরকার বাস্তবায়ন করবে। ১০০ ভাগ কারখানায় ঈদের আগে বেতন নিশ্চিন না করলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে ন্যায্য আধিকার আদায় করা হবে। সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, বর্তমানে গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের বহু কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে। অনেক কারখানা এখনো ঈদ বোনাস দেয়নি। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশের ছয়টি প্রধান শিল্পাঞ্চলের ৩১ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি এবং ১২ শতাংশ কারখানা ফেব্রুয়ারির বেতনও দেয়নি। শ্রমিকদের কারখানা ভিত্তিক রেশন চালু হওয়ার কথা থাকলেও এব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমরা কেনো ধরনের সুব্যবস্থাপনা দেখতে পাইনি। তারা বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে এই খাত থেকে, যেখানে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক-বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা-নিরন্তর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। তাদের ঘাম ও শ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। এমনকি ঈদের আগে কাজের চাপে কোন সাপ্তাহিক ছুটি থাকে না। জেনারেল ডিউনিটির নামে পুরা মাস জুড়ে শ্রমিকদের খাটানো হয়। কিন্তু বেতন ও বোনাসের কথা বললেই মালিকদের টালবাহানা শুরু হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বর্তমানে অনেক কারখানায় নিয়মিত বেতন পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে, ঈদ বোনাস সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না এবং বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে। একই সঙ্গে কাজের চাপ ও উৎপাদন লক্ষ্য বাড়ানো হলেও শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হচ্ছে না। সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার আগে সকল গার্মেন্টস শ্রমিকের পূর্ণ বেতন, ঈদ বোনাস এবং সকল বকেয়া পাওনা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন। শ্রমিক সমাবেশ শেষে একটি মিছিল কদমফুল ফোয়ারা ঘুরে তোপখানা সড়ক হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।