জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : জাতীয় সমস্যা
Posted: 21 মে, 2017
দীপক শীল :
দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরিব পরিবার থেকে উচ্চ শিক্ষায় আসা সর্বোচ্চ সংখ্যক ছাত্রদের আশ্রয়স্থল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে বেশি অবহেলা আর উদাসীনতার শিকার এই বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯২ সালে সেশন জট নিরসনের কথা বলে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা বলে, এর ব্যয় যত বেড়েছে ভোগান্তিও বেড়েছে তত বেশি। ২০১৪ সালের পরে সেশন জট কিছুটা কমলেও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মাণ করা হয়নি পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, পরীক্ষার হলরুম, অধিকাংশ কলেজে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষকও। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোতে প্রায় সব ডিগ্রিই প্রদান করে থাকে।
দেশের স্নাতক পর্যায়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি বেসরকারি কলেজ আছে ২২৭৪টি। এর মধ্যে ২৭৯টি সরকারি কলেজ। স্নাতক (সম্মান) পড়ানো হয় ১৮১টি সরকারি কলেজে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২৩ লক্ষ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর অতিক্রম হয়েছে। যে সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা অনেক আগেই নিরাশায় পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর অনাদরে সমস্যার স্তূপ জমতে জমতে পাহাড়সম আকার ধারণ করেছে।
এই পাহাড় ডিঙোনোর মন্ত্র খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আছে কিনা তাও ভেবে দেখা প্রয়োজন। আমরা দেখেছি একেক সময় একেক বিষয়-পদ্ধতি আরোপ করেছে। সমস্যার সূত্রপাত কোথায় তা চিহ্নিত না করে খেয়াল খুশিমত বিধি-বিধান আরোপ করায় মঙ্গলের থেকে অমঙ্গলই বেশি হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সমস্যা কী? যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে কেন তা ব্যর্থ হলো? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর যে ক’জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন সকলের নামের পাশেই নানা ধরনের অভিযোগ ও অনিয়ম উঠে এসেছে, কিন্তু হয়নি কোনো তদন্ত কিংবা বিচার।
১৯৯২ সালের পূর্বে কলেজগুলো চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই পরিচালিত হতো। সে সময় দীর্ঘ সেশনজটের খড়গ নেমে এসেছিল কলেজসমূহের শিক্ষার্থীদের ওপর। সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চরম আকার ধারণ করেছিল। সর্বোপরি মানসম্মত পাঠদানও অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ফলে নেমে গিয়েছিল শিক্ষার মান। এইসব সমস্যা নিরসনের আশ্বাস নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় প্রশ্ন উঠেছিল, চারটি বিশ্ববিদ্যালয় যখন এসব কলেজকে পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে এরকম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সেটা কীভাবে সম্ভব হবে? সম্ভব যে হয়নি তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।
উপরন্তু সেশনজটের প্রকোপ বেড়েছে। তাই পূর্ব অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন না করেই ২৫ বছর পর ‘সেশনজট নিরসন, ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন’র জন্য আবারো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালনার জন্য নিয়ে আসা হলো। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর ৭টি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসা হলো গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, আস্তে আস্তে সরকারি ১৮১টি কলেজগুলো বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যাবে সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। এই সরকারি ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে আবারো “সেশনজটের কবলে পড়েছে। ঢা.বি তাদের সকল ধরনের প্রশ্ন আটকে দিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢা.বি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীরা মাঝনদীতে পড়ে হাবুডুব খাচ্ছে। এর পূর্বে আমরা দেখেছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে সেশনজট নিরসনে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। ২০১৫-২০১৮ এই তিন বছরে দুই যুগের সৃষ্ট সেশনজট নিরসনের ঘোষণা দিয়েছে।
এই তাৎক্ষণিক সমাধান নিতে গিয়ে হিতে বিপরীত ঘটছে। ক্লাস হচ্ছে না, সিলেবাস শেষ না করেই গড়িমসি করে পরীক্ষা নিতে গিয়ে শিক্ষার মানকেই আরো ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। কলেজসমূহে সেখানে মূল সংকট হচ্ছে শিক্ষক ও ক্লাসরুমের অভাব। গ্রেডিং পদ্ধতির রুলস-রেগুলেশন অনুযায়ী বছরে ৩৬৫ দিনে ২১০ দিন ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও ক্লাস হয় মাত্র ২৫-৩০ দিন। ২৫-৩০ দিন ক্লাস হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে আমরা যখন অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা সময় বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করি। তখন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে দেখি ইডেনে সর্বোচ্চ ক্লাস হয় ২৮ দিন, আর কবি নজরুলে সর্বোচ্চ ৭-৮ দিন। এই অবস্থায় শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য তো দূরের কথা, সিলেবাসের পড়াটুকুও শেষ হয় না। সরকারি ছুটি বাদে এইচএসসি, অনার্সসহ বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার কারণে বছরের অধিকাংশ সময়ই কলেজ বন্ধ থাকে। স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নির্মাণ করে এ সমস্যার নিরসন সম্ভব হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হওয়া উচিত শিক্ষা, গবেষণা ও মানবিক জ্ঞান সৃষ্টি করা এবং মানবজাতির কল্যাণে তার বিস্তার ঘটানো। কিন্তু সে কাজ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনেকাংশে ব্যর্থ হচ্ছে। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সরকার General Agreement on trade in Services (GATS)এ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে সেবাখাতসমূহকে বেসরকারি পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে অবারিত করেছে। শিক্ষা বিনিয়োগ অধিকতর লাভজনক ও নিরাপদ। মূলত উচ্চশিক্ষাকে ঘিরে এই বাণিজ্য চলছে। আমাদের উচ্চ শিক্ষা হয়েছে মুনাফার মাধ্যম এবং ছাত্ররা এখান থেকে শিক্ষা কিনে নিতে বাধ্য হয়। আর তাই আমাদের উচ্চ শিক্ষা দিতে গিয়ে তা দিন দিন ধনীদের কুক্ষিগত হচ্ছে এবং গরিব মেধাবীরা উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হুট করে প্রাইভেটাইজেশন করা সম্ভব নয়। তাতে করে ছাত্র অসন্তোষ তৈরি হবে। তাই বিভিন্ন কৌশলে ধীরে ধীরে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার একটি হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক্রমে ইউজিসি’র ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র। ‘উচ্চ শিক্ষার ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র’ বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ইউজিসি প্রণয়ন করে ২০০৬ সালে। বিশ্বব্যাংক এই খাতে ১৪০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ছাত্র অসন্তোষের আশঙ্কাকে মাথায় রেখে কৌশলপত্রের চার পর্বে উচ্চ শিক্ষার “সংস্কার” বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে মঞ্জুরি কমিশন। প্রস্তাবিত চার পর্ব হচ্ছে, প্রাথমিক পরবর্তী ২০০৬-২০০৭, স্বল্পমেয়াদী ২০০৮-২০১৩, মধ্যমেয়াদী ২০১৪-২০১৯ ও দীর্ঘমেয়াদী ২০২০-২০২৬। কী আছে কৌশলপত্রে তা আমাদের জানা দরকার:-
মঞ্জুরি কমিশনের ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, “সরকার আগামী ২০ বছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বরাদ্দ ৯০% থেকে কমিয়ে ৭০% এ হ্রাস করার পরিকল্পনা করতে পারে। অর্থায়নের শূন্যতা পূরণের জন্য নিজস্ব অর্থের উৎস তৈরি করা উচিত। ছাত্র ঋণের নতুন প্রকল্প প্রবর্তন করতে হবে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৩টি ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মঞ্জুরি কমিশনের কৌশলপত্রে দেশি-বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের ঋণ নেওয়ার পরার্শ দেয়া হয়েছে।
কৌশলপত্রে শিক্ষাকে একটি লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়েছে। মৌলিক জ্ঞান অনুসন্ধান এবং বিজ্ঞান শিক্ষা হয়েছে উপেক্ষিত। বিজ্ঞান, কৃষি, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শনের মতো অপররিহার্য বিষয়গুলোকে উচ্চশিক্ষা থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে কৌশলে।
কৌশলপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল নির্মাণ না করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কৌশলপত্রে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।
মূলত ইউজিসি’র কৌশলপত্রের (২০০৬-২০২৬) পূর্ণ বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করে ও উচ্চশিক্ষাকে উচ্চ মূল্যের পণ্যে পরিণত করে সাধারণের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়াই আমব্রেলা ঐক্যের লক্ষ্য বললে ভুল হয় না।
এবার দেখা যাক সরকারি কলেজগুলো যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যায় তা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কতেটা লাভ হবে? যদি বলি শিক্ষার্থীরা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদপত্র পাবে। তাতে কি তার একটি চাকরির নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম হবে। নাকি শিক্ষার সংকট দূর হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে সে-ই নিজের ইচ্ছা মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের কোনো গুরুত্ব দেয়নি।
“মাথা ব্যাথা হলে মাথাটা কেটে ফেলতে হবে” এসব সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছে রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মান ও শিক্ষা সংকট দূর করতে হলে আগে কলেজগুলোর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা যদি কবি নজরুল সরকারি কলেজের চিত্র দেখি, ৩ মার্চ ২০১৭ বাংলা বিডি নিউজ২৪ অনলাইনে রিপোর্ট এসেছে- রশিদ জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তির লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ছাত্রলীগ। এ বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজটির ডিগ্রিতে ভর্তির জন্য সর্বনিম্ন তিন হাজার দু’শ দুই টাকা এবং মাস্টার্সে তিন হাজার আটশ টাকা করে ব্যাংকে জমা দেন ১১৬ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা জমা হয়নি জানিয়ে ফের শিক্ষার্থীদের টাকা পরিশোধের নোটিশ জারি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে দুইজন কর্মী ব্যাংকের ভিতরে সবসময় অবস্থান করে। তাদের বাইরে কোনোভাবেই কোনো রশিদ সংগ্রহ করা যায় না। রশিদ প্রতি ২০০-৩০০ টাকা বেশি আদায় করে তারা। এবার বাড়তি চাঁদা না নিয়ে সরাসরি রশিদ জালিয়াতি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তারা। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের এই সমস্যার সমাধান করবে কে? কলেজ প্রশাসন নাকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়? না, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিতে হবে আইনের সহায়তা। এমনই ভাবে আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রীরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে কলেজগুলো চলে গেলে তারা কি পারবে এই সমস্যার সমাধান করতে? শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট চরম। বেশিরভাগ কলেজের আবাসন ব্যবস্থা নেই। যে কয়টা ক্যাম্পাসে আছে সেগুলো আবার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন কর্তৃক দখল হয়ে আছে। এছাড়া কলেজগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চা অবরুদ্ধ। ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়াতে বিভিন্ন কলেজে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন কর্তৃক তা দখল হয়ে আছে। ছাত্রদের হাজারো সমস্যা থাকলেও এ সংগঠটির নেতাকর্মীদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। ছাত্র ইউনিয়ন এসব ইস্যুতে আন্দোলন করতে চাইলে উল্টো তাদের বিভিন্ন হামলা-হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংসের মুখে। প্রতিটি সরকার এই সত্য স্বীকার করে পুনর্গঠনের কথা বললেও উল্টো নিজেরা বিভিন্ন সমস্যা জর্জরিত করেই দায়িত্ব ছাড়েন।
তাই আমরা মনে করি, এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের একমাত্র উপায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়িত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা।
লেখক: সহ-সভাপতি, ঢাকা মহানগর সংসদ, ছাত্র ইউনিয়ন