বরিশালে শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

Posted: 01 মার্চ, 2026

বরিশাল সংবাদদাতা : বরিশালে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বরিশাল জেলা কমিটি গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭ ঘটিকায় নাজির মহল্লায় শ্রমিক সমাবেশ ও আলচনা সভা আয়োজন করে। শ্রমিকনেতা এ.কে আজাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, শ্রমিকনেতা জাহাঙ্গীর কবির মুকুল, দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন দত্ত, বরিশাল জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেকান্দার সিকদার, নৌজান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হাশেম, টিইউসির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুষার সেন, জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি বীনা রানী, নাছির সরদার ও লিপিকা মজুমদার। নেতারা বলেন, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তার মধ্যে একজন হচ্ছেন রিকশা চালক আর একজন দোকান কর্মচারী। ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানে শ্রমিক নেতা কুনু মিয়া, ৯০ এর গণঅভ্যূত্থানে নূর হোসেন, তাজুল ইসলাম, ১৯৭১ এ অগনিত শ্রমিক কৃষক জীবন দেয়। চব্বিশের আন্দোলনে ঢাকার রিকশা চালক, গামেন্টস শ্রমিকসহ অসংখ্য শ্রমিক জীবন দেয়। বক্তারা বলেন, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের মদতে শহীদ মিনার ভাঙ্গার দৃশ্য দেখে জাতি কষ্ট পেয়েছে ও অপমানিত হয়েছে। উগ্র সম্প্রদায়ীক গোষ্ঠী, কবর থেকে মানুষ তুলে পুড়িয়ে দেয়া, নির্মম ভাবে পিটিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেয়া, হিন্দু বাড়ী ঘরে আগুন, ভাঙচুর, লুট-পাট করা, মব-সন্ত্রাস তৌহিদি জনতার সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ধর্মের নামে সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি বিনষ্ট করার মধ্যে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নতুন করে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী, রাজত্ত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে। একাত্তরকে অস্বীকার করা, জাতীয় সংগীত অস্বীকার করা সহ ৪৭ সালের সম্প্রদায়ীক পাকিস্তানী বরবর রাষ্ট্র ব্যবস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে আফগানী পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছে। তারা নারী সমাজকে অপদস্ত অপমানীত করে ধরে উঠাবার অপচেষ্টা করেছে। ১৯৫২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শ্রমিকেরা লড়াই সংগ্রামে জীবন দিলেও তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাজ, মজুরি ও চাকুরির নিরাপত্তা শ্রমিক পায়নি। তাই প্রতারক, সুবিধাবাদ, সাম্প্রদায়ীকতা এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে।