‘শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ করো, বৈষম্যের শেকড় উপড়ে ফেলো’

Posted: 20 সেপ্টেম্বর, 2026

একতা প্রতিবেদক : সার্বজনীন, বৈষম্যহীন একই ধারার শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দসহ ৭দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শিক্ষা অধিকার চত্ত্বরের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানিয়েছে তারা। ‘শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ করো, বৈষম্যের শেকড় উপড়ে ফেলো’ শ্লোগানে ছাত্র ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক তানজিমুর রহমান রাফির সঞ্চালনায় ও সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চলের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ, ঢাকা মহানগর সংসদের আহ্বায়ক আসিফ জামান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অন্তু অরিন্দম, ঢাকা জেলা সংসদের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রুদ্রসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা শহিদ ওয়াজিউল্লাহ, শহিদ বাবুল ও শহিদ সুন্দরকে স্মরণ করে, ৬২র শিক্ষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা তৎকালীন শরীফ শিক্ষা কমিশনের শিক্ষা সংকোচন নীতি, যার কারণে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, অর্থের বিনিময় শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবার শঙ্কা নিয়ে আলোচনা/সমালোচনা করেন। বক্তারা বর্তমানে শিক্ষা খাতে বৈষম্য ও শিক্ষার্থীদের সংকট নিয়ে অলোচনা করেন এবং তা নিরসনে আন্দোলন চালিয়ে যাবার প্রতিজ্ঞা করেন ও শিক্ষার্থীদের সে আন্দোলনে যুক্ত হবার আহ্বান জানান। সমাবেশে বক্তারা সার্বজনীন, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, গণমুখী একই ধারার শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা, শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন বেতন কাঠামো ও গ্রেডিং পদ্ধতি প্রণয়ন করা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দলীয় হস্তক্ষেপমুক্ত ও সন্ত্রাস/দখলদারিত্ব বন্ধ করা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষ ও স্বতন্ত্র পরীক্ষার হল, বিষয়ভিত্তিক গবেষণাগার নির্মাণ করা, সারাদেশে উগ্রবাদিদের হামলায় মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত স্মারক ভাস্কর্য ও শিল্পকর্ম পুনর্নির্মাণ এবং সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া অসম গোলামির বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার দাবি জানায়। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টন মোড়ে গিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করে।