অব্যাহত সীমান্ত হত্যাকাণ্ড গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ

Posted: 20 সেপ্টেম্বর, 2026

একতা প্রতিবেদক : সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুই বাংলাদেশিকে বিএসএফ কর্তৃক গুলি করে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেছেন, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই দুইজনসহ অন্তত ১,৯৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূতভাবে অব্যাহত সীমান্ত হত্যাকাণ্ড গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। বাংলাদেশ সরকারের উচিত সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং এসব হত্যাকাণ্ডে ভারত রাষ্ট্রকে জবাবদিহি ও বিএসএফ-এর বিচারের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। সীমান্তে বিএসএফ-এর হত্যাকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়ে বিএসএফকে বিচারের সম্মুখীন করার দাবিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৫টায় ঢাকার পুরানা পল্টন মোড়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জুর মঈনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগিব আহসান মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ত্রিদিব সাহা প্রমুখ। সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বৃহৎ রাষ্ট্র। ভারতের জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবসময়ই ছিল, থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বারবার ভারত রাষ্ট্রের শাসকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্যঘাটতি, সীমান্তে চোরাচালানসহ অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারত রাষ্ট্রের মদত এবং অব্যাহত সীমান্তহত্যা ও পুশইন, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং বহুমাত্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব রয়েছে। এসব দ্বন্দ্ব অবশ্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দরকষাকষি, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যবধি কোন সরকার যথেষ্ট আত্মমর্যাদার সাথে ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থগত বিষয়াবলী সুরাহার ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়নি। উপরন্তু উগ্র ডানপন্থী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ভারত প্রশ্নে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ আড়াল করতে যখন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়েছে, তাতে মদত দিয়েছে। সমাবেশে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক তখনই সত্যিকার অর্থে দ্বিপাক্ষিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, যখন সেখানে সমমর্যাদা, সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি সম্মান থাকে। এক রাষ্ট্র বড় আর অন্য রাষ্ট্র ছোট, এক রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অন্য রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে, এ ধরনের সম্পর্ককে কখনোই সমমর্যাদার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বলা যায় না। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বৃহৎ রাষ্ট্র। কিন্তু বৃহৎ রাষ্ট্র হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ কিংবা জনগণের অধিকার উপেক্ষা করার কোনো অধিকার ভারতের নেই। তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ড, পানির ন্যায্য হিস্যা, বাণিজ্য বৈষম্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমমর্যাদার ভিত্তিতে ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। যার দায়-দায়িত্ব ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ সরকারের।