সরকার নির্ধারিত দামে
সার পাচ্ছে না কৃষক
Posted: 20 সেপ্টেম্বর, 2026
একতা প্রতিবেদক :
সরকার নির্ধারিত দামে কৃষককে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্যে ধলতা/তোলাবাজি বন্ধে কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রকৃত কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রাজবাড়ী : গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের সামনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি পাংশা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পাংশা উপজেলা শাখার সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন। এতে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আব্দুস সামাদ মিয়া, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম বাবু, পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ও কৃষক নেতা সন্তোস দাস।
এসময় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান বুনিয়াদ কৃষি। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তি কৃষির উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ কৃষি ও কৃষক সবচাইতে নিগৃহীত। কৃষক মাঠে ফসল ফলায়। কিন্তু সেই ফসল ফলাতে সবচাইতে বেশি প্রয়োজন রাসাইনিক সার। দীর্ঘদিন ধরে সারের বাজার অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। সরকার নির্ধারিত এক কেজি ইউরিয়ার সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৭ টাকা। কিন্তু কৃষককে স্থানভেদে এই সার কিনতে হয় ৩০ থেকে ৩৩ টাকায়। এক কেজি ডিএপি সারের খুচরা মূল্য ২১ টাকা, এক কেজি টিএসপি সারের দাম ২৭ টাকা ও এক কেজি এমওপি (পটাশ) সারের সরকার নির্ধারিত দাম ২০ টাকা। কিন্তু পাংশা ও আশপাশের কোন স্থানেই সরকারি দামে সার পাওয়া যায় না। স্থানভেদে কোন কোন সার ৪৫ টাকা কেজি দরেও কিনতে হয়। কৃষক যখন দোকানে যায় তখন দোকানদাররা বলেন সারের সংকট রয়েছে। অথচ বেশি টাকা হলেই সারের আর অভাব থাকে না। সারের এই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র সারের দাম বৃদ্ধি নয়। অতিরিক্ত খরচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করা হয়। সেই ফসল বাজারে নিয়ে গেলে আবার ধলতা দিতে হয়। আন্দোলনের মুখে সরকার দলতা প্রথা বাতিল করেছে। কিন্তু হাটে বাজারে সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখনও হাটবাজারে পেঁয়াজ, রসুন, পাটসহ বিভিন্ন পণ্যের উপর ধলতা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে এই দিকে নজর দিতে হবে। কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে হলে সরকারকে এই দিকে নজর দিতে হবে। এসময় বক্তারা সরকার যে কৃষি কার্ড দিচ্ছে সেটা যেন প্রকৃত কৃষকরা পায় সে বিষয়ে নজর দেওয়ার আহবান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
গোয়ালন্দ : কৃষি বাঁচাও, কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও শ্লোগানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কৃষকদের দশ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষক সমিতি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে গোয়ালন্দ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফকির মহিউদ্দিন আনছার ক্লাব চত্ত্বরে পথসভা শেষে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ সময় আব্দুল কাদের শেখ, জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান, হাবিবুর রহমান, শাজাহান শেখ, রতন কুমারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
কাপাসিয়া : কৃষক সমিতির শাখা সভাপতি মাতাবুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের পরিচালনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার।
সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব পেশ করার পর সাধারণ সম্পাদক সংগঠনের রিপোর্ট পেশ করেন। রিপোর্টের উপর আলোচনায় করেন কৃষক নেতা মুন্তু, বাহারুল আমীন, খোকা, কামল প্রমুখ।
বক্তব্য রাখেন, লাকী আক্তার, শ্রমিক নেতা রুহুল আমীন, উদীচী কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, ছাত্র নেতা মাশরাফি প্রমুখ।
সুসঙ্গ দুর্গাপুর : বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, সুসঙ্গ দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির বাকলজোড়া ইউনিয়ন কমিটির উদ্যোগে বাকলজোড়া গ্রাম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি নেত্রকোনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কৃষক সমিতির সহ-সভাপতি আলকাছ উদ্দিন মীর, জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি আ. রাজ্জাক, বাকলজোড়া ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক শামছুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব মিয়াসহ স্থানীয় কৃষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও কৃষকরা।
সভায় কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পটুয়াখালী : বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির চতুর্দশ জাতীয় সম্মেলন সফল করার আহ্বান জানিয়ে পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ে জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মোতালেব মোল্লার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সম্পাদকের রিপোর্ট উত্থাপন করেন। সভায় গ্রাম কমিটি, ইউনিয়ন কমিটির ও উপজেলা কমিটির এবং জেলা কমিটির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সভায় ১৫ আশ্বিন থেকে ১৫ কার্তিক পর্যন্ত এক মাস সাংগঠনিক মাস হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।