২০ রোজার মধ্যে ঈদ বোনাস ও
বকেয়া পরিশোধ করতে হবে
Posted: 01 মার্চ, 2026
একতা প্রতিবেদক :
বেতন-বকেয়া ও পূর্ণ ঈদ বোনাসের পাশাপাশি গার্মেন্ট শ্রমিকদের মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন ২০ রোজার মধ্যে পরিশোধের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।
২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বেতন-বোনাস ও বকেয়া সকল পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিলীপ দাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল সাহা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাজাহান, কোষাধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা মৈত্রী ঘোষ, রিফাত হাবিব, শিল্পী আক্তার, শাহীন আলম, ইব্রাহীম ফকির, বাবলু হাসান প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ বলেন, শ্রমিকের সীমাহীন আত্মত্যাগ ও জীবনদানের মধ্যদিয়ে দেশে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে তার ফলাফল হিসেবে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ বঞ্চিতই হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুসারে গার্মেন্ট শ্রমিকের নতুন মজুরি কাঠামো হয়নি। মজুরি বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তবে বাজারদরের সঙ্গে সংঙ্গতিপূর্ণ হারে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি না করা, বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাই, পাওনা পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ ইত্যাদি জুলুম চলমান আছে।
তিনি আরও বলেন, সঠিক সময়ে শ্রমিকের বেতন, পূর্ণ ঈদ বোনাস প্রদান করার দায়িত্ব মালিকপক্ষ নিতে চাচ্ছে না। তারা তাদের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সরকারের কাছে এ বাবদ ঋণ আদায়ের শর্তে দরকষাকষি শুরু করেছে।
সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বহু আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকরা তাদের সংকটের সুরাহা হবে ভেবেছিল। কিন্ত কিছু কাগজপত্র প্রকাশ ব্যতিত বাস্তবে সরকারের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে শ্রমিকের প্রত্যাশার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।
তিনি বলেন, নতুন সরকারের কর্তব্য হবে শ্রমিকদের সাথে অতীতের ন্যায় প্রহসন না করে বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে অবিলম্বে গার্মেন্ট শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা।
পাশাপাশি তিনি অবিলম্বে কারখানাভিত্তিক রেশন ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানান।
সমাবেশে অন্য নেতারা বলেন, কিছু কারখানায় এখনো জানুয়ারি মাসের মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। মালিকপক্ষ লোকসানে থাকার অজুহাত দেখিয়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করেছে।
নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রাখেন, কার্যাদেশ কম থাকায় যদি মালিকরা লোকসানেই থাকবেন, তাহলে কেন শ্রমিকদের দিয়ে দিন-রাত ওভারটাইম করানো হচ্ছে। টার্গেটের নামে এত বাড়তি উৎপাদনের চাপ কেন শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে?
সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, ঈদের ছুটি নিয়ে শ্রমিকদের জেনারেল ডিউটির নামে অধিক হারে শোষণের পদ্ধতি চালু করেছে মালিকরা। ছুটি নিয়ে মালিকদের এই কারচুপি বন্ধের জন্য সরকারি দপ্তরকে তৎপর হতে হবে।
একইসঙ্গে শেষ সময়ে পূর্ণ বোনাসের বদলে অল্প কিছু টাকা ধরিয়ে দেয়ার পুরাতন কৌশল থেকে মালিকদের বিরত থাকা এবং শিল্পের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশ থেকে আগামী ৬ মার্চ গার্মেন্ট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাস এবং মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধের দাবিতে সকল গার্মেন্ট শিল্প এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিক সমাবেশ শেষে একটি মিছিল কদমফুল
ফোয়ারা ঘুরে তোপখানা সড়ক হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।