‘হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ইউনূস ও তার সরকারের’

Posted: 10 মে, 2026

একতা প্রতিবেদক : হামের টিকা ক্যাম্পেইনে চরম অবহেলা ও ব্যর্থতার ফলে দেশে এক গভীর জনস্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০-এর অধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। এই শিশুদের মৃত্যুর জন্য বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই উল্লেখ করে তাদের ভূমিকার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও ছাত্র ইউনিয়ন। এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু অবিলম্বে এ বিপর্যয়ের ঘটনা তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। যুব ইউনিয়ন মনে করে, বিশেষ করে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম এ ক্ষেত্রে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেছেন। শিশুদের জীবন সুরক্ষাকে উপেক্ষা করে হঠাৎ করে টিকা ক্রয়সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনে ড. ইউনুসের সরকার, যার ফলেই হামের টিকার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত তা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, টিকা ক্রয় নীতিতে পরিবর্তন আনার সময় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের একাধিক সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও বিগত সরকার উদাসীনতার পথই বেছে নেয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একইসাথে নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এতোশিশুর প্রাণহানির পরও বর্তমান সরকার এ রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর দায়ে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, হামে শিশুদের মৃত্যু একধরনের কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম জানিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরামর্শেই হামের টিকা কেনার প্রচলিত পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও হামের টিকা কেনার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদাসীনতা ও গাফিলতির স্পষ্ট প্রমাণ উঠে এসেছে।