মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয়
Posted: 05 এপ্রিল, 2026
একতা প্রতিবেদক :
লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, বাহাত্তরের সংবিধান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত বা খাটো করে দেখানোর সব ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কৃষক নেতা, উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা, শিল্পীসংগ্রামী সত্যেন সেনের ১১৯ তম জন্মবার্ষিকীতে গত ২৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন বক্তারা।
‘মুক্তির সেনানীরা ছুটে আয়, মৃত্যু ও জীবনের মোহনায়’- এই শ্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে সত্যেন সেন রচিত ‘মানুষেরে ভালোবাসি এই মোর অপরাধ’ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা।
এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক মুরশিকুল ইসলাম শিমুল, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্যামল বিশ্বাস, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভুঁইয়া এবং বাংলাদেশ কৃষক সমিতির নির্বাহী সদস্য মানবেন্দ্র দেব।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, ‘একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে দেশ। স্বৈরাচারের পতন হলেও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি।’ সত্যেন সেনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর দেখানো পথে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ, মৌলবাদমুক্ত, শোষণহীন, সাম্যবাদী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আজীবন লড়াই-সংগ্রাম চালানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অমিত রঞ্জন দে।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, ‘যারা নানাভাবে নানা যুক্তি বা কুযুক্তি দিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত বা খাটো করে দেখানোর অপচেষ্টা করছেন তাদের সেই সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে উদীচী।’
উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন, ‘১৯০৭ সালের ২৮ মার্চ জন্মগ্রহণ করা সত্যেন সেন আজীবন সত্য, সুন্দর, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছেন। একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ, মৌলবাদমুক্ত, সাম্যবাদী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর সত্যেন সেন ও রণেশ দাশগুপ্তসহ বেশ কয়েকজন প্রগতিশীল মুক্ত চিন্তার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। বহু বছরের লড়াই-সংগ্রাম ও ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ গণসাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উদীচী।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যখন বাংলা ও এই ভূখণ্ডের আবহমান সংস্কৃতির উপর নতুন করে আঘাত এসেছে, যখন ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে, তখন সত্যেন সেনের আদর্শ সঠিক পথ দেখাবে। আর তাই, সত্যেন সেনের দেখানো পথে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ, মৌলবাদমুক্ত, সাম্যবাদী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আজীবন লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে উদীচী।’
আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ। অনুষ্ঠানে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। এছাড়া, একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন অরুণিমা আহমেদ প্রথমা ও অনপুম হালদার। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিখা সেন গুপ্তা ও সৈয়দা রত্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে উদীচী কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দা অনন্যা রহমান।