কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

Posted: 05 অক্টোবর, 2025

একতা বিজ্ঞান ডেস্ক : আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা জ্যোতির্বিজ্ঞানি স্টিফেন ডব্লু. হকিংস এর লেখা বই “কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”। ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে এই বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি ব্যপক জনপ্রিয়তা পান। এই বইটির বাংলা অনুবাদ করেন ভারতের শত্রুজিৎ দাশগুপ্ত। প্রথম প্রকাশনায় কার্ল সাগান বইটির ভূমিকা লিখেন। যদিও দশম প্রকাশনায় বার্ষিকীতে ভূমিকাটি লেখক নিজে নতুন করে লিখে। ১৯৯২ সালে বায়লা অনুবাদে কার্ল সাগান ভূমিকাটি পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হল। ভূমিকা বিশ্ব সম্পর্কে প্রায় কিছুমাত্রই না বুঝে আমরা দৈনন্দিন জীবন যাপন করি। যে যন্ত্র থেকে সূর্যালোক উৎপন্ন হচ্ছে এবং জীবন সম্ভব হচ্ছে, যে মহাকর্ষ আমাদের পৃথিবীয় সঙ্গে আটকে রাখে তা না হলে পৃথিবী আমাদের লাটুর যতো ঘুরিয়ে মহাবিশ্বের স্থানে (space) নিক্ষেপ করত। কিংবা যে পরমাণু দিয়ে আমরা তৈরী এবং যার স্থিরত্বের উপরে আমরা মূলগতভাবে নির্ভরশীল, সে সম্পর্কে আমরা কিছুই ভাবি না। প্রকৃতিকে আমরা যেমন দেখি, প্রকৃতি কেন তেমন হল, মহাবিশ্ব কোথেকে এল, কিংবা মহাবিশ্ব কি সব সময় এখানে ছিল, কালস্রোত কি কখনো পশ্চাদগামী হবে এবং কার্যকারণের পূর্বগামী হবে কিংবা মানুষের পক্ষে যা জানা সম্ভব তার কি একটা চরম সীমা আছে?- শিশুরা ছাড়া কেউই এ সমস্ত চিন্তায় বিশেষ কালক্ষেপ করেন না। (শিশুদের জ্ঞান এত অল্প যে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি না করে পারে না।) আবার এমন কিছু শিশুর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, যারা প্রশ্ন করেছে কৃষ্ণগহ্বর দেখতে কেমন, পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশ কি? আমরা কেন অতীতই মনে রাখি ভবিষ্যৎ কেন মনে য়াখি না? আগে বিশৃঙ্খলা (chaos) ছিল, এখন মনে হয় শৃঙ্খলা রয়েছে- এ রকম কেন হল? একটা মহাবিশ্বের অস্তিত্ব কেন রয়েছে? আমাদের সমাজে এখনো রীতি হল- বাবা মা বা শিক্ষকরা এ প্রশ্নের উত্তরে একটু ঘাড় বেঁকান। কিম্বা অস্পষ্ট ধর্মীয় ধারণার সাহায্য নেন। এ সমস্ত প্রশ্নে ফেউ কেউ অস্বস্তি বোধ করেন। তার কারণ মানুষের বোধশক্তির সীমারেখা এই সব প্রশ্নগুলি বেশ স্পষ্টভাবে ধরিয়ে দেয়। কিন্তু দর্শন এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতির অনেকটাই হয়েছে এই সমস্ত প্রশ্ন দ্বারা তাড়িত হয়ে। বয়স্কদের ভিতরে যাঁরা এই সমস্ত প্রশ্ন করতে ইচ্ছুক তাঁদের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক সময় তাঁরা কিছু আশ্চর্যজনক উত্তর পান। পরমাণু এবং তারকা থেকে সমান দূরত্বে আমাদের অবস্থন। অভিক্ষুদ্র এবং অতিবৃহৎকে নিয়ে আমাদের অনুসন্ধানের সীমারেখা আমরা বাড়িয়ে চলেছি। ১৯৭৪ সালের বসন্ত কালে, লাইকিং মহাকাশযান মঙ্গল গ্রহে অবতরণের প্রায় দু’বছর আগে আমি ইংল্যান্ডে স-নের রয়্যাল সোসাইটির উদ্যোগে আহত একটি সভায় উপস্থিত ছিলাম। সভার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবী বহির্ভুত গ্রীব অনুসন্ধান কিভাবে করা যায় সে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা। কফি খাওয়ার ফাঁকে আমি দেখলাম, পাশের হলে আরো অনেক বড় একটা সভা হচ্ছে। কৌতূহলের বশে আমি সেখানে ঢুকলাম। অচিরে বুঝতে পারলাম আমি একটা প্রাচীনরীতি দেখছি। পৃথিবীর প্রাচীনতম বিদগ্ধ জনসংগঠনগুলিয় একটি হল রয়্যাল সোসাইটি (Royal Society)। সেখানে হচ্ছে নতুন ফেলোর অভিষেক। সামনের সারিতে হুইলচেয়ারে বসে একজন তরুণ খুব ধীরে একটি খাতায় নাম সই করছিলেন। সেই খাতাব প্রথম দিকটায় হিল আইজাক নিউটনের স্বাক্ষর। স্বাক্ষর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বিরাটভাবে অভিনন্দিত করা হল। এমন কি তখনও স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) ছিলেন একজন প্রবাদ পুরুষ। হকিং এখন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত শাস্ত্রের লুকেসিয়ান অধ্যাপক (Lucasian Professor)। এক সময় নিউটন ছিলেন এই পদের অধিকারী। এবং পরে এ পদে ছিলেন পি. এ. এম. ডিয়াক (P.A.M. Dirac)। এঁয়া দুজনে ছিলেন অতিবৃহৎ এবং অতিক্ষুদ্র নিয়ে বিখ্যাত গবেষক। হকিং তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরি। এঁর এই প্রথম বই থেকে সাধারণ পাঠক অনেক কিছুই পাবেন। এ বইয়ের বিরাট ব্যাপকত্ব যেমন আকর্ষণীয়, তেমন আকর্ষণীয় লেখকের মানসিক ক্রিয়া সম্পর্কীয় আভাস। পদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, মহাবিশ্বতত্ত্ব (ঈড়ংসড়ষড়মু) এবং সাহসের সীমান্ত এ বইয়ে সহজভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এ বইটা ঈশ্বর সম্পর্কেও বটে। হয়তো ঈশ্বরের অনস্তিত্ব সম্পর্কে। এর পাতায় পাতায় ঈশ্বর রয়েছেন। আইনস্টাইনের বিখ্যাত প্রশ্ন ছিল, মহাবিশ্ব সৃষ্টি করার সময় ঈশ্বরের কি অন্যরকম কিছু করার সম্ভাবনা ছিল? হকিং এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। হকিং “স্পষ্টই বলছেন তিনি ইশ্বরের মন বুঝতে চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় তিনি এ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্তে এসেছেন, সে সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত: এই মহাবিশ্বের স্থানে কোনো কিনারা (বফমব) নেই, কালে কোনো শুরু কিম্বা শেষ নেই এবং স্রষ্টার করার মতো কিছু নেই। কার্ল সাগান, কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয় ইথাকা, নিউইয়র্ক