সিপিবির ত্রয়োদশ কংগ্রেসে বিভিন্ন দেশের
কমিউনিস্ট পার্টির পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা
Posted: 05 অক্টোবর, 2025
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ১৩তম কংগ্রেস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে
শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছে। একতার পাঠকদের জন্য সেগুলি তুলে ধরা হল-
ফিলিস্তিনের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রিয় কমরেডগণ,
বিপ্লবী ও ভ্রাতৃসুলভ শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
ফিলিস্তিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং আমাদের সকল কমরেড ও সংগ্রামী কর্মীদের পক্ষ থেকে আমরা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ১৩তম কংগ্রেস উপলক্ষে জানাই আন্তরিক ও ভ্রাতৃসুলভ অভিনন্দন। এই কংগ্রেস এমন এক সংকটময় সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য তাদের ন্যায্য সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে।
আমাদের পার্টি গভীর মনোযোগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য ও দেশীয় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিমালা রক্ষায় আপনারা ধারাবাহিক লড়াই-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করে চলেছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আপনাদের এই কংগ্রেস বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সংগ্রামী পথকে আরও অগ্রসর করবে, শ্রমিক শ্রেণি ও পরিশ্রমী জনগণের ঐক্যকে সুদৃঢ় করবে এবং বুর্জোয়া শক্তির আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শ- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গণতান্ত্রিক বাম বিকল্প গঠনের পথ প্রশস্ত করবে।
কমরেডগণ,
ফিলিস্তিনে আমাদের জনগণ গত দুই বছর ধরে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা উপত্যকায় আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে জায়নবাদী রাষ্ট্র যে গণহত্যামূলক যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধনের যে সুসংগঠিত নীতি অনুসরণ করছে, তা সবই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্রদের সীমাহীন সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের অভিন্ন সংগ্রাম এই সত্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে সাম্রাজ্যবাদ, জায়নবাদ এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো আমাদের জনগণের জন্য এক অভিন্ন বিপদ সৃষ্টি করেছে, এবং এর একমাত্র জবাব হলো মার্কসবাদ-লেনিনবাদের নীতিতে অটল থাকা এবং শ্রমিক শ্রেণি ও সংগ্রামী জনগণের আন্তর্জাতিকতাবাদী সংহতি আরও জোরদার করা।
প্রিয় কমরেডগণ,
আমরা যখন আপনাদের বীরোচিত সংগ্রামকে স্যালুট জানাচ্ছি, তখন আমরা জোর দিয়ে বলছি সাম্রাজ্যবাদী, জায়নবাদী এবং ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের মোকাবিলায় আমাদের কমিউনিস্ট ও শ্রমিক পার্টিগুলোর মধ্যে সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদী সংহতি আরও শক্তিশালী করা এখন অতীব জরুরি। আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এই ১৩তম কংগ্রেস জনগণের ন্যায়সঙ্গত ও সুন্দর ভবিষ্যতের সংগ্রামকে নেতৃত্বদানে পার্টির ভূমিকাকে আরও সুদৃঢ় করার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে।
সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদ দীর্ঘজীবী হোক, বাংলাদেশের জনগণের বীরোচিত সংগ্রাম দীর্ঘজীবী হোক, শহীদের আত্মত্যাগ গৌরন্বিত হোক, সংগ্রামী মানুষের জয় হোক!
বহিঃসম্পর্ক কমিটি
ফিলিস্তিনের কমিউনিস্ট পার্টি
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই)
প্রিয় কমরেডগণ,
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) পক্ষ থেকে আমরা আগামী ৯-২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ত্রয়োদশ কংগ্রেসে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ, প্রতিনিধি এবং সদস্যদের জানাই আন্তরিক ও বিপ্লবী শুভেচ্ছা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা এবং সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বহন করছে। দুর্নীতিগ্রস্ত ও দমনমূলক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে সিপিবির ধারাবাহিক ও ইতিবাচক ভূমিকা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অর্থাৎ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের পক্ষে আপনাদের সংগ্রামে আমরা সংহতি জানাই।
আমরা আরও লক্ষ্য করছি যে, সিপিবি ধারাবাহিকভাবে নব্যউদারতাবাদী নীতি, মৌলবাদী শক্তি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্রদের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখা এবং শ্রমিক-কৃষক শ্রেণিকে একটি বামপন্থী গণতান্ত্রিক বিকল্পের পক্ষে সংগঠিত করার যে সংগ্রাম আপনারা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বিশ্বের ভ্রাতৃপ্রতীম পার্টিগুলোর জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
বর্তমান সময়ে, যখন সাম্রাজ্যবাদ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও আদর্শিক সব ক্ষেত্রেই আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে, তখন কমিউনিস্ট ও শ্রমিকশ্রেণির পার্টিগুলোর ঐক্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের এই কংগ্রেস সিপিবির আদর্শিক স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সুদৃঢ় করবে- যা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে অগ্রসর করবে।
একই সঙ্গে, বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম এবং সম্প্রতি নেপালের জনগণের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা আবারও প্রমাণ করে যে সার্কভুক্ত অঞ্চলের কমিউনিস্ট ও শ্রমিক পার্টিগুলোর মধ্যে আরও দৃঢ় সহযোগিতা ও সমন্বয় অপরিহার্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো স্বৈরাচারের উত্থান, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির দাপট, নব্যউদারতাবাদী লুণ্ঠন এবং সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপসহ প্রায় একই ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। দক্ষিণ এশিয়ার বামপন্থী শক্তিগুলোর বৃহত্তর ঐক্য ও যৌথ উদ্যোগ গণতন্ত্র রক্ষা, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রামকে অগ্রসর করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সিপিআই এই দৃষ্টিভঙ্গি দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এই আঞ্চলিক সংহতির লক্ষ্যে আপনাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়।
বাংলাদেশের জনগণ এবং সিপিবির গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সিপিআই দৃঢ় সংহতি জানাচ্ছে। আমরা আশা করি, সিপিবির ১৩তম কংগ্রেস সংগ্রামের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে সফল হবে এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।
সিপিআই-সিপিবি সংহতি দীর্ঘজীবী হোক!
আন্তর্জাতিক শ্রমিকশ্রেণির ঐক্য দীর্ঘজীবী হোক!
সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা ধ্বংস হোক!
সমাজতন্ত্রের লড়াই অগ্রসর হোক!
শুভেচ্ছাসহ,
ডি. রাজা
সাধারণ সম্পাদক
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)
পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এবং তাদের আসন্ন কংগ্রেসের সকল প্রতিনিধি সদস্যদের প্রতি পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।
আমরা ইতিহাসের এক পর্যায়ে একসঙ্গে সংগ্রাম করেছি, এবং সেই অভিন্ন ইতিহাসের অংশ হিসেবে আমরা মনে করি-আপনাদের পার্টির এই গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস আমাদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ; এটি আমাদের দুই দেশের শ্রমিকশ্রেণির জন্যও এক বিশেষ মুহূর্ত। বহু বছর ধরে আমাদের দুই দেশের সরকারগুলোর মধ্যে নানা মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের জনগণ, শ্রমিকশ্রেণি এবং আমরা কমিউনিস্টরা অতীতে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, বর্তমানে আছি এবং ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকব-আমাদের জনগণের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সংগ্রামে লড়াই চালিয়ে যেতে।
আপনাদের এই কংগ্রেস এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন এ অঞ্চলের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদী শোষণ জনগণের ও শ্রমিকশ্রেণির উপর ভারী বোঝা হয়ে চেপে বসেছে।
আমরা বিশ্বাস করি, আপনাদের কংগ্রেসের আলোচনাগুলো শুধু শ্রমিকশ্রেণির জন্যই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামকে অগ্রসর করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।
আমরা বিশ্বাস করি, এই কংগ্রেস শ্রমিকশ্রেণি ও কৃষকশ্রেণির মধ্যে ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এবং শোষণ ও নিপীড়নের সব রূপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন উদ্দীপনা ও দৃঢ় সংকল্প জোগাবে। আপনাদের কংগ্রেস বাংলাদেশের জন্য এক বিপ্লবী অগ্রগতির এবং আরও উন্নয়নের কর্মসূচি গ্রহণ করবে-এমন প্রত্যাশা আমাদের।
পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি আবারও আপনাদের এই ঐতিহাসিক কংগ্রেসের মুহূর্তে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছে এবং বিশ্বাস প্রকাশ করছে যে আমাদের দুই পার্টির মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতেও আরও বিকশিত হবে।
মার্কসবাদ-লেনিনবাদ দীর্ঘজীবী হোক!
সর্বহারার আন্তর্জাতিক সংহতি দীর্ঘজীবী হোক!
শুভেচ্ছাসহ,
কেন্দ্রীয় কমিটি
পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি
জাপানের কমিউনিস্ট পার্টি
প্রিয় কমরেডগণ,
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ১৩তম কংগ্রেস উপলক্ষে জাপানের কমিউনিস্ট পার্টি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছে। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনাদের এই কংগ্রেস সমাজের বিস্তৃত পরিসরের জনগণের জীবন-জীবিকার সংকট উত্তরণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং গণতন্ত্র অগ্রসরণের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বয়ে আনবে।
বিশ্বব্যাপী কিছু রাষ্ট্রের শক্তির রাজনীতি আজও আগ্রাসীভাবে চলমান থাকলেও, আমরা জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সংলাপ ও সহযোগিতা উন্নীত করতে দৃঢ় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, জাপানের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে বন্ধুত্ব ও সংহতির সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূল ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টায় আমরা আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারব।
ওগাতা ইয়াসুও
সহ-সভাপতি, নির্বাহী কমিটি
সভাপতি, আন্তর্জাতিক কমিশন
কেন্দ্রীয় কমিটি, জাপানের কমিউনিস্ট পার্টি
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)
প্রিয় কমরেডগণ,
আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আগামী ১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর তাদের ১৩তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগ সিপিবিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সিপিবি জাতীয় উন্নয়ন, জনগণের জীবিকা ও সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য এবং সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে অবিচলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক সংকটপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিতব্য এই ১৩তম কংগ্রেস সিপিবির জন্য এক নতুন রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
বিগত বছরগুলোতে সিপিসি ও সিপিবি এবং বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আমাদের সর্বস্তরের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতাকে ইতিবাচক অবদান রেখেছে। এ বছর আমাদের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি। এই তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে সিপিসি পুনরায় প্রতিশ্রুতি জানাচ্ছে যে, সিপিবি এবং বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে, পারস্পরিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ অবস্থান বিস্তৃত করার ভিত্তিতে নতুন ধরনের দল-ভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে, এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক শিক্ষা আরও জোরদার করবে-যাতে চীন-বাংলাদেশ সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে নতুন অবদান রাখা যায়।
আমরা সিপিবির আসন্ন কংগ্রেসের পূর্ণ সফলতা কামনা করি!
আন্তর্জাতিক বিভাগ
কেন্দ্রীয় কমিটি
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)
ব্রাজিলের কমিউনিস্ট পার্টির (পিসিডওবি)
প্রিয় কমরেডগণ,
ব্রাজিলের কমিউনিস্ট পার্টির (পিসিডওবি) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আমরা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ১৩তম কংগ্রেস উপলক্ষে জানাই আন্তরিক ও উষ্ণ অভিনন্দন। আমরা আশা করি এই কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং সমৃদ্ধ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হবে যা বাংলাদেশের সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক ভবিষ্যতের সংগ্রামে সিপিবির ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্টদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এক আলোকবর্তিকা, যা গণতান্ত্রিক অধিকার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো এক জনপ্রিয় ও প্রগতিশীল সরকার গঠনের সংগ্রামের পথকে আলোকিত করে। যার পক্ষে সিপিবি ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম করে চলেছে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সিপিবির এই ১৩তম কংগ্রেস তাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, সাংগঠনিক ঐক্য এবং বাংলাদেশের শ্রমিক ও গণআন্দোলনের সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিশ্বজুড়ে চরম দক্ষিণপন্থার অগ্রযাত্রার প্রেক্ষাপটে প্রতিটি দেশে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামকে শক্তিশালী করা এখন অত্যন্ত জরুরি-বিশ্বশান্তি, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সমাজতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে।
ব্রাজিলের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক!
সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদ দীর্ঘজীবী হোক !
আনা প্রেসতেস
আন্তর্জাতিক সম্পাদক
ব্রাজিলের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি
গ্রিসের কমিউনিস্ট পার্টি
কমরেডগণ,
গ্রিসের কমিউনিস্ট পার্টি (কে.কে.ই)-এর পক্ষ থেকে আপনাদের ১৩তম কংগ্রেস সফলতা কামনা করে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা জানি যে, এই কংগ্রেস বাংলাদেশের কমিউনিস্টদের জন্য এক জটিল পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কে.কে.ই এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট ও শ্রমিক পার্টিগুলোর বৈঠকের কাঠামোর মধ্যেও একসঙ্গে কাজ করেছি। গ্রিসে বর্তমানে হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক বসবাস করছেন, এই বাস্তবতায় আমাদের দুই পার্টির মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সুদৃঢ় করে।
কে.কে.ই সবসময় আমাদের দেশে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পক্ষে দৃঢ় ভাবে অবস্থান নিয়েছে, কারণ তারা শ্রমজীবী শ্রেণির সবচেয়ে শোষিত অংশগুলোর একটি। গ্রিসের শ্রমিক আন্দোলনে কমিউনিস্টরা সংগ্রাম করে যাচ্ছেন যেন অভিবাসী শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, যাতে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও বড় কর্পোরেট মালিকদের বিভাজনমূলক নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়। আমরা চাই অভিবাসী শ্রমিকরা তাদের গ্রিক সহকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথ দরকষাকষি চুক্তি, মানবিক কাজের পরিবেশ, বেতন বৃদ্ধি এবং আধুনিক চাহিদার ভিত্তিতে সামাজিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অংশগ্রহণ করুক-যা গ্রিসের সরকারগুলোর শ্রমবিরোধী আইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শ্রমবিরোধী নির্দেশনার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, কারণ এসব নীতি গ্রিক ও অভিবাসী শ্রমিকদের আবার মধ্যযুগীয় অবস্থায় ঠেলে দিতে চায়।
প্রিয় কমরেডগণ,
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আজ বিশ্ববাসীর জন্য এক অত্যন্ত বিপজ্জনক চিত্র তুলে ধরছে। আমরা লক্ষ্য করছি, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতার তীব্রতা, এবং পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি-এসবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পুঁজিবাদী, উদারবাদী ও সমাজ-গণতান্ত্রিক দলগুলোর জনগণবিরোধী নীতিমালা। এগুলো প্রমাণ করছে যে পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, শ্রেণি শোষণ ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে-যা বিশ্ববাসীর দুর্ভোগের মূল কারণ। এটি প্রমাণ করে যে নতুন এক সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের সংগ্রাম আজ অপরিহার্য ও যুগোপযোগী।
এই জটিল আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, কে.কে.ই গ্রিসে নিউ ডেমোক্রেসি সরকারের এবং অন্যান্য পুঁজিবাদী দলগুলোর জনগণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে তীব্র শ্রেণি সংগ্রাম চালাচ্ছে। আমরা পুঁজিপতিদের শ্রেণি ও তাদের ক্ষমতার বিরুদ্ধে, এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ন্যাটো ও ইইউ-র সাম্রাজ্যবাদী জোটের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করছি।
কে.কে.ই আমাদের দেশে জনআন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে সেই সব সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়ছে, যেগুলো বাজার ও প্রাকৃতিক সম্পদের পুনর্বণ্টনের জন্য চালানো হয়, এবং মার্কিন ও ন্যাটো সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধেও আমরা সংগ্রাম করছি। আমরা চাই আমাদের দেশ যেন এসব যুদ্ধের গণহত্যার কসাইখানায় জড়িয়ে না পড়ে এবং ন্যাটো ও ইইউর সাম্রাজ্যবাদী জোট থেকে বেরিয়ে আসে-যাতে দেশের মালিকানা জনগণের হাতে থাকে।
আমরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের জনগণের পাশে আছি-যারা সমাজতন্ত্রের অধীনে ৭০ বছর ধরে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলেছিলেন এবং আজ সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে রক্ত ঝরাচ্ছেন।
আমরা প্রতিদিন বহু উদ্যোগ নিই বীর ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন করার জন্য-যাদের ১৯৬৭ সালের সীমানার মধ্যে, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের সেই সব জনগণেরও পাশে আছি, যারা ইসরায়েলি দখলদার রাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আগ্রাসন ও হামলার শিকার। আমরা গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানাই, এবং লেবানন ও সিরিয়ায় সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ বন্ধেরও দাবি জানাই। আমরা তুলে ধরি যে, ইসরায়েলি দখলদার রাষ্ট্রকে সমর্থন করার জন্য গ্রিস সরকারের ও পুঁজিবাদী দলগুলোর অপরাধমূলক দায় রয়েছে।
বিশ শতকের ইতিহাস এবং একবিংশ শতকের প্রথম কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যে, শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা-তা উদারপন্থী হোক, সমাজ-গণতান্ত্রিক হোক বা অন্য কোনো রূপের হোক-শ্রমজীবী জনগণের, দরিদ্র কৃষক ও স্বনিয়োজিতদের তীব্র সংকটসমূহ সমাধান করতে পারে না। আমাদের প্রোগ্রামগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, এর একমাত্র সমাধান হলো শ্রমিক আন্দোলনের পুনর্গঠন এবং শ্রমজীবী শ্রেণি ও জনপ্রিয় স্তরের মধ্যে একটি সামাজিক জোট গঠন-যা পুঁজিবাদ ও একচেটিয়া পুঁজির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে। এর মাধ্যমেই জনগণের স্বার্থে একমাত্র সমাধান-পুঁজিবাদী বর্বরতার পতন ও একটি নতুন সমাজতান্ত্রিক-কমিউনিস্ট সমাজ নির্মাণ-সম্ভব।
আমরা জানি, আজকের কমিউনিস্ট আন্দোলনের সামনে বহু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজন ঘটনার বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও অভিজ্ঞতার বিনিময়, এবং যৌথ কার্যক্রম ও বিপ্লবী কৌশল বিকাশের।
এই চিন্তা মাথায় রেখে আমরা আবারও আপনাদের কংগ্রেসের কাজের সাফল্য এবং সংগ্রামে অগ্রগতির জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
কমরেডসুলভ অভিনন্দনসহ,
গ্রিসের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএ)
প্রিয় কমরেড,
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর ১৩তম কংগ্রেস উপলক্ষে আমরা, অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএ), আন্তরিক অভিবাদন ও বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আমরা আশা করি, এই কংগ্রেস সফলতা অর্জন করবে এবং শ্রমিকশ্রেণির মুক্তির সংগ্রামে আপনার পার্টিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।
আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আপনাদের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে। আরো শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি বাংলাদেশের প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোর ধারাবাহিক নেতৃত্বদানের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে।
আপনারা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নব্যউদারবাদী দুর্নীতি ও পুঁজিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থানে বীরোচিত ভূমিকা রেখেছেন, তার প্রেক্ষাপটে এই ১৩তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই অস্থিরতা ও পরিবর্তনের সময়ে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সংগ্রামে সিপিবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আমাদের বর্তমান সংগ্রামের একটি যৌথ দিক হলো দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যুদ্ধের দামামা আরও তীব্র করছে এবং শান্তির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। এটি অবশ্যই রুখে দিতে হবে।
আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি যে, শ্রমিকশক্তির অধিকার ও মার্কস, এঙ্গেলস এবং লেনিনের বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার বাস্তব প্রয়োগের সংগ্রামে আমাদের দুই পার্টির মধ্যে সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও মজবুত হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রিয় কমরেডদের প্রতি সমর্থন ও সংহতি রইল!
সর্বহারার আন্তর্জাতিকতাবাদ দীর্ঘজীবী হোক !
বিপ্লবী শুভেচ্ছাসহ,
অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএ)
শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএসএল)
শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ১৩তম কংগ্রেস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
আপনাদের এই কংগ্রেস এমন এক সংকটময় সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থা, গণতান্ত্রিক অধিকার দমন, এবং প্রতিক্রিয়াশীল ও মৌলবাদী শক্তির ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেম, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিসমূহের ধারাবাহিক প্রতিরক্ষায় সিপিবির অবিচল অবস্থান বাংলাদেশের অগ্রগামী শক্তিসমূহের জন্য এক আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
আমরা সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সিপিবি-এর ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্রদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছি। বাংলাদেশের জন্য একটি বামপন্থী গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার সংগ্রাম কেবল আপনাদের জনগণের জন্য নয়, বরং আমাদের সমগ্র অঞ্চলে শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সংগ্রামে সিপিএসএল দৃঢ় ভাবে আপনাদের পাশে রয়েছে এবং আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি যে আপনাদের ১৩তম কংগ্রেস শ্রমিকশ্রেণির ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সমাজতন্ত্রের সংগ্রামকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘজীবী হোক!
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকশ্রেণির সংহতি দীর্ঘজীবী হোক!
সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদ দীর্ঘজীবী হোক!
ভ্রাতৃসুলভ শুভেচ্ছাসহ,
ড. জি. উইরাসিংহে
সাধারণ সম্পাদক