কুমিল্লার রেল ক্রসিংগুলোতে পাঁচ বছরে ঝরল ৩৫৫ প্রাণ
Posted: 05 এপ্রিল, 2026
কুমিল্লা সংবাদদাতা :
কুমিল্লা অঞ্চলের রেলপথজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অরক্ষিত ও অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিংগুলো যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন হাজারো মানুষ এসব ক্রসিং ব্যবহার করছেন। গত পাঁচ বছরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে প্রাণ ঝরেছে অন্তত ৩৫৫ জনের। প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার রেলপথে ১১৬টি অরক্ষিত ক্রসিং থাকায় জননিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
বৈধ কিছু ক্রসিং থাকলেও সেগুলোর অনেকটাতেই নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা বা দায়িত্বশীল গেটম্যান। ফলে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে অধিকাংশ লেভেল ক্রসিংই এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবশেষ গত ৩০ মার্চ বিকেলে লালমাই উপজেলার দত্তপুর এলাকায় ট্রেনের সঙ্গে মোটর সাইকেলের সংঘর্ষে সুমন নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। এর আগে ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিং এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নারী-শিশুসহ ১২ জন নিহত হন এবং দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ দুর্ঘটনা নতুন করে রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে বুড়িচং উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় একটি অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সাতজন প্রাণ হারান। ২০২৩ সালে মনোহরগঞ্জ উপজেলার তুগুরিয়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় ৫ জন মারা যান। ২০২২ সালের ৯ মার্চ সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ স্কুলছাত্রী নিহত হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, লাকসাম-নোয়াখালী, লাকসাম-চাঁদপুর এবং লাকসাম-আখাউড়া রেলপথজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৈধ ও অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। লাকসাম-নোয়াখালী রুটের ৪৯ কিলোমিটারে ১৯টি বৈধ ও ৪২টি অবৈধ, লাকসাম-চাঁদপুর রুটের ৫১ কিলোমিটারে ২৩টি বৈধ ও ৩৬টি অবৈধ এবং লাকসাম-আখাউড়া রুটের ৭২ কিলোমিটারে ৩৩টি বৈধ ও ৩৮টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এসব অবৈধ ক্রসিংয়ের মধ্যে অন্তত ৩২টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত সড়কের সঙ্গে যুক্ত। বাকি ক্রসিংগুলো পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের কারণে তৈরি করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, যথাযথ সমন্বয় ছাড়াই এসব সড়ক নির্মাণের ফলে ক্রসিং ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে।