চা-শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা ও গীতা রানীর মুক্তির দাবি

Posted: 20 সেপ্টেম্বর, 2026

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : চা-শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক গীতা রানী কানুর মুক্তি, ষড়যন্ত্রমূলক একাধিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং চা-শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে নাগরিক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় মৌলভীবাজারের প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া। তিনি বলেন, চা-শ্রমিক আন্দোলনে গ্রেপ্তার গীতা রানী কানুকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে, অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। একইসাথে যে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি জ্যোতিষ মোহান্তর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাসদ জেলা কমিটির সভাপতি সালেহ সোহেল, বাসদ জেলা কমিটির সদস্য আবুল হাসান, চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রর প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জেলা কমিটির নেতা জহর লাল দত্ত, যুব ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি আবু রেজা সিদ্দিকী ইমন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজ পাশি, চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিক, চা-শ্রমিক সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক বিষু প্রসাদ গোয়ালা, সদস্য আকাশ দোষাদ প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করে থাকেন চা-শ্রমিকরা। ৫ জনের একটা পরিবারের যেখানে শুধুমাত্র চালের খরচ ১০০ টাকার বেশি সেখানে মজুরি মাত্র ৯ টাকা বৃদ্ধি করে ১৯৬ টাকা নির্ধারণ চরম অমানবিক। বর্তমান বাজার মূল্যে এই স্বল্প মজুরিতে সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব। তাই চা-শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি মানবিক এবং যৌক্তিক। অবিলম্বে সরকারের উচিত চা-শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়া। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বের অন্যতম চা উৎপাদনকারী দেশ হয়েও সবচেয়ে কম মজুরি পান বাংলাদেশের চা-শ্রমিকরা। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আসাম সরকার চা-শ্রমিকদের মজুরি ৩০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। আসামের ব্রহ্মপুত্র ভ্যালির নতুন মজুরি নির্ধারিত হয় ৩৫৮ টাকা (২৮০ রূপি), বরাক উপত্যাকায় ৩৩০ টাকা (২৫৮ রূপি)। ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন কেরালায় সর্বোচ্চ ৪২১ রূপি, তামিলনাড়ুতে ৪০৬ রূপি, কর্নাটকে ৩৭৬ রূপি মজুরি পেয়ে থাকেন চা-শ্রমিকরা। এছাড়া চা-শ্রমিকরা শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৫৫০ টাকা, কেনিয়ায় ৪৮৩ টাকা দৈনিক মজুরি পেয়ে থাকেন। চা-শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি সরকার মেনে না নিলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও বক্তারা হুশিয়ারি দেন।