আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হই
Posted: 17 মে, 2026
সম্প্রতি দেশে হামের কারণে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুতে জনমনে তীব্র আতংক তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় আতংকিত না হয়ে আমাদের শিশুদের এ সংকট থেকে কিভাবে রক্ষা যায় তা জানা জরুরি প্রয়োজন। প্রথমে জানতে হবে হামের উপসর্গগুলো কী কী।
* শিশুর জ্বর এবং গায়ে লালচে দানা দেখা দিলে হাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সেই সাথে যদি সর্দি, কাশি কিংবা চোখের সমস্যা এর কোনো একটি থাকে তবে সে শিশু হামে আক্রান্ত বলে ধরে নিতে হবে।
* মনে রাখতে হবে হামের দানা দেখা দেওয়ার চার দিন আগ থেকে দানা দেখা দেওয়ার চার দিন পর পর্যন্ত হামে আক্রান্ত রোগী অন্যদের সংক্রামিত করতে পারে। সুতরাং হাম প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে জ্বর হলেই শিশুকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং পৃথকিকরণ মেনে চলতে হবে।
* হাম একটি প্রতিরোধ যোগ্য মারাত্মক সংক্রামক রোগ। সাধারণত ৯মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত বয়সের শিশুরাই এ রোগে আক্রান্ত হয়। তবে মায়ের শরীর থেকে পাওয়া প্রতিরোধ খমতা কম থাকলে এর আগেও হতে পারে।
পূর্ণ মাত্রায় হামের টিকা নেওয়া থাকলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
* হাম থেকে প্রতিরোধের জন্য শিশুকে ৯ মাস পার হলে একটি এবং ১৫ মাস পার হলে একটি এম আর টিকা দিতে হবে।
* প্রাদুর্ভাবের সময় ৬ মাস পার হলেই টিকা দিতে হবে এবং পরে নিয়মিত ২ ডোজও দিতে হবে।
* যে সকল শিশুর ইতিপূর্বেই ২ টি টিকা নেওয়া আছে তাকে আরও ১ টি টিকা নিতে হবে।
হামের রোগীর চিকিৎসায় করণীয়
* আক্রান্ত শিশুকে পূর্ণ মাত্রায় টিকা না নেওয়া শিশু থেকে পৃথক রাখতে হবে।
* জ্বরের জন্য ওজন/বয়স অনুযায়ী প্যারাসিটামল ঔষধ দিতে হবে।
* মায়ের দুধ পান করা শিশুকে ঘন ঘন বুকের দুধ পান করাতে হবে।
শিশুর বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে এবং আমিষ জাতীয় খাবার বেশি করে দিতে হবে।
* শিশুর বয়স অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ (৬ মাসের নিচে ৫০ হাজার আইইউ, ৬ মাস-১ বছর হলে ১ লাখ এবং ১ বছরের বেশি হলে ২ লাখ মাত্রার) ২ ডোজ খাওয়াতে হবে।
* পাতলা পায়খানা হলে নিয়মমতো খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
* হামে আক্রান্ত শিশুর শ্বাস কষ্ট, দ্রুত শ্বাস, বারবার বমি করা, পানিশূন্যতা, খেতে না পারা, মুখের ভিতর ঘা, চোখের সমস্যা কিংবা খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
হামে আক্রান্ত শিশুর সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পর হামের টিকা নেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই, বরং এতে করে প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পায়।
তাই, আসুন আমরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হই এবং আমাদের শিশুদের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসি।
লেখক : শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ