মিথ্যা মামলায় কারাগারে ৭ শ্রমিক নেতা
পোস্টের তারিখঃ ০৮ এপ্রিল, ২০১৮
একতা প্রতিবেদক :
শ্রমিক ছাঁটাই, অবৈধভাবে আশিয়ানা গার্মেন্টস বন্ধ করার প্রতিবাদ ও সেখানকার শ্রমিকদের পাওনার দাবিতে বিজিএমই ঘেরাওয়ের সময় মালিকপক্ষের লোকজনের হামলার ঘটনায় তাদেরই করা মিথ্যা মামলায় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাত কেন্দ্রীয় নেতাকে কারগারে পাঠানোর নিন্দা জানিয়ে কর্মসূচি করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
গত ১ এপ্রিল ঢাকার সিএমএম কোর্টে ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করতে গেলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠায়। এর আগে তারা হাইকোর্টের দুই মাসের জামিনে ছিলেন।
পরে ৫ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ শ্রমিকনেতাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন হলেও নথি কারাগারে না পৌঁছায় এখনো মুক্তি মেলেনি গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতাদের।
মজুরির দাবিতে লড়াই করা সাত শ্রমিক নেতাকে আটকের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিদিনই কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রগতিশীল সংগঠন। একই মামলায় আশিয়ানা গার্মেন্টসের দুই শ্রমিক তিন মাস ধরে কারাগারে বন্দি।
৬ এপ্রিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির লড়াইয়ের আন্দোলন বেগবানের মাধ্যমেই শ্রমিকদের প্রতি সরকারের অন্যায় আচরণের জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিজিএমইএ’র মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃত সকল নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১০হাজার ও মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা করা, শ্রমিক নেতাদের নামে বিজিএমইএ’র মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে সিপিবি ঢাকা কমিটি আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা কমিটির সভাপতি মোসলেহউদ্দিন। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আহসান হাবিব লাবলু, সিপিবি ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সদস্য হযরত আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন সেকেন্দার হায়াত।
সমাবেশে কমরেড সেলিম আরও বলেন, আশিয়ান গার্মেন্ট কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং স্বীকৃতিও পেয়েছিল শ্রমিকরা। কিন্তু কাজ শুরুর পূর্বেই ২৬জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর প্রতিবাদে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানানো। কর্তৃপক্ষ আলোচনার কথা বলে কয়েকঘন্টা তাদের ভবনের বাইরে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখে এবং এক পর্যায়ে মাস্তানদের দিয়ে হামলা চালায় ও মুন্না ও রাসেল নামের দুই শ্রমিককে ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে বিজিএমইএ’র মামলা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, মোবাইল, ল্যাপটন চুরি ও ভবন ভাংচুরের মামলায় নেতাকর্মীদের পুলিশ হয়রানি করতে থাকে। কমরেড সেলিম বলেন, পাকিস্তান আমলে আইয়ুব-মোনায়েম নেতাকর্মীদের নামে গরু চুরি মামলাসহ নানান মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করত। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইয়ুব-মোনায়েমের প্রেতাত্মার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে তাদের ব্যাপারেও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলায় হাইকোর্ট অন্তবর্তীকালীন জামিন দিলেও নিম্ন আদালত জামিন বাতিল করে গার্মেন্ট টিইউসি’র সহ-সভাপতি সাদেকুর রহমান শামীম, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফর রহমান আকাশ ও মো. শাহজাহানকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
সেলিম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির আন্দোলন সরকার দমিয়ে রাখতে চায়। তারই অংশ হিসেবে মামলা, গ্রেফতার ও হামলা চালানো হয় শ্রমিকদের ওপর। কমরেড সেলিম বলেন, ভোটের আগে সরকার নানা ধরণের লোক দেখানোর ঘোষণা দিয়ে থাকে। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলাম একথা কখনো কোন সরকার বলেনা। সরকারের পক্ষ থেকে মাথাপিছু আয় ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা হলে ৪ জনের সংসারে বৎসরে আয় হওয়ার কথা ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে গরিব মানুষের আয়ের সাথে এর কোন মিল নেই। তিনি সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
নাগরিক সংহতি সমাবেশ: গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, কে এম মিন্টু, জালাল হাওলাদার, মঞ্জুর মঈন, লুৎফর রহমান আকাশ, মো. শাজাহানের মুক্তি এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নাগরিক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ এপ্রিল বিকাল ৫টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডা. আবু সাঈদ, পরিচালনা করেন লাকী আক্তার। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, উদীচী সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমেদ, প্রগতি লেখক সংঘের সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান হীরা, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ, অ্যাড. হাসনাত কাইয়ুম, লেখক রাখাল রাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, শ্রমিকনেতা অ্যাড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, বাচ্চু মিয়া, খালেকুজ্জামান লিপন, লেখক-প্রকাশক রবিন আহসান, যুবনেতা হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, ছাত্রনেতা লিটন নন্দী।
সমাবেশে মনজুর বলেন, হামলা-মামলা দিয়ে শ্রমিকদের মজুরির আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। অবিলম্বে জলি তালুকদারসহ শ্রমিক নেতাদের মুক্তি না দিলে লক্ষ লক্ষ গার্মেন্ট শ্রমিক যে আন্দোলন গড়ে তুলবে তা ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই। তিনি অবিলম্বে বিজিএমইএ-এর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকার ও বিজিএমইএ-এর প্রতি আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যারা কোটি কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুটপাট করছে, প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে নিজ বাসভবনে দাওয়াত করছেন। অপরদিকে শ্রমিকরা বেঁচে থাকার জন্য যে মজুরির দাবি করছে সেই আন্দোলনকে স্তিমিত করার জন্যই গার্মেন্ট শ্রমিক নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্রমাগতভাবে খর্ব করা হচ্ছে। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে ১৬ হাজার টাকা ন্যুনতম মজুরির দাবি নিয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারা যখন আন্দোলন করছেন, সেই সময়ে আন্দোলনকে দমন করার জন্য বিজিএমইএ শ্রমিকনেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। ন্যায়সংগত দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ৭ শ্রমিকনেতাকে জেলে যেতে হয়েছে। রাসেল ও মুন্না নামের আশিয়ানা গার্মেন্ট-এর ২জন শ্রমিক গত ২ মাস ধরে কারা অন্তরীণ আছে। মজুরির আন্দোলনকে দমন করতে লুটেরা মালিকরা আর সরকার একজোট হয়ে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। সরকার যেন মালিকপক্ষের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। উচ্চ আদালত শ্রমিকনেতাদের জামিন দিলেও নিম্ন আদালত তাদেরকে জেলে পাঠিয়েছে। শ্রমিক অঞ্চলে গ্রেফতার আতংক ছড়ানো হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতার-হামলা-মামলা-নির্যাতন করে জনগণের আন্দোলন দমন করা যাবে না।’
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রমিকনেতাদের মুক্তি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
শ্রমিকদের মুক্তির দাবি ডব্লিউটিইউএফ-র: গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদারসহ শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (ডব্লিউটিইউএফ), ইন্টারন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন অফ রেভ্যুলশনারি পার্টিজ অ্যান্ড অর্গানাইজেশনস (আইকর), তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি, সলিডারিটি ইন্টারন্যাশনাল, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানের নারী কাউন্সিল, জার্মানির উইমেন পলিটিকাল কাউন্সিল, পাকিস্তান লেবার ফেডারেশন (পিএলএফ)-সহ বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টি, শ্রমিক সংগঠন ও প্রগতিশীল ব্যক্তি-গোষ্ঠী।
সংগঠনগুলো বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনেও সংহতি জানিয়েছেন।
গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সমাবেশ: সমাবেশ মিথ্যা মামলায় আটককৃত গার্মেন্টস টি.ইউ.সির নেতৃবৃন্দকে নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে ৪ এপ্রিল বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ) সমাবেশ করে। সভাপতিত্ব করেন জি-স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক নইমুল আহসান জুয়েল। বক্তব্য রাখেন জি-স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল আহসান, জাতীয় শ্রমিক জোট এর কার্যকরি সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দল এর সভাপতি হাজী মে. শহিদুল ইসলাম, জাতীয় গার্মেন্টস দর্জি সুয়েটার শ্রমিক ফেডারেশন এর সভাপতি মো. রফিক, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর সহ-সভাপতি সেলিনা বেগম শেলী, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক সরদার মোহাম্মদ খোরশেদসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস টিইউসি’র কার্যকরী সভাপতি কাজী রুহুল আমিন।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সমাবেশ: গত ২ এপ্রিল গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মমূচি পালিত হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, খাইরুল মামুন মিন্টু, জালাল হাওলাদার, লুৎফর রহমান আকাশ ও মো. শাহজাহান এর মুক্তির দাবিতে সমাবেশে সংগঠনের সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির খোকনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষ, গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাড. মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল, গার্মেন্ট শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবণম হাফিজ, গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা রাজু আহম্মেদ, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল সাহা, এম এ শাহীন, জয়নাল আবেদীন ও মো. রফিকুল ইসলাম।
খিলগাঁও-বাড্ডা-রামপুরা আঞ্চলিক কমিটির তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ: ১ এপ্রিল গার্মেন্টস শ্রমিক টিইউসি খিলগাঁও-বাড্ডা-রামপুরা আঞ্চলিক কমিটি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত করে। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে আঞ্চলিক কমিটির অন্যতম নেতা হাবিব হাসিবুর রহমান রিফাত অবিলম্বে মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার এবং শ্রমিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন। তিনি বলেন, অবিলম্বে নেতাদের মুক্তি না দিলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের জন্য শ্রমিকরা প্রস্তত এবং মিথ্যা মামলা-হামলা নির্যাতন করে মজুরির আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। বরং আন্দোলন আরো বেগবান হবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ, শ্রমিক নেতা হযরত আলী এবং ছাত্র নেতা তাহসীন মল্লিকসহ প্রমুখ। বিক্ষোভ মিছিল রামপুরা আবুল হোটেল থেকে শুরু হয়ে আসিয়ানা গার্মেন্টসের সামনে শেষ হয়।
নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ: গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা জলি তালুকদারসহ ৭জন নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা।
৬ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ পূর্বে একটি মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তারা।
সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি এম.এ. শাহীনের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, কাঁচপুর অঞ্চলের নেতা আব্দুস সালাম বাবুল, বিসিক অঞ্চলের নেতা হারুন অর রশিদ রানা, কাঠেরপুল অঞ্চিলের নেতা রাকিব, হাজীগঞ্জ অঞ্চলের নেতা রাজু ও তোফাজ্জল হোসেন।
এরআগে ২ এপ্রিল বিকেলে নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চাষাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি এম.এ. শাহীন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল সাহা, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের নেতা দিলীপ দাস, কাঁচপুর অঞ্চলের নেতা আব্দুস সালাম বাবুল, রূপগঞ্জ অঞ্চলের নেতা কাজী মোতাহার হোসেন, বিসিক অঞ্চলের নেতা মোফাজ্জল হোসেন। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি’র নারাণগঞ্জ জেলার সভাপতি অঞ্জন দাস, নারায়ণগঞ্জ হকার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম আসাদ, নারায়ণগঞ্জ ডেকোরেটর ইউনিয়নের সভাপতি তপন কুমার রায় প্রমুখ।
চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল: গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধ এবং গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা?দের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে কমিউনিস্ট পার্টি। গত ৫ এপ্রিল বিকেলে নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্টি চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল নবী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাক অধ্যাপক অশোক সাহা, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অমৃত বড়ুয়া, শ্রমিক নেতা আহমেদ নূর, আবদুস সালাম বাবু, শিহাবুদ্দিন ইসলাম সাইফু প্রমুখ।
এছাড়া চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের উদ্যোগে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার সহ ৭ জন শ্রমিকনেতাকে বিজিএমইএ কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে ৩ এপ্রিল এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যানি সেনের সঞ্চালনায় মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সহ-সভাপতি সুরঞ্জন শিকদার সুইট, সহঃ সাধারণ সম্পাদক প্রীতম সাহা, সাবেক ছাত্র নেতা রবিউল হুসেন, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সদস্য নাহিদ আল মোস্তফা, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক গৌরচাঁদ ঠাকুর প্রমুখ।
এদিকে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি দিলীপ নাথের সভাপতিত্বে ৪৪, হাজারী লেইনস্থ কার্যালয়ে গত ৬ এপ্রিল বিকাল ৫ টায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক নেতা নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া, টিইউসি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাতউলাহ্ জাহিদ, গার্মেন্ট টিইউসি’র আইন ও যৌথ দরকষাকষি সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, সাগরিকা শিল্পাঞ্চলের নেতা মো. সোলেমান, কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলের নেতা মো. রিপন মিয়া, নাসিরাবাদ শিল্পাঞ্চলের নেতা মো. ইমরান। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।
ময়মনসিংহে সিপিবির বিক্ষোভ: গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদারসহ ৭ জন শ্রমিকনেতাকে বিজিএমই’র মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ২ এপ্রিল বিকালে সিপিবি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। জেলা সিপিবি সাধারণ সম্পাদক শেখ বাহার মজুমদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোকছেদুর রহমান জুয়েল এবং সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি এমদাদুল হক মিল্লাত।
দারিয়াপুরে সিপিবির বিক্ষোভ: শ্রমিক নেতাবৃন্দের মুক্তির দাবিতে গত ৩ এপ্রিল গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর বাজারে কমিউনিস্ট পার্টির বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, উপজেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক ছাদেকুল ইসলাম, জেলা নেতা তপন কুমার বর্মণ, সন্তোষ বর্মণ, জাহাঙ্গীর আলম, আসাদুল ইসলাম, বাধন প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান।