মান+হুঁশ = পশু নয়, মানুষই

Posted: 09 সেপ্টেম্বর, 2018

হাবীব ইমন : কেউ কেউ আছে যারা নিজেকে ‘মানুষ’ ভাবতে পারে না। কেনো ভাবতে পারে না? এখানে দুটো ব্যাপার থাকতে পারে। প্রথমত এরা নিজেকে ‘অতিমানব’ ভাবে। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই একটা ‘অতিমানব’ ভাব বাস করে। একটা ঋষি চৈতন্য কাজ করে। কারোর মধ্যে কখনো-কখনো সেটি প্রকাশিত হয়। আবার কারোর মধ্যে সেটা অনুভূত হয়ই না। কাজেই অন্তর্মুখী কেন্দ্রিকতায় ‘অতিমানব’ ভাবার প্রবণতাটা দোষের কিছু নয়। ‘মানুষ’ ভাবছে না, ‘অতিমানব’ও ভাবছে না?তাহলে এরকম একটা দ্বান্দ্বিক অবস্থায় সে কী ভাবছে? দ্বিতীয় যে কারণটা হতে পারে, তাহলো পারিবারিক বা সামাজিক নানাবিধ বিচ্ছিন্নতার কারণে এরা নেতিবাচক ঘোরের মধ্যে থাকতে থাকতে নিজেকে ‘তুচ্ছ’ ভাবা আরম্ভ করে। পেশাগত জটিলতা, পারিবারিক জটিলতা?এসব মানুষের জন্য নতুন কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পরশ্রীকাতরতা, সামাজিক অন্যায়, অফিস পলিটিক্স?এসব মানুষকে অস্থির, হতোদ্যম, কখনো কখনো অসহায় করে তোলে। এ ধরনের মন্দা পরিস্থিতিতে কখনো কখনো এরা এক ধরনের হীনমন্যতায় ভুগে চলে। এক ধরনের হতাশা তাদের গ্রাস করছে। এই মানুষের সংখ্যা আমাদের পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রে ক্রমশঃ বাড়ছে। নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করে। একটা অন্তর্ঘাত পরিস্থিতি তৈরি করে। একটা ‘আমিত্ব’ থেকে প্লুরাজিম গেঁথে বসে। এখান থেকেই সামাজিক অপরাধপ্রবণ মানসিকতা না চাইতেই এদের ভেতর জন্ম নেয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. মোহিত কামাল বলেছেন, ‘জীবন যন্ত্রণা থেকে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বিষণ্নতায়। তার আবেগে ধস নামলে জীবনকে শূন্য মনে হয়, আশাহীনতা গ্রাস করে। এই অবস্থা যদি কোনো ব্যক্তির ১৪ দিন চলতে থাকে তবে তাকে বিষণ্নতায় আক্রান্ত বলবো। এই অবস্থা আরো ভয়াবহ বলে সেই ব্যক্তি আত্মহত্যার কথা ভাবতে থাকে।’ তাছাড়া, এরা সহজাতভাবে মেনে নেয় যে, ‘আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না’। এই যে যন্ত্রণা, এই যে খচখচানি, সারাক্ষণ তাকে মনে করিয়ে দেয়?‘অন্ধকারই আমার জীবন’। এই গুমোট পরিস্থিতিতে কোনো আলো তাকে আর ফেরাতে পারে না। ‘আমি যোগ্য না’, ‘আমি খাপ খাওয়াতে পারছি না’, এইসব ভাবনা তাকে বেশি বেশি তাড়িত করে। এই ‘তুচ্ছ’ ভাবাটা নিজেকে এতোটা ক্রিয়াশীল করে তোলে, এখান থেকে সহজে এরা স্বাভাবিক চিন্তাধারায় ফিরে আসতে পারে না। আবার যারা ফিরে আসে তাদের জন্য এই সমাজব্যবস্থা, এই রাষ্ট্রব্যবস্থা কতোটুকুবা প্রস্তুত? এটা এক ধরনের মনোরোগের লক্ষণ। শুধুই কি মনোরোগ? সমস্যার গভীরে না গিয়ে সহজভাবে তা বলে ফেলি। প্রকৃত অর্থে এটা ব্যক্তিখাতে সামাজিক-পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতা। যারা সত্যি কিছু বোঝে, তাদের কেউ কেউ এটাকে ব্যক্তির ‘দুঃখবিলাস’ বলে উপহাসসুলভ উস্কে দেয়ার মধ্যে মননে সংঘাতপূর্ণ অবস্থার দিকে নির্দেশ করে। এটা বেঠিক। ঠিকটা হচ্ছে তা মানুষের ‘শ্রেণি-বৈরিতা’র ‘অমীমাংসেয়তা’র ফল ও অভিব্যক্তি। তবে নিজেকে ছোট ভাবা, তুচ্ছ ভাবার কারণগুলো আমাদেরকে বের করতে হবে। এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয়। এ ব্যাধিটা আরো অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের ভয়াবহ দায়িত্ব হলেও ব্যক্তি পর্যায়ে এ দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। ব্যক্তিখাতে মানুষ আর মানুষের শ্রেণিগত পার্থক্য, তা এক ধরনের নিপীড়ন যন্ত্র। অধ্যাপক ড. হুমায়ূন আজাদ বলেছেন?‘মানুষ যখন তার শ্রেষ্ঠ স্বপ্নটি দেখে তখনি সে বাস করে তার শ্রেষ্ঠ সময়ে।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সৃষ্টির অধিকার প্রবন্ধে লিখেছেন?‘দিন তো যাবেই; এমনি করেই তো দিনের পর দিন গিয়েছে। কিন্তু, সব মানুষেরই ভিতরে এই একটি বেদনা রয়েছে যে, যেটা হবার সেটা হয় নি। দিন তো যাবে, কিন্তু মানুষ কেবলই বলেছে : হবে, আমার যা হবার তা আমাকে হতেই হবে, এখনো তার কিছুই হয় নি। তাই যদি না হয়ে থাকে তবে মানুষ আর কিসের মানুষ, পশুর সঙ্গে তার পার্থক্য কোথায়! পশু তার প্রাত্যহিক জীবনে তার যে-সমস্ত প্রবৃত্তি রয়েছে তাদের চরিতার্থতা সাধন করে যাচ্ছে, তার মধ্যে তো কোনো বেদনা নেই। এখনো যা হয়ে ওঠবার তা হয় নি, এ কথা তো তার কথা নয়। কিন্তু মানুষের জীবনের সমস্ত কর্মের ভিতরে ভিতরে এই বেদনাটি রয়েছে- হয় নি, যা হবার তা হয় নি। কী হয় নি। আমি যা হবো বলে পৃথিবীতে এলুম তাই যে হলুম না, সেই হবার সংকল্প যে জোর করে নিতে পারলুম না। আমার পথ আমি নেব, আমার যা হবার আমি তাই হবো, এই কথাটি জোর করে বলতে পারলুম না বলেই এই বেদনা জেগে উঠছে যে হয় নি, হয় নি, দিন আমার বৃথাই বয়ে যাচ্ছে। গাছকে পশুপক্ষীকে তো এ সংকল্প করতে হয় না, মানুষকেই এই কথা বলতে হয়েছে যে আমি হবো। যতক্ষণ পর্যন্ত এ সংকল্পকে সে দৃঢ়ভাবে ধরতে পারছে না, এই কথা সে জোর করে বলতে পারছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ পশুপক্ষী-তরুলতার সঙ্গে সমান।’ মানুষও পশুর প্রশ্নের সম্মুখিন, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই লেখার মধ্যে একটা স্পষ্ট ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কার্ল মার্কস ‘প্রাকৃতিক’ ও ‘মানবিক’ এই দুই অর্থে মানুষকে দেখেছেন। অর্থাৎ মার্কসের মানব প্রকৃতি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃতিবাদ ও মানবতাবাদের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। একদিকে মানুষ প্রকৃতির অংশ, প্রাকৃতিক সত্তা, প্রকৃতিরই সৃষ্টি, বিবর্তনের পথে সক্রিয়ভাবে পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া গঠন-পুনর্গঠনের সাথে নিজেকে গড়ে তুলেছে। এটাই তার প্রাকৃতিক সত্তা। অন্যদিকে মানুষ অনুশীলনী সত্তা (Being of Praxis) মানুষ নিজেকে গড়ছে, আবার বদলাচ্ছে, আবার প্রকৃতি থেকে নিজেকে পৃথকও করছে; একই সঙ্গে পারিপার্শ্বিক প্রকৃতিকেও বদলে ফেলছে। এভাবে সে প্রাকৃতিক শক্তিকে আরো বেশি করে তার নিয়ন্ত্রণাধীন করে এবং নতুন মানবিক পরিবেশ তৈরি করে। এই সম্পূর্ণ অবস্থাটাই মানবিক। এই দুই ক্ষেত্রেই মানুষ একটা ওতপ্রোত সম্পর্ক ও ক্রিয়ার ফল। তাই মার্কসবাদ অনুসারে মানুষ হলো, প্রাক্সিস, একটি আন্তঃক্রিয়া। প্রশ্ন হলো, মানুষের সংজ্ঞা কি? প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলেই তো মানুষের সংজ্ঞা কি? একটু খুঁজি আমরা। আমরা ভাত খাই, কথা বলি। আমরা কাজ করি। সবকিছুই তো করি। আমাদের দুটো চোখ নেই? একটা জিভ, দুটো ঠোঁট? আমাদেরকে ভালো-মন্দের পরিষ্কার দুটো পথ দেখিয়ে দেয়া হয়নি? অন্য প্রাণী বা জীবদের বেলায় হয়নি। মানুষের মতো হয়েও আমরা মানুষ নয়। কাজে এবং বোধের জায়গায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার্থক্য তো আছে। তাহলে মানুষ কারা? উইকিপিডিয়া মতে, মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স, প্রাথমিকভাবে এসএসপি হোমো স্যাপিয়েন্স) হলো–হোমিনিনা উপজাতির (অথবা মানব জাতিগোষ্ঠী) একমাত্র বিদ্যমান সদস্য, যা বানর পরিবারের অন্তর্গত হোমিনিনি গোত্রের একটি শাখা। তাদের বৈশিষ্ট্য হলো : স্থির অবস্থান এবং গতিশক্তি; অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং ভারি সরঞ্জাম ব্যবহারে সক্ষমতা; আকারে বৃহত্তর ও জটিল মস্তিষ্ক এবং সামাজিক প্রাণী। এটা হলো বিজ্ঞানের কথা। এবার আসুন, দেখি দার্শনিক অ্যারিস্টটল কী বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব’ (Man is a Rational Animal)। মানুষের এই সংজ্ঞাটি আজও ব্যাপকভাবে সমাদৃত। সেই Rationlity এবং Animality, মানুষ জন্মসূত্রেই অর্জন করে। পড়াশোনা করলে Rationlity হয়তো কমবেশি বাড়তে পারে কিন্তু Animality একেবারে কমে যাবে, এরকম আশা আমরা কখনও করতে পারি না। প্রারম্ভিক হোমিনিন-বিশেষত অস্ট্রালোপিথেসিন, যাদের মস্তিষ্ক এবং শারীরিক গঠন অনেকটা পূর্বতন অ-মানব বানরের মতো, যাদের হমো প্রজাতির হোমিনিন না বলে ‘মানব’ বলা হয়। এই হোমিনিনিদের কিছু অংশ আগুন ব্যবহার করতো, ইউরেশিয়ার অধিকাংশ স্থান তারা দখল করে নিয়েছিল এবং আফ্রিকাতে প্রায় ২০০,০০ বছর পূর্বে আধুনিক হোমো স্যাপিয়েন্সরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছিল। তারা প্রায় ৫০,০০০ বছর আগে আচরণগত আধুনিকতার প্রমাণ দিতে শুরু করেছিল। অভিবাসনের বেশ কয়েকটি তরঙ্গের মাধ্যমে মানুষ আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং বিশ্বের বেশ কিছু অঞ্চলে বসবাস করা আরম্ভ করেছিল। (সূত্র : উইকিপিডিয়া) মানুষ বলতে তা হলে কী বুঝি আমরা–নৃতাত্ত্বিক মানুষ, সামাজিক মানুষ, অর্থনৈতিক মানুষ বা কিংবা কোনো আধ্যাত্মিক পবিত্র মানুষ। তার চেতনার স্বরূপই বা কী? মার্কসের মানুষ হয়ে যায় এক উৎপাদনশীল মানুষ এবং উৎপাদনের কর্মকাণ্ড তথা শ্রমকে মানব প্রকৃতির মৌলিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন। উৎপাদনের বিষয়টিই মানুষকে সব দিক থেকে প্রভাবিত করে। মানুষের কাজের সমস্ত দিকের ওপরেই তার প্রভাব। আবার মানুষের সংজ্ঞা মানুষ নিজেই দিয়েছে, মানুষ হলো যার মধ্যে ‘মান’ এবং ‘হুঁশ’ আছে?সেই ‘মানুষ’। মান এবং হুঁশ ছাড়া তো মানুষ হতেই পারে না। যারা নিজেকে মানুষ ভাবতে পারে না, এ সংজ্ঞাটি নিশ্চয় তার বোধনে সহযোগিতা করবে। বিদ্যা বিনয় দান করে। কিন্তু বর্তমানে স্কুল, কলেজ থেকে যেসব ছেলে–মেয়ে সসম্মানে বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন ধরনের ডিগ্রি নিয়ে তাদের মধ্যে বিনয়ের পরিবর্তে অহংকার, হাম-বড়া ভাব এবং উদ্যত আচরণই আগামী ভবিষ্যত যে আমাদের আরও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে, তারই ইঙ্গিত বহন করে। শিক্ষা মানুষকে আলো দেখাবে-সঠিক পথের দিশা দেখাবে-মানুষের মধ্যে সুপ্ত সুকুমার প্রবৃত্তি জাগিয়ে তুলবে ও সৃষ্টিশীল কাজে চালিত করবে। শিক্ষা মানুষে মানুষে শ্রদ্ধা, ভক্তি, প্রেম ও ভালোবাসার কথা বলে?এক সম্প্রদায়ের প্রতি অন্য সম্প্রদায়ের প্রীতির বন্ধন অটুট করে। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের জীবন দর্শনের কথা বলে। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যে কান্না শুরু করে সে কান্না কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিখে আসে না। কিছুদিন যাওয়ার পর শিশুটি হাসতেও শুরু করে। সেই হাসিও কাউকে শেখাতে হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রত্যেক শিশু ওই গুণগুলো অর্জন করে নেয়। একটু বড়ো হওয়ার পর শিশুর পার্থিব শিক্ষা কখনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বা কখনও অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার। মনুষ্যত্ব অর্জন শুধু মানুষের জন্য। পশুর জন্য নয়। পশুর পশুত্ব অর্জনের জন্য কোনও শিক্ষার প্রয়োজন নেই। জন্মসূত্রেই পশু সেটা অর্জন করে নেয়। পশু যেকোনও পরিস্থিতিতে তার পশুত্ব হারায় না, কিন্তু মানুষ তার স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যেকোনও ধরনের পথ অবলম্বন করতে পিছপা হয় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওই প্রবন্ধে আরো বলেছেন?‘কী নিয়ে আমাদের দিনের পর দিন যাচ্ছে, প্রতিদিনের আবর্তনে কী জন্যে যে ঘুরে মরছি তার কোনো ঠিকানাই নেই। আজ যা হচ্ছে কালও তাই হচ্ছে, এক দিনের পর কেবল আর-এক দিনের পুনরাবৃত্তি চলছে : ঘানিতে জোতা হয়ে আছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি একই জায়গায়। এর মধ্যে এমন কোনো নতুন আঘাত পাচ্ছি না যাতে মনে পড়ে আমি মানুষ।’ সমাজের অসহায় নিরীহ মানুষের জীবন যাত্রার কোন নিশ্চয়তা নেই। চারিদিকে একটা অস্থিরতা। মানুষের ভিতর মানুষ একা। কেউ কারোর হতে পারছে না। দিনের পর দিন সম্পর্কের ভেতরও টানাপোড়ন চলছে। বিশ্বাসে বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ আছেন, যিনি তাঁর এলাকায় একাই বেঁচে আছেন। তাঁর গোত্রের আর কোনো সদস্য বেঁচে নেই। কত দিন ধরে তিনি একা বেঁচে আছেন? বিবিসি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, তাঁর এই একাকিত্ব ২২ বছরের! নিঃসঙ্গ বেঁচে থাকা এই মানুষটির বসবাস ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলে। বর্তমানে তিনি দেশটির রন্ডুনিয়া প্রদেশের আমাজন অঞ্চলে রয়েছেন। আমাজনে বসবাসরত স্থানীয় নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করে ব্রাজিল সরকারের ইন্ডিজেনিয়াস সংস্থা ‘ফুনাই’। সংস্থাটির দাবি, লোকটি এখনো সুস্থ আছেন। তিনি শিকার করছেন, পেঁপে ও ভুট্টা চাষ করছেন। জীবনযুদ্ধে অবিরত সংগ্রামী মানুষের চাওয়া পাওয়ার শেষ লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটা আশ্রয় যেখানে থাকবে না-কোনও দ্বন্দ্ব, সংঘাত বা কোন ভেদাভেদ। শুধু থাকবে মানুষের প্রতি মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। মান+হুশ=মানুষ। সাধারণ হিসাবে আমাদের ভেতর সেই হুশটাই আমাদের সমাজটাকে আলোকিত করুক। হয়ে উঠুক আগামী দিনে বসবাসযোগ্য রাষ্ট্রব্যবস্থা। মাদার তেরেসা বলেছেন?‘যদি তুমি মানুষকে বিচার করতে যাও তাহলে ভালবাসার সময় পাবে না।’ কার্ল মার্কস বলেছেন, ‘মানুষ মানুষের কাছে সবচেয়ে সমুন্নত জীব। তাই প্রয়োজন সেই সমস্ত সম্পর্কের শর্তহীন উচ্ছেদ যেখানে মানুষ হয়ে রয়েছে হেয়, দাসে পরিণত, বিস্মৃত ও ঘৃর্ণিত জীব।’ প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ বলেছেন?‘আলো যেমন চারপাশ আলো করে তোলে একজন পবিত্র মানুষও তার চারপাশ আলো করে তুলবেই’। তিনি আরো বলেছেন, ‘পৃথিবীতে আসার সময় প্রতিটি মানুষই একটি করে আলাদীনের প্রদীপ নিয়ে আসে–কিন্তু খুব কম মানুষই সেই প্রদীপ থেকে ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগাতে পারে।’ মানুষই পারে মানুষ হয়ে উঠতে। জগতের সব প্রাণীকুলের ভেতর শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠতে। মানুষই পারে তার ভেতরে থাকা পশুবোধটাকে উপড়ে ফেলে উচ্চতর পর্যায়ে বিলীন হয়ে যাওয়া একটি নতুন সাম্যের সমাজ গড়ে তুলতে। তাহলেই নতুন চেহারার এক ‘সুবোধের’ দরজাহাট খুলে যাবে। কেননা মানুষই পারে সমান উচ্চতায় অনেক কিছু করতে। লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ঢাকা মহানগর